'দ্বিচারিতা-আপস নয়!' মালয়েশিয়া থেকে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে হুঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মোদীর
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংযোগ, সেমিকন্ডাক্টর এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখবে।
মালয়েশিয়া থেকে নাম না করে ফের পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের মতো হুমকি মোকাবিলায় কোনও নির্দিষ্ট মানদণ্ড থাকতে পারে না। এই হুমকির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের জন্য বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঘোষণার মধ্যেই দু’দিনের সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কুয়ালালামপুরে পৌঁছে রাজকীয় অভ্যর্থনা পান প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৬ সালে এটিই তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী মোদীকে। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের সম্মানে আয়োজন করা হয় বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।এরপর রবিবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারত কোনও দ্বিচারিতা, আপস করে না। এদিন কুয়ালালামপুরের পেরদানা পুত্র ভবনে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয় এবং তাঁকে গার্ড অফ অনারও দেওয়া হয়।
দুই নেতার মধ্যে আলোচনার পর, ভারত ও মালয়েশিয়া বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক বা মউ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংযোগ, সেমিকন্ডাক্টর এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখবে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ভারত আগামীদিনে মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা-সহ প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করবে। তাঁর কথায়, 'এআই এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির পাশাপাশি, আমরা সেমিকন্ডাক্টর, স্বাস্থ্য এবং খাদ্য নিরাপত্তায় অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাব।' তিনি আরও বলেন, কুয়ালালামপুর এবং নয়া দিল্লির সমৃদ্ধি একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ভারত ও মালয়েশিয়া দুই প্রতিবেশী বন্ধু। ভারত ও মালয়েশিয়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রতিবেশী, এবং বিশ্বব্যাপী অস্থিতিশীলতার মধ্যে তাদের সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চ কাজে লাগানো উচিত। তাঁর দুই দিনের সফরের মূল বার্তা হল ভারত ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য সকল ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, মালয়েশিয়ায় প্রায় ত্রিশ লক্ষ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ বাস করেন, যারা দুই দেশের মধ্যে একটি জীবন্ত সেতু তৈরি করে এই বন্ধনকে আরও মজবুত করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী তার বক্তব্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ান নেশনস অ্যাসোসিয়েশন (আসিয়ান)-এর সফল সভাপতিত্বের জন্য প্রধানমন্ত্রী ইব্রাহিমকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, 'কুয়ালালামপুরের সহযোগিতায় এই প্ল্যাটফর্ম আরও শক্তিশালী হবে। সেই সঙ্গে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিশ্বের প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।' তিনি জানান, ভারত আসিয়ানের সঙ্গে অংশীদারিত্বে এই অঞ্চলজুড়ে উন্নয়ন, শান্তি এবং স্থিতিশীলতার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, 'আজ, কৃষি ও উৎপাদন থেকে শুরু করে পরিষ্কার শক্তি এবং সেমিকন্ডাক্টর পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে। দক্ষতা উন্নয়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও আমরা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। আমাদের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতাও ক্রমাগত শক্তিশালী হচ্ছে।'
E-Paper











