'ভগবত গীতা...,' অভিনেতা-রাজনীতিবিদের বক্তব্যে তুঙ্গে তরজা, সম্মুখ সমরে BJP-কংগ্রেস
অন্ধ্রপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে তীব্র আপত্তি তুলেছে কংগ্রেস।
কর্ণাটকের উদুপির শ্রীকৃষ্ণ মঠ থেকে জাতীয় রাজনীতিতে এক মন্তব্যে তীব্র বিতর্কের আগুন জ্বালালেন অন্ধ্রপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা জনসেনা পার্টির প্রধান পবন কল্যাণ। গীতা ও ভারতের সংবিধানকে একসূত্রে বেঁধে তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। ইতিমধ্যে পবনের তীব্র সমালোচনা করেছে কংগ্রেস।

পবন কল্যাণের বক্তব্য ও সমালোচনা
উদুপিতে শ্রীকৃষ্ণ মঠে আয়োজিত 'গীতা উৎসব'-এর মঞ্চে দাঁড়িয়ে পবন কল্যাণ বলেন, 'ধর্ম আর সংবিধান আলাদা কিছু নয় দুটোই এক।' এখনই শেষ নয়, আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি বলেন, গীতা যেন ভারতের 'মূল হাতে লেখা সংবিধান।' তাঁর ব্যাখ্যা, গীতার নৈতিক দর্শনই ভারতের সমাজভাবনার ভিত্তি। পবন কল্যাণ তাঁর বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে স্মরণ করান সংবিধানের একটি চিত্রের কথা যেখানে অর্জুনকে গীতা উপদেশ দিচ্ছেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। তাঁর দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবেই এই চিত্র নির্দেশমূলক নীতির ওপর স্থাপন করা হয়েছে, কারণ তা ভারতের নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। তাঁর কথায়, 'ধর্ম নৈতিক দিকনির্দেশ, সংবিধান আইনি পথনির্দেশ দুটোর লক্ষ্যই ন্যায় ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ।' অন্যদিকে, অন্ধ্রপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে তীব্র আপত্তি তুলেছে কংগ্রেস। দলের বর্ষীয়ান নেতা বি কে হরিপ্রসাদ কটাক্ষ করে বলেন, 'যাঁরা সংবিধান বোঝেন না, তাঁরাই এমন কথা বলেন।' তাঁর স্পষ্ট বার্তা, 'ভারতের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ, সেখানে ধর্মের কোনও জায়গা নেই।'
কর্ণাটকের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গেও একই সুরে সমালোচনা করে বলেন, পবন কল্যাণ আইন ও ধর্ম দুটোই যথাযথভাবে বোঝেন না। তাঁর মতে, 'সংবিধান ও ধর্ম কখনও এক হতে পারে না।' এদিকে, পবন কল্যাণের এনডিএ শরিক বিজেপি তাঁর পাশেই দাঁড়িয়েছে। বিজেপি নেতা মহেশ তেঙ্গিনকাইয়ের বক্তব্য, 'পবন যা বলেছেন, তা ঠিক। নীতির স্তরে সংবিধান ও ধর্মের মূল ভাবনা এক।'












