মালয়েশিয়ায় নেতাজি-স্মরণ! INA যোদ্ধার থেকে ইতিহাসের পাঠ প্রধানমন্ত্রী মোদীর
মালয়েশিয়া ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সঙ্গী। সে দেশে প্রায় ২৯ লক্ষ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ থাকেন- যা সংখ্যার বিচারে বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম ভারতীয় প্রবাসী জনসংখ্যা।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দু’দিনের মালয়েশিয়া সফরের শেষে রবিবার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী থাকল কুয়ালালামপুর। সফরের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ায় সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করলেন ভারতমাতার এক অমর সন্তান নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে। তবে এই স্মরণ কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ ছিল না; তিনি দেখা করলেন আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রবীণ সদস্য জয়রাজ রাজা রাওয়ের সঙ্গে। শতায়ু ছুঁইছুঁই এই বিপ্লবীর অভিজ্ঞতা শুনে প্রধানমন্ত্রী নিজেকে ‘অনুপ্রাণিত’ ও ‘সৌভাগ্যবান’ বলে অভিহিত করেছেন।

জয়রাজ রাজা রাও ছিলেন নেতাজির ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির অন্যতম সদস্য। রবিবার তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই উত্তাল দিনগুলিতে আইএনএ-র সদস্য হিসেবে জয়রাজ রাজা রাও কীভাবে লড়াই করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে সেই স্মৃতির ঝাঁপি উজাড় করে দেন তিনি। তাঁর মুখে নানা ঘটনার অভিজ্ঞতা শুনে গভীর আপ্লুত হন প্রধানমন্ত্রী। পরে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ তাঁদের সাক্ষাতের ছবি শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী মোদী লেখেন, 'আইএনএ-র প্রবীণ সৈনিক শ্রী জয়রাজ রাজা রাও-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ আমার জন্য সৌভাগ্যের। তাঁর জীবন অসীম সাহস, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের প্রতীক। তাঁর অভিজ্ঞতা শুনে আমি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত।' প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ কেবল জয়রাজ রাজা রাও পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকেনি। তিনি দেখা করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং আজাদ হিন্দ বাহিনীর সকল মুক্তিযোদ্ধাকে। তাঁর কথায়, 'নেতাজি এবং আজাদ হিন্দ বাহিনীর প্রতিটি যোদ্ধার কাছে ভারত চিরঋণী। তাঁদের সাহস ও আত্মত্যাগ ভারতের ভবিষ্যৎ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।'
মালয়েশিয়া ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সঙ্গী। সে দেশে প্রায় ২৯ লক্ষ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ থাকেন- যা সংখ্যার বিচারে বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম ভারতীয় প্রবাসী জনসংখ্যা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আসিয়ান গোষ্ঠীতেও মালয়েশিয়া ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী। ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’-র অন্যতম স্তম্ভও মালয়েশিয়া। এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও আলোচনায় উঠে আসে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দু'দিনের এই সফর ভারত-মালয়েশিয়ার সম্পর্ককে আরও শক্ত ভিত্তির দিকে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। শনিবার মালয়েশিয়া সফরে যাওয়ার আগেই নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী মোদী লেখেন, ভারত ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক বহু পুরনো, আর বিগত কিছু বছরে এই সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে। প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে দুই দেশের আলোচনায় বড় অগ্রগতি হবে বলে আশাবাদী তিনি। তাঁর কথায়, 'আমরা প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বাড়াতে চাই। পাশাপাশি উদ্ভাবন, অর্থনীতি ও নতুন ক্ষেত্রেও একসঙ্গে কাজ এগোবে।'
উল্লেখ্য, এটি ছিল প্রধানমন্ত্রী মোদীর তৃতীয় মালয়েশিয়া সফর। ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভারতে এসে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সমগ্রিক কৌশলগত অংশীদারত্ব’ পর্যায়ে এগিয়ে নিয়ে গেছিলেন। সেই উন্নয়নের পর প্রধানমন্ত্রী মোদীর এটাই প্রথম মালয়েশিয়া সফর। এর আগে ২০১৫ সালের সফরে তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে ‘উন্নত অংশীদারত্ব’ স্তরে নিয়ে যান এবং কুয়ালালামপুরে ঐতিহাসিক তোরণা গেট উদ্বোধন করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে একদিকে যেমন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হল, তেমনই নেতাজির উত্তরসূরিদের সম্মান জানিয়ে তিনি প্রবাসী ভারতীয়দের আবেগকে নতুন করে ছুঁয়ে গেলেন।
E-Paper











