কুয়াশা-দূষণের মেলবন্ধনে অদৃশ্য দিল্লি! বিলম্বিত প্রধানমন্ত্রীর উড়ান, রেল দুর্ভোগে থমকে জনজীবন
এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগো-সহ অন্যান্য বিমান সংস্থাগুলিও ফ্লাইট বিলম্বের বিষয়ে সতর্ক করেছে।
দিল্লিতে ঘন কুয়াশা ও বায়ু দূষণের জেরে ফের ব্যাহত হল বিমান চলাচল। আর এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়ল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্ধারিত বিদেশ সফরেও। জানা গেছে, সোমবার নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী মোদীর জর্ডন সফরে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। সকাল সাড়ে আটটায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁর বিশেষ বিমান উড়ার কথা থাকলেও ঘন কুয়াশা ও দূষণের কারণে সেই উড়ান সময়মতো সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, ১৫ থেকে ১৮ ডিসেম্বর জর্ডন, ইথিওপিয়া এবং ওমান সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রথমে তিনি যাচ্ছেন মরুদেশ জর্ডনে। এ বছর ভারত-জর্ডন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫তম বর্ষ। কিন্তু সোমবার ভোর থেকেই দিল্লি ও তার সংলগ্ন এলাকায় আকাশ ঢেকে যায় কুয়াশা ও ধোঁয়ার আস্তরণে। দৃশ্যমানতা নেমে আসে বিপজ্জনক স্তরে। এমন পরিস্থিতিতে দিনের আলো থাকলেও চারদিক অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে দৃশ্যমানতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে উড়ান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলস্বরূপ, নির্ধারিত সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ফ্লাইট ছাড়তে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফর কূটনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জর্ডনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে একাধিক বৈঠকের কথা তাঁর সফরসূচিতে। কিন্তু আবহাওয়াজনিত কারণে সেই সফরের সূচনা বিলম্বিত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ঘন কুয়াশায় ঢেকে আছে দিল্লি। রাজধানীর পথঘাট প্রায় অদৃশ্য। কুয়াশার সঙ্গে মিশে আছে ভয়ঙ্কর মাত্রার দূষণ। সব মিলিয়ে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যে গিয়ে ঠেকেছে। সেই সঙ্গে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা তো আছেই। সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের (সিপিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৬টায় রাজধানীতে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ছিল ৪৫৬। এর আগে রবিবার এই মাত্রা ছিল ৪৬১। দৃশ্যমানতা এতই কম ছিল যে অক্ষরধামে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ৪৯৩, বারাপুল্লা ফ্লাইওভার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ৪৩৩ এবং বারখাম্বা রোডে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ৪৭৪-তে পৌঁছেছে। তবে শুধু এই এলাকাগুলিতে নয়, এর পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় বিষাক্ত বায়ুর ঘন স্তর দেখা গিয়েছে। ঘন ধোঁয়াশার কারণে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইট র্যাডার২৪ জানিয়েছে, সোমবার সকালে ১১০টি বিমান ছাড়তে এবং ৩৭টি ফ্লাইট নামতে দেরি হয়েছে। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, কুয়াশার সঙ্গে বায়ু দূষণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বাতাসে সূক্ষ্ম ধূলিকণার মাত্রা অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় শুধু দৃষ্টিসীমা কমেনি, একই সঙ্গে উড়ান পরিচালনায় ঝুঁকিও বেড়েছে। এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল এবং বিমান চালকদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উড়ান ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগো-সহ অন্যান্য বিমান সংস্থাগুলিও ফ্লাইট বিলম্বের বিষয়ে সতর্ক করেছে। পাশাপাশি রাস্তায় যানজটের আশঙ্কায় যাত্রীদের অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, শুধু দিল্লি নয় নয়ডা, গুরুগ্রাম-সহ জাতীয় রাজধানী এলাকা বা এনসিআর এলাকার পরিস্থিতিও ভাল নয়। গাড়ির গতি অত্যন্ত কম থাকায় রাজধানীমুখী রাস্তাগুলিতে সকাল থেকেই তুমুল যানজট শুরু হয়েছে। পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে রেল চলাচলেও। ঘন কুয়াশার জেরে অনেক ফ্লাইট বিলম্বিত, ৯১টি ট্রেন দেরিতে চলেছে। দিল্লি-এনসিআরের বাসিন্দাদের জন্য ফের উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গত শনিবার থেকেই তাদের সর্বোচ্চ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান-এর স্টেজ ৪ কার্যকর করেছে। এর ফলে দিল্লি-এনসিআর এলাকায় সমস্ত নির্মাণের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়াও, দিল্লি সরকার সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলির ৫০ শতাংশ কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। সেই সঙ্গে স্কুলগুলিকে হাইব্রিড মোডে ক্লাস করানোরও নির্দেশ দিয়েছে।












