মরে গিয়েও ফিরে এলেন জীবনে! যাবজ্জীবন সাজার মেয়াদ তবে শেষ, আদালতে দাবি বন্দির
১৯৯৬ সালে খুনের অপরাধে যাবজ্জীবন কারাবাসে দণ্ডিত আসামি বেঞ্জামিন স্ক্রাইবার (Benjamin Schreiber) হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে কিছুক্ষণের জন্য ক্লিনিক্যালি মারা গিয়েছিলেন, এবং তারপরেই তাঁকে পুনরুজ্জীবিতকরা হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া রাজ্যের কারাগার থেকে উঠে এসেছিল এক অত্যন্ত বিরল এবং অদ্ভুত আইনি প্রশ্ন। ১৯৯৬ সালে খুনের অপরাধে যাবজ্জীবন কারাবাসে দণ্ডিত আসামি বেঞ্জামিন স্ক্রাইবার (Benjamin Schreiber) হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে কিছুক্ষণের জন্য ক্লিনিক্যালি মারা গিয়েছিলেন, এবং তারপরেই তাঁকে পুনরুজ্জীবিত (Revived) করা হয়। এরপর তিনি দাবি করেন, যেহেতু তিনি স্বল্প সময়ের জন্য হলেও মারা গিয়েছিলেন, সেহেতু তাঁর ‘যাবজ্জীবন কারাবাস’ শেষ হয়ে গেছে এবং তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত।

আদালত তাঁর এই আবেদন শোনার পরে কী করে? জেনে নিন সেই কাহিনি।
১. বন্দির দাবি কী ছিল? (The Prisoner's Claim)
বেঞ্জামিন স্ক্রাইবার আইওয়া আপিল আদালতে (Iowa Court of Appeals) যুক্তি দেন যে, তাঁর সাজা ছিল ‘life imprisonment without parole’ অর্থাৎ প্যারোল ছাড়া যাবজ্জীবন কারাবাস। তাঁর বক্তব্য ছিল:
- জীবনের সমাপ্তি: যখন ডাক্তাররা ঘোষণা করেন যে তাঁর হার্ট বন্ধ হয়ে গেছে এবং তিনি ক্লিনিক্যালি মারা গেছেন, তখন তাঁর "জীবন" শেষ হয়ে যায়।
- চুক্তির সমাপ্তি: সাজার শর্ত অনুযায়ী তাঁর জীবন শেষ, অতএব কারাবাসের মেয়াদও শেষ।
২. কেন আদালত এই দাবি খারিজ করল? (Legal Rationale)
আইওয়া আপিল আদালত বেঞ্জামিন স্ক্রাইবারের এই আইনি যুক্তিকে অসার বলে বাতিল করে দেয়। আদালত যুক্তি দেখায়:
- ক্লিনিক্যাল বনাম আইনগত মৃত্যু (Clinical vs. Legal Death): আদালত স্পষ্ট করে জানায়, যাবজ্জীবন কারাবাস বা 'Life Sentence' মানে হলো, জীবিত মানুষের শরীরের স্বাভাবিক ও স্থায়ী সমাপ্তি পর্যন্ত কারাবাস। সাময়িকভাবে হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়া বা ক্লিনিক্যাল ডেথ-এর পর সফলভাবে পুনরুজ্জীবিত হওয়াকে আইনগতভাবে সাজার মেয়াদ শেষের কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
- সাজার আসল অর্থ: আদালতের মতে, ‘যাবজ্জীবন’ কথাটির অর্থ হলো স্বাভাবিক মৃত্যু পর্যন্ত কারাবাস, যেখানে মানবদেহ পুরোপুরি নিথর ও স্থায়ীভাবে অকার্যকর হয়ে যায়। স্ক্রাইবার যেহেতু এখনো শারীরিকভাবে জীবিত এবং কার্যকর, তাই তাঁর সাজা বহাল থাকবে।
- যৌক্তিক অসঙ্গতি (Logical Inconsistency): আদালত আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি তুলে ধরে। আদালত বলে, যদি বেঞ্জামিন স্ক্রাইবার আইনগতভাবে মৃতই হন, তাহলে তিনি কীভাবে আদালতের কাছে আপিল বা আবেদন জানাচ্ছেন? যেহেতু তিনি নিজেই আদালতে আবেদন করছেন, এর অর্থ তিনি আইনি এবং শারীরিকভাবে জীবিত।
৩. রায় ও পরবর্তী পরিণতি
২০১৯ সালের নভেম্বরে, আইওয়া কোর্ট অফ আপিল বেঞ্জামিন স্ক্রাইবারের এই হাস্যকর কিন্তু গভীরভাবে আইনি প্রশ্ন জড়িত আবেদনটি খারিজ করে দেয়। আদালতের রায়ের পর বেঞ্জামিন স্ক্রাইবারের যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা বহাল থাকে এবং তিনি আজও কারাগারে বন্দি আছেন। আদালত জানায়, ‘স্ক্রাইবার আপাতত জীবনের সেই শর্ত পূরণ করেননি, যা তাঁর সাজাকে শেষ করতে পারে।’












