'শুধুমাত্র ব্যক্তিগত...,' মুছে গেল গান্ধী নাম, কেন্দ্রের ‘জিরামজি বিল’ নিয়ে সরব প্রিয়াঙ্কা-শশী
নতুন বিলে কেন্দ্র ও রাজ্যের আর্থিক দায়ভারের বদল নিয়ে সুর চড়িয়েছেন শশী থারুর।
মনরেগা প্রকল্পকে ‘দুর্বল’ করে দিতেই নতুন বিল নিয়ে আসছে কেন্দ্র। লোকসভায় বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) বিল, ২০২৫ পেশ হতেই তীব্র বিরোধিতা করলেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। শুধু তাই নয় মনরেগা প্রকল্পের নামবদলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তিরুঅনন্তপুরমের সাংসদ শশী থারুরও, যাঁকে সম্প্রতি বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা এবং কংগ্রেস নেতৃত্বের সমালোচনা করতে শোনা গিয়েছে।

সংসদে উত্তেজনা ও সরব প্রিয়াঙ্কা গান্ধী
মঙ্গলবার লোকসভায় 'জিরামজি বিল' পেশ করেন কেন্দ্রীয় কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। তারপরই সংসদে শুরু হয় তুমুল উত্তেজনা। এই বিলটির লক্ষ্য হল দুই দশক পুরনো মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (মনরেগা)-এর পরিবর্তনে এই প্রকল্পটি কার্যকর করা হবে। কিন্তু গ্রামীণ রোজগার প্রকল্প থেকে মহাত্মা গান্ধীর নাম সরানোর প্রতিবাদে সরব হন বিরোধী সাংসদেরা। হাতে মহাত্মা গান্ধীর ছবি নিয়ে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখান বিরোধী সাংসদদের একাংশ। বিরোধী দলের আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়ে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী প্রস্তাবিত এই বিলকে রাজ্যগুলিতে আর্থিক বোঝা হস্তান্তরের সময় কর্তৃত্বকে কেন্দ্রীভূত করার প্রচেষ্টা হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর কথায়, 'এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আইন কারও ইচ্ছা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং পক্ষপাতের ভিত্তিতে প্রণয়ন করা উচিত নয়।' তাঁর অভিযোগ, 'মনরেগা গত ২০ বছর ধরে গ্রামীণ ভারতে রোজগার তৈরি করেছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে। এটা এমনই একটি আইন ছিল, যে যখন এটি আনা হয়েছিল তখন সংসদে সব রাজনৈতিক দল এটিকে সমর্থন করেছিল। দেশের সবচেয়ে দরিদ্র নাগরিককেও বছরে ১০০ দিনের রোজগার দিতে পারে এই প্রকল্প।’
লোকসভায় কংগ্রেস নেত্রী বলেন, 'এই বিলটি কক্ষের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা বা পরামর্শ ছাড়া তাড়াহুড়ো করে পাস করা উচিত নয়। এটি প্রত্যাহার করা উচিত এবং সরকারের একটি নতুন বিল আনা উচিত। যদিও মহাত্মা গান্ধী ব্যক্তিগতভাবে আমার কেউ ছিলেন না, তিনি পরিবারের মতো ছিলেন। এটাই গোটা দেশের আবেগ। এই বিলটি বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য স্ট্যান্ডিং কমিটিতে পাঠানো উচিত। শুধুমাত্র ব্যক্তিগত জেদ বা পক্ষপাতের কারণে কোনো আইন পাস করা উচিত নয়।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে মনরেগা কর্মীরা প্রায়শই তাদের মজুরি পেতে দেরির শিকার হন। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর কথায়, 'নাম বদলের এই ব্যাপারটা আমি বুঝি না। এই নতুন বিলটি কমপক্ষে ১০০ দিনের আয়ের অধিকারকে দুর্বল করে দেবে। আপনি যেখানেই যান, মনরেগা কর্মীরা আপনাকে বলবে যে তারা তাদের মজুরি পায়নি।'
শশী থারুরের প্রতিক্রিয়া
মঙ্গলবার সংসদে দাঁড়িয়ে মনরেগা প্রকল্প সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। প্রথমত, মহাত্মা গান্ধীর নাম ছেঁটে ফেলা ‘অনৈতিক’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেছিলেন, ‘গান্ধীজি আমাদের হৃদয়ে আছেন। দেশে রাম রাজত্ব স্থাপনা হোক, বারবার বলতেন গান্ধীজি।’ সেই রাম রাজত্বের প্রসঙ্গ তুলেই বিজেপিকে নিশানা করেছেন শশী থারুর। তিনি বলেন, ‘মহাত্মা গান্ধীর রাম রাজ্যের ধারণা কোনও রাজনৈতিক প্রকল্প ছিল না। গ্রামের ক্ষমতায়নের জন্য সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ছিল। আসল আইনটি এই ধারণার উপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়েছে। গ্রামের তৃণমূল স্তর থেকে উন্নয়ন এবং কাজের গ্যারান্টি তুলে আনা হতো।’ নতুন বিলের মাধ্যমে কাজ করার ক্ষেত্রেও বদল আনা হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। ছোটবেলায় শোনা গানের পঙক্তি ব্যবহার করে কংগ্রেস নেতার খোঁচা, ‘দেখো ও দিওয়ানো এ কাম মত করো, রাম না নাম বদনাম মত করো।’
নতুন বিলে কেন্দ্র ও রাজ্যের আর্থিক দায়ভারের বদল নিয়েও সুর চড়িয়েছেন শশী থারুর। মনরেগায় ১০০ দিনের কাজের গ্যারান্টি ছিল, নতুন প্রকল্পে ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি রয়েছে। কিন্তু আগের প্রকল্পে খরচের ভার ছিল কেন্দ্রের উপর, রাজ্যের উপর দায় ছিল সামান্যই। নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে ৬০-৪০ অনুপাতে কেন্দ্র ও রাজ্যকে খরচ দিতে হবে। এদিকে, শশী থারুরের এ দিনের মন্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। দীর্ঘদিন ধরেই কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব দেখা গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সুখ্যাতি করা থেকে শুরু করে অপারেশন সিঁদুরের পরে বিদেশে ভারতের বার্তা পাঠানোর সময়ে সরকারের প্রতিনিধি দলে জায়গা পাওয়া- নানা বিষয় নিয়ে কংগ্রেসের বেশ কিছু নেতার সঙ্গে শশী থারুরের বিরোধ প্রকাশ্যেই এসেছিল।












