Ravi River Dam Update: ইরাবতীর ওপর তৈরি হয়ে গেছে বাঁধ, আর এক ফোঁটা জলও যাবে না পাকিস্তানে?

পঞ্জাব এবং জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে নির্মাণাধীন শাহপুর কান্দি বাঁধ প্রকল্পটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই প্রকল্প চালু হলে ইরাবতী (রবি) নদীর অবশিষ্ট জল আর পাকিস্তানে প্রবাহিত হবে না। বদলে জম্মু ও কাশ্মীর এবং পঞ্জাবের শুষ্ক জমিতে সেচের জন্য সেই জল ব্যবহার করা হবে।

Published on: Feb 17, 2026 1:13 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

দশকের পর দশক ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ হলেও প্রবাহিত হয়েছে জল। তবে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পরে সেই নীতিতে বদল এনেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই আবহে সিন্ধু জল বণ্টন চুক্তি স্থগিত করেছে ভারত। একাধিক বাঁধ প্রকল্পেও হাত দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে জানা গিয়েছে, পঞ্জাব এবং জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে নির্মাণাধীন শাহপুর কান্দি বাঁধ প্রকল্পটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই প্রকল্প চালু হলে ইরাবতী (রবি) নদীর অবশিষ্ট জল আর পাকিস্তানে প্রবাহিত হবে না। বদলে জম্মু ও কাশ্মীর এবং পঞ্জাবের শুষ্ক জমিতে সেচের জন্য সেই জল ব্যবহার করা হবে।

পঞ্জাব এবং জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে নির্মাণাধীন শাহপুর কান্দি বাঁধ প্রকল্পটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। (HT_PRINT)
পঞ্জাব এবং জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে নির্মাণাধীন শাহপুর কান্দি বাঁধ প্রকল্পটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। (HT_PRINT)

জম্মু ও কাশ্মীরের মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ রানা এই নিয়ে বলেছেন, এই বাঁধের কাজ ৩১ মার্চের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রকল্পটি খরা কবলিত কাঠুয়া এবং সাম্বা জেলার জন্য একটি জীবনরেখা হয়ে উঠবে। এই বাঁধ শুধু জল সঞ্চয় করবে না, আঞ্চলিক অর্থনীতিকেও চাঙ্গা করবে। এই প্রকল্পটি জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়া এবং সাম্বা জেলার ৩২১৭৩ হেক্টরেরও বেশি জমি এবং পঞ্জাবের প্রায় ৫০০০ হেক্টর জমিতে সেচের জল পাঠাবে। বাঁধের কাজ শেষ হলে এই অঞ্চলের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও কৃষি খাতে নয়া দিশা পাওয়া যাবে। এদিকে প্রাক্তন সেচমন্ত্রী তাজ মহিউদ্দিনের মতে, এই বাঁধটি সিন্ধু জল চুক্তির আওতার বাইরে। কারণ ১৯৬০ সালের চুক্তির অধীনে ইরাবতী, শতদ্রু এবং বিপাশার (বিয়াস) মতো 'পূর্ব নদীগুলির' উপর ভারতের একচেটিয়া অধিকার রয়েছে।

এদিকে জম্মু ও কাশ্মীর সরকার চার দশক ধরে বন্ধ থাকা উলার ব্যারেজ প্রকল্পটি পুনরায় শুরু করতে চলেছে। এই উলার ব্যারেজ প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ঝিলাম নদীর জলের প্রবাহ সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা। সিন্ধু জল চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকার এবং জম্মু ও কাশ্মীর সরকার এই প্রকল্পটি স্থগিত রেখেছিল বিগত ৪ দশক ধরে। তবে এবার ওমর আবদুল্লাহ সরকার এই প্রকল্পটিকে পুনরায় চালু করতে চলেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে এই প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করবে। এই ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, শীতকালে ঝিলান নদীর জলের প্রবাহ কমে যায়, যার কারণে উলারের বেশিরভাগ অংশ শুকিয়ে যায়। বান্দিপোরা থেকে সোপোর পর্যন্ত শত শত মানুষ এই হ্রদে মাছ ধরেন। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা বিধানসভায় সম্প্রতি বলেছেন যে তাঁর সরকার ঝিলামের তুলবুল প্রকল্পে (উলার ব্যারেজ) কেন্দ্রের সাথে কাজ করছে। এছাড়া আখনুরের চেনাব নদী থেকে জম্মু শহরে জল সরবরাহের জন্যেও একটি প্রকল্পে কেন্দ্র এবং জম্মু ও কাশ্মীর সরকার কাজ করছে। এই উলার ব্যারেজ প্রকল্পটি আগে এশিয়ান ব্যাঙ্কের অর্থায়নে হওয়ার কথা ছিল। তবে সিন্ধু চুক্তির কারণে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি।

উল্লেখ্য, ভারত সিন্ধু চুক্তি স্থগিত করার পর থেকেই পাকিস্তানের থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পাক সেনা প্রধান আসিম মুনির নিজে বলেছেন, ভারত যদি জল বন্ধ করে দেয় তাহলে যুদ্ধ হবে এবং ভারতের বাঁধগুলি নাকি মিসাইল মেরে ধ্বংস করে দেবে পাকিস্তান। যদিও এই সব শুকনো হুমকিতে নিজেদের অবস্থান বদল করেনি ভারত। এর আগে সাওয়ালকোট জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে পদক্ষেপ করে ভারত। জম্মু ও কাশ্মীরের চন্দ্রভাগা নদীর উপর ১,৮৫৬ মেগাওয়াটের এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মিত হবে রামবন জেলার সিধু গ্রামের কাছে। সাওয়ালকোট ছাড়াও রয়েছে ১৩২০ মেগাওয়াটের কিরঠাই ওয়ান, ১০০০ মেগাওয়াটের পাকাল ডাল এবং ২২২৪ মেগাওয়াটের আরও তিনটি প্রকল্প নিয়েও এগোবে ভারত।