সস্তা হচ্ছে EMI! বছর শেষে রেপো রেটে বড়সড় বদল RBI-র, মধ্যবিত্তের পকেটে বড় প্রভাব

এখন গৃহঋণ, গাড়ি ঋণ এবং ব্যক্তিগত ঋণের ইএমআই আরও কমবে, অর্থাৎ লোন নেওয়া সস্তা হবে।

Updated on: Dec 05, 2025 11:34 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বছর শেষে সুখবর। ঋণের চাপ থেকে মধ্যবিত্তদের রেহাই দিতে রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৫.২৫ শতাংশে নামাল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। বুধবার থেকে শুরু হয়েছিল আরবিআই-এর মানিটারি পলিসি কমিটির বৈঠক। সেই বৈঠকের পর ৫ ডিসেম্বর, শুক্রবার রেপো রেট কমানোর ঘোষণা করেছেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা। এর জেরে রেপো রেট ৫.৫০ শতাংশ থেকে কমে হল ৫.২৫ শতাংশ। ফলে এখন গৃহঋণ, গাড়ি ঋণ এবং ব্যক্তিগত ঋণের ইএমআই আরও কমবে, অর্থাৎ লোন নেওয়া সস্তা হবে।

বছর শেষে রেপো রেটে বড়সড় বদল RBI-র (REUTERS)
বছর শেষে রেপো রেটে বড়সড় বদল RBI-র (REUTERS)

দু’মাস অন্তর রেপো রেট নিয়ে বৈঠকে বসে আরবিআইয়ের মনিটরি পলিসি কমিটি। গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার নেতৃত্বে তিন দিন ধরে কমিটির বৈঠক হয়েছে। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় রেপো রেট কমানো হবে। কারণ টাকার দাম পড়লেও কমেছে মুদ্রাস্ফীতির হার। সে কথা মাথায় রেখেই রেপো রেট কমিয়েছে আরবিআই। রেপো রেট কাটের ফলে বেশ খানিকটা কমবে হোন লোন-সহ একাধিক ঋণের মাসিক কিস্তি। কেউ মাসিক কিস্তি কমাতে না চাইলে কমবে তাঁর লোনের সময়কাল। তবে, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই পদক্ষেপে কিছুটা হলেও চিন্তা বাড়ল বিভিন্ন ব্যাঙ্কে টাকা জমা রেখেছেন যাঁরা, তাঁদের।

রেপো রেট কেন কমল?

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের শেষ মাসে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চ্যালেঞ্জের মুখে থাকলেও দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীল মুদ্রাস্ফীতি রয়েছে। বর্তমানে দেশের অর্থনীতির অবস্থাকে ব্যাখ্যা করা যায় একটাই শব্দে, ‘গোল্ডিলক্স পিরিয়ড।' অর্থাৎ, একটি আদর্শ অর্থনৈতিক অবস্থা। যেখানে দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল, বৃদ্ধি ভাল, বেকারত্ব কম ও মুদ্রাস্ফীতি কম বা মাঝারি থাকে। ডিসেম্বরের আগে অক্টোবর মাসে হয়েছিল মানিটারি পলিসি কমিটির বৈঠক। সেখানে পলিসি স্টান্স ‘নিউট্রাল’ রাখার পাশাপাশি রেপো রেটে কোনও বদল আনেনি আরবিআই। অগস্ট মাসেক বৈঠকেও রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে এ বছরে রেপো রেট ১২৫ বেসিস পয়েন্ট বা ১.২৫ শতাংশ কমিয়েছে আরবিআই। ফেব্রুয়ারি, এপ্রিল এবং জুন মাসে-মোট তিন দফায় রেপো রেট ১০০ বেসিস পয়েন্ট কমেছে। ডিসেম্বরে তা কমানো হলো ০.২৫ শতাংশ। এ বছরের শুরুতে রেপো রেট ছিল ৬.৫০ শতাংশ। চার দফায় হ্রাসের জেরে তা নেমে এসেছে ৫.২৫ শতাংশে।

জিডিপি

গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা বলেন, 'গত মাসটা আমাদের জন্য খুবই খারাপ ছিল। কিন্তু আগামী কিছু মাস মুদ্রাস্ফীতি থেকে শুরু করে জিডিপি ভালো থাকবে। মুদ্রাস্ফীতি থাকতে পারে ২ শতাংশের আশপাশে।'একাধিক বিষয় বিবেচনার পর, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য প্রকৃত জিডিপি ৭.৩ শতাংশ অনুমান করা হয়েছে। যা আগের তুলনায় ০.৫ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবর্ষে মুদ্রাস্ফীতি রেকর্ড লো হিট করেছে। অক্টোবরে মুদ্রাস্ফীতি ছিল মাত্র ০.২৫ শতাংশ। এছাড়াও প্রথম ৬ মাসে দারুণ জিডিপি বৃদ্ধি দেখেছে দেশ। এমনকী চলতি অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে জিডিপি বেড়েছে ৮.২ শতাংশ। যা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পূর্বাভাসকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে বৃদ্ধিকে আরও স্থিতিশীল ও চাঙ্গা করতে সুদের হার কমানো জরুরি ছিল। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত বাজারকে আরও গতি দেবে।

আগস্টের বিরতির পরে এই প্রথম সুদের হারে পরিবর্তন আনল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। সঞ্জয় মালহোত্রার নেতৃত্বে ২০২৫ সালে আরবিআই যে ভাবে পোস্ট-প্যান্ডেমিক পুনরুদ্ধার থেকে বর্তমানে শৃঙ্খল নির্ভর সহজীকরণের দিকে এগোচ্ছে, তার আজকের সিদ্ধান্ত সেই পথ রেখাকেই স্পষ্ট করছে।