সুখবর! দেশের অর্থনীতির বৃদ্ধি নিয়ে বড় পূর্বাভাস RBI-র, কী বললেন গভর্নর?
অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পাশাপাশি আগামী দিনে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলেই আশাবাদী রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মানিটারি পলিসি কমিটি।
ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিলম্বের মধ্যেই আগামী দিনে দেশের অর্থনীতির বৃদ্ধি কোন পথে চালিত হতে পারে, বৃদ্ধির হার কী হতে পারে তার পূর্বাভাস দিলেন ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই)-এর গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ৮.২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি ১.৭ শতাংশে নেমে আসা-এই দুই পরিস্থিতি মিলে অর্থনীতিকে বিরল 'গোল্ডিলকস' পরিস্থিতিতে নিয়ে এসেছে। আর মূল্যস্ফীতি কম থাকায় রেপো রেট কমানোর জন্য যথেষ্ট অবকাশ তৈরি হয়েছে।
দেশের জিডিপি গ্রোথ নিয়েও নিজেদের এস্টিমেটের কথা জানিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। আরবিআই-এর মতে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার হতে পারে ৭.৩ শতাংশ। এর আগে আরবিআই জানিয়েছিল বৃদ্ধির হার হতে পারে ৬.৮ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার নিয়ে আশাবাদী আরবিআই। একই সঙ্গে নীতিগত অবস্থান 'নিউট্রাল' রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আরবিআই। নিউট্রাল স্ট্যান্সের অর্থ হল-তারল্য নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত কড়াকড়ি বা শিথিলতা কোনওটাই নয়; বরং মুদ্রাস্ফীতি দমন এবং প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। চলতি অর্থবর্ষের তৃতীয় কোয়ার্টার অর্থাৎ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে জিডিপি বৃদ্ধির হার হতে পারে ৭ শতাংশ। চতুর্থ কোয়ার্টার অর্থাৎ পরের বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার হতে পারে ৬.৫ শতাংশ। আগামী অর্থবর্ষের প্রথম দুই কোয়ার্টারে এই বৃদ্ধির হার হতে পারে যথাক্রমে ৬.৭ শতাংশ এবং ৬.৮ শতাংশ।
অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পাশাপাশি আগামী দিনে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলেই আশাবাদী রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মানিটারি পলিসি কমিটি। সে জন্য সিপিআই ইনফ্লাশন সংক্রান্ত পূর্বাভাসেও বদল এনেছে আরবিআই। চলতি অর্থবর্ষ সিপিআই ইনফ্লাশন ২ শতাংশে আবদ্ধ থাকার আশা রাখছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। আগে এই পূর্বাভাস ছিল ২.৬ শতাংশ। চলতি অর্থবর্ষের তৃতীয় কোয়ার্টারে সিপিআই ইনফ্লাশন ১.৮ শতাংশ নামতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। চতুর্থ কোয়ার্টারে তা থাকতে পারে ২.৯ শতাংশে। আগে চতুর্থ কোয়ার্টারে মূল্যবৃদ্ধির হার ৪ শতাংশে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল আরবিআই-এর। সঞ্জয় মালহোত্রা আরও বলেন, 'চলতি বছরের প্রথমার্ধে মুদ্রাস্ফীতি ২.২ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের স্বাভাবিক থাকায় এটি একটি স্বর্ণযুগের সময়কাল। আগে থেকে প্রত্যাশার বিপরীতে বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হয়েছে।' এছাড়াও ডিসেম্বরে মানিটারি পলিসি কমিটির বৈঠকের পরে রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমানো হয়েছে। এর জেরে নতুন রেপো রেট হলো ৫.২৫ শতাংশ।












