'দূরদৃষ্টি ও মূল্যবোধ...,' রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায়, খালেদা পুত্রকে PM মোদীর শোকবার্তা জয়শঙ্করের
বিএনপি নেত্রীর মৃত্যুতে তাঁর পুত্র তারেক রহমানের হাতে ভারতের শোকবার্তা তুলে দেন বিদেশমন্ত্রী।
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সদ্যপ্রয়াত চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে বিদায় জানাতে তাঁর জানাজা বা শেষ যাত্রায় শান্তি কামনায় মানুষের ঢল নামে ঢাকায়। বাংলাদেশ সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্রান্তের ময়দানে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয় খালেদা জিয়ার শেষকৃত্য। নিজের হাতে মাকে সমাধিতে চিরনিদ্রায় শায়িত করেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই আবহে বাংলাদেশে উপস্থিত থেকে খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর।

এস জয়শঙ্কর ও খালেদা পুত্রের সাক্ষাৎ
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ ঢাকায় পৌঁছন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে বাশারে বাংলাদেশ বায়ুসেনার ঘাঁটিতে নামেন তিনি। তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের সচিব এম ফরহদ হোসেন। খানিকক্ষণ পরেই খালেদা পুত্র তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। বিএনপি নেত্রীর মৃত্যুতে তাঁর পুত্র তারেক রহমানের হাতে ভারতের শোকবার্তা তুলে দেন বিদেশমন্ত্রী। এদিন দুপুরে এক্স হ্যান্ডেলে তারেক রহমানের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে এস জয়শঙ্কর লিখেছেন, 'ঢাকায় পৌঁছে বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তিগত চিঠি তাঁর হাতেও তুলে দিয়েছি। ভারতের আপামর জনসাধারণ ও কেন্দ্রের সরকারের তরফে গভীর শোকবার্তা তাঁকে জানানো হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার দূরদৃষ্টি ও মূল্যবোধ আমাদের অংশীদারিত্বের বিকাশে দিশা দেখাবে বলে আমার বিশ্বাস।'
মঙ্গলবারই বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছিল, খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে ভারতের প্রতিনিধি হিসাবে এস জয়শঙ্কর উপস্থিত থাকবেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করার কথা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হবে। সাম্প্রতিককালে একাধিক ইস্যুতে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার, গণপিটুনি-পুড়িয়ে হত্যা এবং বাংলাদেশের নেতাদের ভারত-বিরোধী মন্তব্যের কারণেই উত্তেজনা ক্রমেই বাড়তে থাকে। বিশেষত তরুণ নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পরে পরিস্থিতি আরও উত্তাল হয়ে ওঠে। এই আবহে ভারতের বিদেশমন্ত্রীর ঢাকা সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মতামত রাজনীতিকদের।
খালেদা জিয়ার শেষকৃত্য
মঙ্গলবার সকালে প্রয়াত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮০। বুধবার দুপুর ৩টে ৩ মিনিট নাগাদ খালেদা জিয়ার জানাজা (শেষকৃত্য) শুরু হয়। তার আগে সকাল ১১টা নাগাদ জিয়ার মরদেহ গুলশানের বাড়ি থেকে বার করা হয়। এরপর বেলা ১২টা নাগাদ জাতীয় পতাকায় মোড়ানো গাড়িতে করে তাঁর মরদেহ ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পুতুল'কে একবার দেখতে জড়ো হন কয়েক হাজার মানুষ। শুধু ঢাকা নয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসেন তাঁকে দেখতে। খালেদার শেষকৃত্য উপলক্ষে ঢাকার নিরাপত্তা আরও মজবুত করার নির্দেশ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সেই নির্দেশ মতোই আজ ১০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। যারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মৃত বিএনপি নেত্রীর দেহ আগলে রেখেছিলেন। এদিন খালেদা জিয়ার জানাজায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী। সেই সঙ্গেই ছিলেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও অন্যরা। স্বামী প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই সমাধিস্থ করা হয় খালেদা জিয়াকে। রাজধানীর জিয়া উদ্যানে স্থানীয় সময় বিকেল পৌনে পাঁচটা নাগাদ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিদায় জানানো হয় তাঁকে।












