'ভালো সামরিক….,' শত্রুতার মূল কেন্দ্র পাক সেনা, মুনিরকে কটাক্ষ জয়শঙ্করের

'অপারেশন সিঁদুর' প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে জয়শঙ্কর পরিষ্কার করে দেন যে ভারতের প্রত্যেকটি সামরিক বা কৌশলগত পদক্ষেপ নির্দিষ্ট নিয়ম, দায়বদ্ধতা এবং স্বচ্ছতার মধ্যে থেকেই নেওয়া হয়।

Published on: Dec 06, 2025 10:41 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

'ভাল সামরিক নেতৃত্ব আর ভাল নয়, এমন নেতৃত্বও থাকে।' এভাবেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকে কটাক্ষ করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, ভারত-বিরোধী সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির এবং আদর্শগত শত্রুতার মূল কেন্দ্র হচ্ছে পাকিস্তান সেনা প্রতিষ্ঠান। এই বাস্তবতা বুঝতে না পারলে উপমহাদেশের সমস্যার প্রকৃত চিত্র ধরা পড়বে না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

মুনিরকে 'নেতৃত্ব' কটাক্ষ জয়শঙ্করের (HT_PRINT)
মুনিরকে 'নেতৃত্ব' কটাক্ষ জয়শঙ্করের (HT_PRINT)

শনিবার নয়া দিল্লিতে হিন্দুস্তান টাইমস লিডারশিপ সামিটে এস জয়শঙ্কর বলেন, 'আপনি যখন সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির কিংবা ভারতের বিরুদ্ধে আদর্শগত বিদ্বেষের দিকে তাকান, তাহলে প্রশ্ন ওঠে, এর উৎস কোথায়? এর উত্তর একটাই, পাকিস্তান সেনাবাহিনী।' কূটনৈতিক দিক থেকে ইসলামাবাদকে কোণঠাসা প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রীর মত, দু’দেশের সামরিক ক্ষমতা, অর্থনৈতিক ভিত্তি এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ রয়েছে। তাঁর কথায়, 'আমাদের নিজেদের নিয়ে অতিমাত্রায় তুলনামূলক ভাবনায় আটকে পড়া উচিত নয়। বাস্তবতা হল ভারতের অবস্থান ও সামর্থ্য আজ পাকিস্তানের থেকে অনেক আলাদা।' 'অপারেশন সিঁদুর' প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে জয়শঙ্কর পরিষ্কার করে দেন যে ভারতের প্রত্যেকটি সামরিক বা কৌশলগত পদক্ষেপ নির্দিষ্ট নিয়ম, দায়বদ্ধতা এবং স্বচ্ছতার মধ্যে থেকেই নেওয়া হয়। তিনি বলেন, 'আমাদের কিছু নীতি আছে। আমরা যা করি, তার জন্য জনগণ, সংবাদমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। আমরা কী করতে পারি এবং কী করতে পারি না, তা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আমাদের ওদের সঙ্গে তুলনা করা অবাস্তব।'

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান মুনিরকে ঘিরে ওঠা প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বিদেশমন্ত্রী কটাক্ষের সুরে বলেন, 'যেমন ভাল জঙ্গি ও খারাপ জঙ্গি বলে ভাগ করা হয়, তেমনই ভাল সামরিক নেতৃত্ব আর ভাল নয়, এমন নেতৃত্বও থাকে।' এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের ভূমিকাকে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন। বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, ভারত এখনও সংযম ও দায়িত্বশীলতার নীতিতেই আস্থা রাখে। তবে একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ ও সীমান্ত নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপোষ করা হবে না। উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে নৃশংস জঙ্গি হামলার জবাবে ভারত 'অপারেশন সিঁদুর' শুরু করে। এই অভিযানে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের মোট ৯টি স্থানে ২৪টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই অভিযানে ১০০-রও বেশি জঙ্গি নিহত হয়। পাকিস্তান এর প্রতিক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অনিয়ন্ত্রিত ও নির্বিচার গুলিবর্ষণ শুরু করে। তবে ভারত তা সাফল্যের সঙ্গে প্রতিহত করে। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই শেষ পর্যন্ত দু’দেশ ১০ মে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। যদিও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবুও সীমান্তে স্থায়ী শান্তি নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।