ব্যর্থ জেল পালানোর চেষ্টা-বিমান হাইজ্যাক! চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি কুখ্যাত মাসুদ আজহারের

জইশ প্রধানের দাবি, পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর জেলে নিয়ম ভাঙার অপরাধে তাকে ও আরও কয়েকজন মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গিকে এর পরে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল।

Published on: Dec 14, 2025 12:50 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ কম্যান্ডার মাসুদ আজহার জম্মু ও কাশ্মীরে জেলবন্দি থাকাকালীন একাধিকবার পালানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পুলিশি তৎপরতায় ব্যর্থ হয় তার সেই প্রচেষ্টা। তারপরেই তাকে ছাড়াতে ১৯৯৯ সালের ছিনতাই করা হয় নেপাল থেকে দিল্লিগামী একটি বিমান।

চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি মাসুদ আজহারের
চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি মাসুদ আজহারের

সম্প্রতি পাকিস্তানের কোনও অনুষ্ঠানে মাসুদ আজহারের বক্তৃতার একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে এসেছে। যেখানে ভারতে সংসদ হামলা, পঠানকোট, উরি থেকে সাম্প্রতিক পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড জানিয়েছে, ১৯৯০-এর দশকে ভারতের জেলে বন্দি থাকার সময়ে কী ভাবে পালানোর চেষ্টা করেছিল সে। লাউডস্পিকারে তার কণ্ঠস্বর প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল, যা ইঙ্গিত দেয় যে অনুষ্ঠানটি একটি খোলা জায়গায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। সূত্রের খবর, অডিওতে মাসুদ আজহারকে বলতে শোনা যায় সে কীভাবে জম্মু ও কাশ্মীরের কোট ভালওয়াল জেল ভেঙে পালানোর পরিকল্পনা করেছিল। অতীতের কথা স্মরণ করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে মাসুদ। জইশ প্রধান বলেছে, জম্মু ও কাশ্মীরের কোট ভালওয়াল কারাগারে বন্দী থাকাকালীন সে এবং তার সহযোগীরা পালানোর জন্য একটি সুড়ঙ্গ তৈরি করেছিল। এমনকী সুড়ঙ্গ খোঁড়ার জন্য বাইরে থেকে সরঞ্জামও আনা হয়েছিল। মাসুদ দাবি করেছে, পালানোর সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল, কিন্তু একেবারে শেষ দিনে কারা প্রশাসন বিষয়টি জানতে পারে এবং সুড়ঙ্গটি আবিষ্কার করে। এরপর, পুলিশ তার এবং তার সমস্ত সহযোগীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়। পরবর্তী অবস্থা ছিল মাসুদের কথায় ভয়ঙ্কর।

অডিওতে জইশ প্রধানের দাবি, পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর জেলে নিয়ম ভাঙার অপরাধে তাকে ও আরও কয়েকজন মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গিকে এর পরে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। রুটিন কাজকর্মেও ছিল বিধিনিষেধ। সেই দিনের স্মৃতি আজও মাসুদকে তাড়া করে বেড়ায়। আজও সে জেল কর্তৃপক্ষকে ভয় পায়, যারা পালানোর পরিকল্পনা করার জন্য তাকে এবং অন্যান্য জঙ্গিদের মারধর করেছিল। তার কথায় বন্দি দশার ওই ক’দিন ছিল দুর্বিষহ। ১৯৯৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি ভুয়ো পরিচয়পত্র এবং একটি পর্তুগিজ পাসপোর্ট নিয়ে ভারতে আসে মোস্ট ওয়ান্টেড এই জঙ্গি। তার উদ্দেশ্য ছিল জম্মু ও কাশ্মীরে জিহাদ ছড়িয়ে দেওয়া এবং জঙ্গিদের নিয়োগ করা। ওই বছর, তাকে অনন্তনাগে গ্রেফতার করা হয়। কুখ্যাত সন্ত্রাসী মাসুদ আজহার ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত জম্মু ও কাশ্মীরের কোট ভালওয়াল কারাগারে বন্দী ছিল। এই সময়ে, সন্ত্রাসীরা তাকে মুক্ত করার জন্য অনেক চেষ্টা করেছিল এবং ব্যর্থ হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৯ সালে কাঠমান্ডু থেকে নয়া দিল্লি আসার পথে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট আইসি-৮১৪ অপহরণ করে কন্দহরে নিয়ে যায় জঙ্গিরা। পরিবর্তে এই মাসুদ আজহার, ওমর শেখ এবং মুস্তাক আহমেদ জারগার অরফে লাটরামকে ছেড়ে দিয়ে আসে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক। তারপরেই কুখ্যাত এই জঙ্গির নেতৃত্বেই একাধিক সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়েছে ভারতে।