Shankaracharya on Humayun's Babri Masjid: বাবরের পাশে থাকলে… বাংলায় বাবরি মসজিদ তৈরির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি শঙ্করাচার্যের
হুমায়ুনের 'বাবরি মসজিদ' তৈরি করার ঘোষণার বিরুদ্ধে এবার মুখ খুললেন শঙ্করাচার্য অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী। শঙ্করাচার্য বলেন, ‘বাবর আমাদের জন্য হানাদার ছিল, সে আমাদের উপর অত্যাচার করেছে। বাবর যখন ভারত আক্রমণ করেছিল, তখন সে যা করেছিল, তা বেদনার।’
পশ্চিমবঙ্গের সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল বিধায়কের 'বাবরি মসজিদ' তৈরি করার ঘোষণার বিরুদ্ধে এবার মুখ খুললেন শঙ্করাচার্য অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী। উত্তরাখণ্ডের জ্যোতিষপীঠের শঙ্করাচার্য বলেছেন যে যাঁরাই বাবরের পাশে দাঁড়াবেন, তাঁর সঙ্গে বাবরের মতো আচরণ করা হবে। তিনি বলেন, বাবর একজন হানাদার ছিলেন, কেউ যদি বাবরের পরিচয়ে পরিচিত হতে চায়, তাহলে তাকেও হানাদার হিসেবে বিবেচনা করা হবে। শঙ্করাচার্য বলেন, মসজিদ নির্মাণে কোনও আপত্তি নেই, তবে বাবরের নামে তা করা হলে সেটা গ্রহণযোগ্য নয়।
শঙ্করাচার্য বলেন, 'বাবর আমাদের জন্য হানাদার ছিল, সে আমাদের উপর অত্যাচার করেছে। বাবর যখন ভারত আক্রমণ করেছিল, তখন সে যা করেছিল, তা বেদনার। আজ, যদি কোনও ব্যক্তি একই ব্যক্তির পাশে দাঁড়ায়, সে আমাদের কাছে বাবরের লোক... তাই আপনারা যদি বাবরের লোক হন, তাহলে বাবরের মতো তাদের সঙ্গে আচরণ করা উচিত। মসজিদ নির্মাণ এবং নিজের মতো করে ঈশ্বরের প্রার্থনা করায় আমাদের আপত্তি কোথায়? আমরা এতে আপত্তি করিনি, আমরা মসজিদ তৈরিতে আপত্তি করতেও চাই না। কিন্তু বাবর নাম এলে বাবরের লোকজনের প্রতি আমাদের আচরণ বাবরের মতোই হবে।
শঙ্করাচার্য অভিমুক্তেশ্বরণন্দ আরও বলেন, ধর্মীয় কারণে মন্দির ধ্বংস করা হয় না। ইসলাম বলে না যে, কারও উপাসনালয় ভেঙে ফেলে নিজের উপাসনালয় তৈরি করা উচিত। কিন্তু যদি তা করা হয়, তাহলে তা করা হয়েছে রাজনৈতিক কারণে, ধর্মীয় কারণে নয়। রাজনৈতিক কারণে যে কাজ হয়েছে, ধার্মিক মানুষ কেন তা বজায় রাখতে চান? এর মানে হল যে তাদের মনে এখনও সেই রাজনীতি বসে আছে। এজন্য আমরা বলি যে, মুসলমানদের বসে বিবেচনা করা উচিত যে তাদের ধর্ম অনুযায়ী কোনটা ভালো। তারা যদি এটা নিয়ে চিন্তা করে তাহলে ভালো।'
উল্লেখ্য, ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙাতে বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন হুমায়ুন। তবে ভরতপুরের বিধায়কের অভিযোগ, জমি পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসন অসহযোগিতা করছে। এই আবহে হুমায়ুনের আঙুল বেলডাঙার এসডিপিও উত্তম গড়াইয়ের দিকে ছিল। এই আবহে মুর্শিদাবাদের জেলার পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধেও হুমকি দিয়েছেন হুমায়ুন। তিনি পুলিশ ও প্রশাসনকে 'আরএসএসের দালাল' বলে অভিযোগ করেন। হুমায়ুন বলেন, 'আমার চ্যালেঞ্জ ৬ তারিখে রেজিনগর থেকে বহরমপুর পর্যন্ত জাতীয় সড়ক আমার দখলে থাকবে। মুসলিমদের দখলে থাকবে।' এই সব বিতর্কের মাঝে ৪ ডিসেম্বর হুমায়ুনকে সাসপেন্ড করে তৃণমূল কংগ্রেস। যখন এই ঘোষণা হয়, তখন হুমায়ুন বহরমপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাস্থলে ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন সংহতি দিবসের ডাক দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা উপস্থিত থাকবেন। তবে সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাবেন না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক। তিনি সেদিন মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের আয়োজন করবেন বলে জানিয়েছিলেন। যাতে অস্বস্তি বেড়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের। হুমায়ুনের দাবি, ২ লক্ষ লোক সেই অনুষ্ঠানে থাকার কথা। হুয়ামুন বলেছিলেন, শুধু মুর্শিদাবাদ নয়, উত্তরবঙ্গ এমনকী বীরভূম থেকেও প্রচুর মানুষ আসবেন। এই আবহে তৃণমূলের তরফ থেকে ফিরহাদ হাকিম গতকাল বলেন, 'ধর্ম নিয়ে রাজনীতি যারা করে, তাদের সঙ্গে দল কোনও সম্পর্ক রাখবে না।'












