রাহুলের অনুষ্ঠানে অপমানিত! কংগ্রেস হাইকমান্ডের বৈঠক বয়কট থারুরের, অস্বস্তিতে...

অভিযোগ, শশী থারুরকে জানানো হয়েছিল যে তাঁর পরে কেবল রাহুল গান্ধীই বক্তব্য রাখবেন। কিন্তু পরে একাধিক নেতা রাহুল গান্ধীর আগমনের পরেও মঞ্চে বক্তৃতা দেন।

Published on: Jan 23, 2026 1:20 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

শুক্রবার কেরল বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে কংগ্রেস হাইকমান্ডের ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না দলের সাংসদ শশী থারুর। এনডিটিভি সূত্রে খবর, সম্প্রতি কোচিতে আয়োজিত এক মহাপঞ্চায়েত অনুষ্ঠানে ‘অপমানিত’ বোধ করার পরই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীও উপস্থিত ছিলেন।

কংগ্রেস হাইকমান্ডের বৈঠক বয়কট থারুরের
কংগ্রেস হাইকমান্ডের বৈঠক বয়কট থারুরের

এদিন হাইকমান্ডের ডাকা বৈঠকে শশী থারুরের এই অনুপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনকে স্পষ্ট করে তুলছে। জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে কেরলের ইউনিটের সিনিয়র সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই বৈঠকে কেরল বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এই বৈঠকে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শশী থারুর। কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে তিনি দলের রাজ্য ও কেন্দ্র, উভয় নেতৃত্বের প্রতিই অসন্তুষ্ট। যা বৈঠকে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। সূত্র মারফত আরও জানা গিয়েছে, শশী থারুর ঘনিষ্ঠ মহলে নিজের হতাশার কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, দলের প্রতি তাঁর যে অবদান রয়েছে তা যেন একপ্রকার অবহেলা করা হচ্ছে। কোচিতে মহাপঞ্চায়েত অনুষ্ঠানের ঘটনার মধ্যে দিয়ে সেই প্রবণতাই দেখা গিয়েছে।

জানা গিয়েছে, এর আগে কোচির ওই মহাপঞ্চায়েত অনুষ্ঠানে বসার ব্যবস্থা ও বক্তৃতার সময়সূচি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। অভিযোগ, থারুরকে জানানো হয়েছিল যে তাঁর পরে কেবল রাহুল গান্ধীই বক্তব্য রাখবেন। কিন্তু পরে একাধিক নেতা রাহুল গান্ধীর আগমনের পরেও মঞ্চে বক্তৃতা দেন। দলের একজন সিনিয়র নেতা হিসেবে থারুরের মর্যাদার কথা মাথায় রাখলে এই ঘটনাকে প্রকাশ্যে অপমান হিসেবে দেখছেন শশী থারুর-সহ আরও অনেকে। নির্ধারিত পরিকল্পনা ভেঙে অন্যান্য নেতাদের বক্তব্য রাখার বিষয়টি প্রোটোকল লঙ্ঘন বলেও মনে করছেন অনেকে। যা থারুরের অসন্তোষ আরও বাড়িয়েছে বলে সূত্রের দাবি। এই বিষয়টিও থারুরের অসন্তোষ আরও গভীর করেছে বলে সূত্রের দাবি। জানা গিয়েছে, কংগ্রেসের হাইকমান্ডের বৈঠকে এদিন থারুর অংশ না নিলেও কেরল লিটারেচার ফেস্টিভ্যালে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। উল্লেখ্য, এই পুরো ঘটনা নিয়ে কংগ্রেসের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়নি।

শশী থারুর বহুদিন ধরেই বেসুরো। দলের একাধিক বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন তিনি। পহেলগাঁও হামলার জবাবে অপারেশন সিঁদুরের পর বিদেশে যে প্রতিনিধিদল গিয়েছিল, দলের আপত্তি সত্ত্বেও তাতে গিয়েছিলেন তিরঅনন্তপুরমের সাংসদ। আবার ইদানিং কংগ্রেসের বৈঠকেও তিনি থাকেন না। সব মিলিয়ে থারুরের সঙ্গে কংগ্রেসের দূরত্ব অনেকটাই বেড়েছে। গতমাসেও বার দুই রাহুল গান্ধীর ডাকা বৈঠকে গরহাজির ছিলেন শশী। একবার বিমানে থাকার অজুহাতে, একবার অসুস্থতার অজুহাতে। দলের বৈঠকে গরহাজির থেকে তিনি গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ শুনতে। সেবার প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের ভূয়সী প্রশংসাও করেন। আর এবার বৈঠকে থারুর গরহাজির হতেই কেরল ভোটের আগে কংগ্রেসের যে অস্বস্তি বাড়ল, সেটা বলাই বাহুল্য।