Shashi Tharoor on Putin's India Visit: ভারতে পুতিন, ভারতের সঙ্গে আমেরিকা-চিনের সম্পর্ক নিয়ে বড় মন্তব্য শশী থারুরের
পুতিনের ভারত সফর নিয়ে মুখ খুললেন শশী থারুর। থারুর বলেন, পুতিনের সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন বিশ্ব রাজনীতি অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
দুই দিনের সফরে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। প্রায় চার বছর পর ভারত সফরে এসেছেন পুতিন। এই উপলক্ষে কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত ক্ষেত্রে রাশিয়া ভারতের নির্ভরযোগ্য অংশীদার। সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর সঙ্গে আলাপচারিতায় থারুর বলেন, পুতিনের সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন বিশ্ব রাজনীতি অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এদিকে শশী থারুর এমন এক সময় ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের প্রশংসা করেন, যখন তাঁর দল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, পুতিনের সঙ্গে রাহুল গান্ধীর দেখা করতে দিচ্ছে না কেন্দ্রীয় সরকার। আবার বিজেপি পালটা দাবি করেছে, বিরোধী দলনেতার সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় সফরকারী দেশের দল।

এই সবের মাঝে ভারতে পুতিনের সফর সম্পর্ক নিয়ে শশী বলেন, 'এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সফর। রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অনেক পুরনো এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। তেল ও গ্যাসের ক্ষেত্রে রাশিয়া আমাদের জন্য প্রচুর সরবরাহের উৎস হয়ে উঠেছে। একই সময়ে, প্রতিরক্ষা সহযোগিতার গুরুত্বের বিষয়টি সম্প্রতি অপারেশন সিঁদুরের সময়ই সামনে এসেছিল। তখন রুশ এস-৪০০ সিস্টেম পাকিস্তান থেকে ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে দিল্লি সহ আমাদের শহরগুলিকে রক্ষা করেছিল।'
শশী থারুর আরও একবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে ভারতের বিদেশ নীতি 'কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের' উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়। রাশিয়ার সাথে ভারতের শক্তিশালী সম্পর্ক অন্য কোনও দেশের সাথে সম্পর্ককে প্রভাবিত করে না, তা সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হোক বা চিন। তিনি বলেন, 'ভারত স্বাধীনভাবে তার স্বার্থ ও অংশীদারিত্ব বেছে নেয়। আমাদের সার্বভৌম স্বায়ত্তশাসনই আমাদের বিদেশ নীতির ভিত্তি। রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠতা অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের পরিপন্থী হবে, এই ভুল ধারণার মধ্যে কারও থাকা উচিত নয়।'
উল্লেখ্য, আজ, ৫ ডিসেম্বর রুশ রাষ্ট্রপতি পুতিন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে মুখোমুখি হবেন। এই বৈঠকের সময় প্রতিরক্ষা উৎপাদন, বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জ্বালানি, সংস্কৃতি এবং মানবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। থারুর আশা প্রকাশ করেন যে এই বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি সুযোগ হিসাবে প্রমাণিত হবে। তিনি বলেন, এই সফরে যদি কোনও চুক্তি হয়, তাহলে সেটি এই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করবে।












