Hasina slams Yunus on Hindu Murders: 'ভয় দেখিয়ে শাসন করছে ইউনুস সরকার', বাংলাদেশে হিন্দু হত্যা নিয়ে সরব হাসিনা
হাসিনা অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে শাসন করছে ইউনুস সরকার। এর জেরে বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ নীতি নষ্ট হচ্ছে বলেও দাবি করেন হাসিনা। দীপু চন্দ্র দাসের হত্যার ঘটনার উল্লেখ করে হাসিনা বলেন, 'এর থেকেই স্পষ্ট বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা কতটা বিপদের মধ্যে রয়েছে।'
ইউনুস জমানায় হিন্দু হত্যা নিয়ে সরব হলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে শাসন করছে ইউনুস সরকার। এর জেরে বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ নীতি নষ্ট হচ্ছে বলেও দাবি করেন হাসিনা। দীপু চন্দ্র দাসের হত্যার ঘটনার উল্লেখ করে হাসিনা বলেন, 'এর থেকেই স্পষ্ট বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা কতটা বিপদের মধ্যে রয়েছে।'

নিউজ১৮-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন, 'জামাতে ইসলামি এবং তাদের সহযোগী কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলিকে রাজনৈতিক পরিসর দেওয়া হয়েছে। ইউনুস জমানায় তাদের সুরক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। আমার সময়ে বাংলদাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার কোনও বিকল্প ছিল না। এটা সাংবিধানিক কর্তব্য ছিল আমাদের। ২০২৪ সালের অগস্ট থেকেই হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আহমাদিয়া মুসলিম এবং আদিবাসীদের ওপর অত্যাচারের ঘটনা ঘটছে। ইউনুস সরকার ভয় দেখিয়ে শাসন করার জন্য এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারীদের আইন থেকে রক্ষা করা হচ্ছে। এর জেরে সংখ্যালঘুদের আরও সহজে নিশানা করা হচ্ছে।'
উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশে ২ জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮-৯ জন হিন্দুকে খুন করা হয়েছে। ১২ জানুয়ারি ফেনিতে সমীরকুমার দাস নামে ২৮ বছরের অটোচালককে খুন করা হয়। ১০ জানুয়ারি সিলেটে খুন হন জয় মহাপাত্র। এর আগে মিঠুন সরকার তাড়া খেয়ে পালাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়ছিলেন বিলে ঝাঁপ দিয়ে।
তার আগে গত ৫ জানুয়ারি ২ জন হিন্দুকে খুন করা হয়েছিল বাংলাদেশে। ঢাকার পার্শ্ববর্তী নরসিংদীতে খুন করা হয় এক হিন্দু ব্যবসাীকে। মৃতের নাম শরৎ চক্রবর্তী মণি, বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর বাজারে নিজের মুদি দোকানে খুন হন তিনি। জানা গিয়েছে, দুষ্কৃতীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়েছিল মণির ওপর। ৫ জানুয়ারি যশোরে গুলি করে খুন করা হয় হিন্দু ব্যবসায়ী তথা সাংবাদিক রানাপ্রতাপ বৈরাগীকে। জানা যাচ্ছে, রানাকে তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ডেকে পাশে একটি ক্লিনিকের পাশে থাকা গলির মুখে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই রানাকে গুলি করা হয়। পরপর একাধিক গুলি চালায় আততায়ীরা।
এছাড়া গত ২ জানুয়ারি খুন হয়েছিলেন সত্য রঞ্জন দাস। ৩ জানুয়ারি খুন হন মিলন দাস এবং সনু দাস। গত ৩১ ডিসেম্বরে হামলার শিকার খোকন চন্দ্র দাসেরও মৃত্যু হয় ৩ জানুয়ারি। ৪ জানুয়ারি খুন হন শুভ পোদ্দার। এর আগে ডিসেম্বরে দীপু চন্দ্র দাস এবং অমৃত মণ্ডলের খুনের ঘটনা সামনে এসেছিল সেই দেশে।
এদিকে ২ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে সত্যরঞ্জন দাসের ৯৬ শতক জমির ধান পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ৩ জানুয়ারি ভোরে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের মিলন দাসের বাড়ির সবাইকে আটক করে ডাকাতি চালানো হয়েছিল। একই দিনে কুমিল্লার হোমনার সানু দাসের ঘরে যেখান থেকে ১০ ভরি সোনা, ১২ ভরি রুপো ডাকাতি করা হয়েছিল। ঝিনাইদহে কালীগঞ্জে ৪০ বছরের এক হিন্দু বিধবা নারীকে ধর্ষণ করে তাঁর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছিল। দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার বাড়েয়া গ্রামের সন্তোষ কুমার রায়ের বাড়িতে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে স্থানীয় এনসিপি নেতা তফসির ও তার সহযোগী মঞ্জুরুল আলম পুলিশের হাতে আটক হয়।
এর আগে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ দাবি করেছিল, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে কমপক্ষে ৫১টি হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে সংখ্যালঘুদের ওপর। ডিসেম্বরে বাংলাদেশে হত্যা করা হয় ১০ জন হিন্দুকে। খুন হওয়া হিন্দুদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন দীপু চন্দ্র দাস এবং অমৃত মণ্ডল। তাঁদের নৃশংস খুনের ঘটনায় ভারতে প্রতিবাদ বিক্ষোভ প্রদর্শন হয়েছিল। এদিকে ডিসেম্বরে চুরি ও ডাকাতি ১০টি, বাড়িঘর-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান-মন্দির ও জমিজমা দখল, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ২৩টি ঘটনা রয়েছে। এছাড়া ধর্মীয় অবমাননা ও র’র দালালের মিথ্যা অভিযোগে আটক ও নির্যাতন ৪টি, ধর্ষণ চেষ্টা ১টি, দৈহিক নির্যাতন ৩টি।
E-Paper











