কর্ণাটকে জট অব্যাহত! রাহুলের দ্বারস্থ সিদ্দারামাইয়া-শিবকুমার, চাইলেন স্পষ্টীকরণ...

সূত্রের খবর, রাহুল গান্ধী এই বিষয়ে আলোচনার জন্য মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার উভয়কেই নয়া দিল্লিতে আসার পরামর্শ দিয়েছেন।

Published on: Jan 14, 2026 6:02 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

কর্ণাটক কংগ্রেসে ক্ষমতা নিয়ে টানাপোড়েন চলছেই। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর কাছে পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্টীকরণ চেয়েছেন বলে সূত্রের খবর। তাঁদের বক্তব্য, রাজ্যে নেতৃত্বের প্রশ্নে নিরন্তর বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে, যা প্রশাসনিক কাজে প্রভাব ফেলছে। তাঁরা আরও জানিয়েছেন যে রাজ্যের মন্ত্রিসভার রদবদল করতে আগ্রহী এবং সেই বিষয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক চেয়েছেন।

রাহুলের দ্বারস্থ সিদ্দারামাইয়া-শিবকুমার (Karnataka CMO)
রাহুলের দ্বারস্থ সিদ্দারামাইয়া-শিবকুমার (Karnataka CMO)

সূত্রের খবর, রাহুল গান্ধী এই বিষয়ে আলোচনার জন্য মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার উভয়কেই নয়া দিল্লিতে আসার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে তাঁরা কবে বৈঠকে বসবেন, তা এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত হয়নি। মঙ্গলবারই মহীশূর বিমানবন্দরে পৌঁছতেই রাহুল গান্ধীকে স্বাগত জানান কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী, উপ-মুখ্যমন্ত্রী-সহ কংগ্রেস নেতারা। সফর শেষে নয়া দিল্লি ফেরার পথে লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে বিদায় জানাতে হাজির ছিলেন ডিকে শিবকুমার। এরপরেই বিমানবন্দরে রাহুলের সঙ্গে শিবকুমারের কথোপকথন রাজ্যে তীব্র রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে কংগ্রেস-শাসিত কর্ণাটকে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ও উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে কথিত টানাপোড়েনকে ঘিরে। যদিও উভয় নেতাই বারবার দাবি করেছেন যে তাঁদের মধ্যে কোনও রকম দ্বন্দ্ব নেই, তবু রাজনৈতিক মহলে জল্পনা থামেনি।

এরমধ্যেই শিবকুমারের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মহীশূর বিমানবন্দরে উপ-মুখ্যমন্ত্রী এবং কেপিসিসি সভাপতি ডিকে শিবকুমারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। রাহুল গান্ধী তামিলনাড়ু থেকে মহীশূরতে পৌঁছানোর সময় এবং দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে এই বৈঠক হয়।' পাশাপাশি শিবকুমার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'আমি কংগ্রেস সভাপতি এবং তিনি লোকসভার বিরোধী দলনেতা, আমরা যা আলোচনা করি তার সবকিছুই আমরা আপনাদের বলতে পারি না। তাঁর কাছ থেকে কোনও বার্তা আসেনি, তিনি আমাদের ভালো কাজ করতে বলেছেন, আমরা তাঁকে মনরেগা সম্পর্কে এবং আমরা কীভাবে এটি গ্রহণ করার পরিকল্পনা করছি সে সম্পর্কে অবহিত করেছি।' গত মাসেই কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এই জল্পনাকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছিলেন, 'হাই কমান্ড কোনও বিভ্রান্তি তৈরি করেনি। রাজ্যের নেতৃত্ব নিজেদের মধ্যে বিষয় মিটিয়ে নেবে।' তিনি কংগ্রেস নেতাদের সতর্ক করে দেন ব্যক্তিগত কৃতিত্ব দাবি না করতে। তাঁর কথায়, কংগ্রেসের বিজয় কোনও ব্যক্তির নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন গড়ে তোলার ফল। এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া রাজ্যের নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে গুঞ্জন স্পষ্টভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, কংগ্রেসে নেতৃত্ব নিয়ে কোনও বিভ্রান্তি নেই এবং দলীয় হাই কমান্ড যে সিদ্ধান্ত নেবে, তিনি তা মেনে চলবেন। বিমানবন্দরে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিদ্ধারামাইয়া জানান, ওই বৈঠকে কোনও রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি।

আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে একটি কথিত সমঝোতা। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সিদ্দারামাইয়া শপথ নেন ২০ মে ২০২৩, সেই হিসেবে ২০২৩ সালের নভেম্বর নাগাদ নেতৃত্ব বদলের কথা রটেছিল। কিছু শিবকুমার-ঘনিষ্ঠ বিধায়ক দিল্লিতেও যান। যদিও কংগ্রেস দৃঢ়ভাবে জানায়, এমন কোনও চুক্তি হয়নি এবং সিদ্দারামাইয়া পুরো পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করবেন। অন্যদিকে, বিজেপি কংগ্রেস নেতৃত্বকে কটাক্ষ করে বলেছে, সরকার চালানোর চেয়ে ক্ষমতা দখল ও পদের লড়াইয়েই কংগ্রেস বেশি ব্যস্ত।