'আমার মা ভারতে..., ' হাসিনার রায় ঘিরে তপ্ত বাংলাদেশ, US থেকে বিশেষ বার্তা পুত্র জয়ের
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে তথা বাংলাদেশ সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ বললেন, তিনি জানেন এই রায় কী হবে।
'আমার মা ভারতে নিরাপদে রয়েছেন।' বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রায়ের আগেই আওয়ামী লিগের আন্দোলন হিংসার রূপ নিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিলেন পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সোমবার রায় ঘোষণা করবে সে দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বহুল আলোচিত এই মামলার রায় সরাসরি সম্প্রচার করার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে, যা নিজেই এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ। গোটা বিশ্বের নজর এখন ঢাকার ট্রাইব্যুনালের দিকেই। তার আগেই বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে তথা বাংলাদেশ সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ বললেন, তিনি জানেন এই রায় কী হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ বলেন, 'আমরা জানি ঠিক কী রায় হতে চলেছে। ওরা টেলিভিশনে দেখাবে। ওরা শাস্তি দেবে, হয়তো মৃত্যুদণ্ড দেবে। আমার মাকে কী করবে ওরা? আমার মা ভারতে নিরাপদে রয়েছেন। ভারত তাঁকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিচ্ছে।' একই সঙ্গে জয় সতর্ক করে বলেন, আওয়ামী লিগের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে নেতাকর্মীরা ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন আটকে দেবে। তিনি দাবি করেন, তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার রায় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। জয়ের ভাষায়, পরিস্থিতি সহিংসতার দিকেও যেতে পারে। জয় বলেন, আওয়ামী লিগের ওপর নিষেধাজ্ঞা না উঠলে তারা নির্বাচন প্রতিহত করবেন। তার বক্তব্য, 'আমরা আওয়ামী লিগ ছাড়া কোনও নির্বাচন হতে দেব না। আমাদের প্রতিবাদ আরও তীব্র হবে, যা প্রয়োজন তাই করব। আন্তর্জাতিক মহল ভূমিকা না রাখলে নির্বাচনের আগেই বাংলাদেশে সহিংসতা ঘটবে, মুখোমুখি সংঘর্ষ অনিবার্য।' জয় জানান, তিনি এবং তাঁর মা দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তাঁর দাবি, 'গত কয়েক দিন ধরে দেশজুড়ে হরতাল চলছে, বিক্ষোভ হচ্ছে-এগুলি আরও তীব্র হবে।' জয়ের কথায়, 'তিনি ক্ষুব্ধ, হতাশ। আর আমরা সবাই যা প্রয়োজন তা করে লড়াই চালিয়ে যাব।'
অন্যদিকে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মুখপাত্র জয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ট্রাইব্যুনাল 'সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে' বিচারকাজ পরিচালনা করছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ার দাবি ভিত্তিহীন। মুখপাত্র আরও জানান, আওয়ামী লিগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনও পরিকল্পনা নেই। কারণ দলটি মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে এবং জবাবদিহির প্রক্রিয়াও মানতে চাইছে না। সরকারের মুখপাত্র বলেন, সরকারের প্রথম লক্ষ্য 'উত্তেজনা প্রশমন এবং মানুষের জীবন-সম্পদ সুরক্ষা নিশ্চিত করা।' বলে রাখা ভালো, গত মে মাসেই অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লিগকে ব্যান করে দেয়। এরপর নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লিগ ও ছাত্র লিগের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে দেওয়া হয়। এর ফলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না আওয়ামী লিগ।
গত বছর ৫ আগস্ট প্রবল বিদ্রোহের মুখে পড়ে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এরপর তিনি ভারতে এসে আশ্রয় নেন। গণহত্যার অপরাধে তাঁর বিচার শেষ হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে। আজ রায় ঘোষণা হবে হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান-সহ তিনজনের বিরুদ্ধে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হওয়ার সত্ত্বেও নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে আওয়ামী লিগ। বৃহস্পতিতে লকডাউন, রবি ও সোমবার শাটডাউনের ডাক দিয়েছে। হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে ঢাকায় হিংসা বাড়ছে। রবিবার একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। এর আগে ১২ নভেম্বর শহরজুড়ে ৩২টি বিস্ফোরণ, পাশাপাশি একাধিক বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এসব নাশকতার অভিযোগে আওয়ামী লিগের কর্মীদেরও আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৪০০-র বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন, চেকপোস্ট জোরদার এবং জনসমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।












