বসন্ত পঞ্চমীর দিনই জুম্মার নমাজ! বিতর্কিত ভোজশালায় দুই পক্ষকেই প্রার্থনার অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের

মধ্যপ্রদেশের ধর-এর বিতর্কিত ভোজশালা, হিন্দুরা একাদশ শতাব্দীর এই স্থাপত্যটিকে বাগদেবী (দেবী সরস্বতী)-র মন্দির বলে মনে করেন।

Published on: Jan 22, 2026 6:20 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মধ্যপ্রদেশের ধর জেলার বিতর্কিত ভোজশালা-কামাল মৌলা মসজিদ চত্বরে শুক্রবার হিন্দু ও মুসলিম- উভয় সম্প্রদায়ের মানুষকেই প্রার্থনা করার অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার হিন্দু সম্প্রদায়ের বসন্ত পঞ্চমী বা সরস্বতী পুজো। এই দিন হিন্দুদের ওই বিতর্কিত চত্বরে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্রার্থনা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ২৩ জানুয়ারি দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরা বিতর্কিত ভোজশালা চত্বরে জুম্মার নমাজ পড়তে পারবেন।

ভোজশালায় দুই পক্ষকেই প্রার্থনার অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের (HT_PRINT)
ভোজশালায় দুই পক্ষকেই প্রার্থনার অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের (HT_PRINT)

দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিপুল এম পাঞ্চোলিকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ বলেছে, নমাজের জন্য আসা মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের একটি তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিতে হবে। তারা উভয় পক্ষকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখতে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করার আবেদন জানিয়েছে। ধর-এর বিতর্কিত ভোজশালা চত্বরে বসন্ত পঞ্চমীতে হিন্দুদের জন্য প্রার্থনা করার একচেটিয়া অধিকার চেয়ে আদালতে হিন্দু সংগঠন 'হিন্দু ফ্রন্ট ফর জাস্টিস' (এইচএফজে) মামলা দায়ের করেছিল। হিন্দু সংগঠন 'হিন্দু ফ্রন্ট ফর জাস্টিস'-এর পক্ষে আইনজীবী বিষ্ণু শঙ্কর জৈন গত ২ জানুয়ারি দায়ের করা এবং আদালতে জরুরি ভিত্তিতে উত্থাপিত আবেদনটিতে বলা হয়েছিল যে, ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক সমীক্ষা (এএসআই)-এর ২০০৩ সালের আদেশে এমন পরিস্থিতির কথা বলা নেই যেখানে বসন্ত পঞ্চমী এবং জুম্মার নমাজ একই দিনে পড়ে। বৃহস্পতিবার তারই প্রেক্ষিতে উভয় সম্প্রদায়কে ওই চত্বরে প্রার্থনা করার অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট।

ভোজশালা বিতর্ক

মধ্যপ্রদেশের ধর-এর বিতর্কিত ভোজশালা, হিন্দুরা একাদশ শতাব্দীর এই স্থাপত্যটিকে বাগদেবী (দেবী সরস্বতী)-র মন্দির বলে মনে করেন। অন্যদিকে, মুসলিম সম্প্রদায় এটিকে কমল মওলা মসজিদ বলে অভিহিত করে। ২০০৩ সালের এএসআই-এর আদেশ অনুসারে, মুসলিমদের দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে ওই স্থানে জুম্মার নমাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি হিন্দুদের বসন্ত পঞ্চমীতে ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান পালনের অনুমতি দেওয়া হয়। এছাড়াও প্রতি মঙ্গলবার হিন্দুদের জন্য বিতর্কিত চত্বরে প্রবেশের একচেটিয়া অধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে, যে বছর বসন্ত পঞ্চমী শুক্রবার পড়ে, সেই বছরের জন্য কোনও নির্দিষ্ট ব্যবস্থার কথা এতে উল্লেখ নেই। ২০০৬, ২০১৩ এবং ২০১৬ সালের পর ২৩ জানুয়ারি ছিল এই ধরনের চতুর্থ ঘটনা।

ধর-এ সতর্কতা জারি

বসন্ত পঞ্চমী উপলক্ষে মধ্যপ্রদেশের ধরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ)-এর সদস্য-সহ প্রায় ৮,০০০ পুলিশ কর্মীকে মধ্যপ্রদেশের এই জেলা জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ পায়ে হেঁটে ও গাড়িতে করে টহল দিতে শুরু করেছে এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমেও নজরদারি চলছে। শহরজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ার কার্যকলাপও পর্যবেক্ষণ করছে প্রশাসন।