সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় কোনও হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছে এবং জানিয়ে দিয়েছে, তদন্তভার থাকবে এনআইএ-র হাতেই। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এই মামলার শুনানি হয়েছিল। সেখানে রাজ্য সরকারের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে রাজ্যের কথায় মান্যতা দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট।
বেলডাঙায় হিংসার ঘটনায় এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার। তবে সুপ্রিম কোর্টে ধাক্ক খেল রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় কোনও হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছে এবং জানিয়ে দিয়েছে, তদন্তভার থাকবে এনআইএ-র হাতেই। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এই মামলার শুনানি হয়েছিল। সেখানে রাজ্য সরকারের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে রাজ্যের কথায় মান্যতা দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট।
এরই সঙ্গে বেলডাঙা মামলাটিকে কলকাতা হাইকোর্টে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, এই মামলায় ইউএপিএ-র ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগ করা হবে কি না, সেই বিষয়টি নিয়ে মমলা চলবে হাইকোর্টেই। উল্লেখ্য, জানুয়ারি মাসে ঝাড়খণ্ডে আলাউদ্দিন শেখ নামে এক ফেরিওয়ালার মৃত্যু ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। পরে জানা যায়, আলাউদ্দিনকে খুন করা হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ ঝাড়খণ্ডে গিয়ে সেখানকার পুলিশের তথ্যপ্রমাণ দেখে এসেছিল। তবে বেলডাঙা এর জেরে অশান্ত ছিল বেশ কয়েকদিন।
বেলডাঙা স্টেশ সংলগ্ন রেলগেটে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল সেই সময়। রেলের সিগন্যালও ভেঙে ফেলা হয়েছিল। রেললাইনে বাঁশ ফেলে রাখে বিক্ষোভকারীরা। এর জেরে ব্যাহত হয়েছিল রেল পরিষেবা। সড়কপথেও যান চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। বড়ুয়া মোড় কাছে রাস্তায় অবরোধ করা হয়েছিল। তার জেরে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ায় দাঙ্গাবাজরা। মারধর করা হয়েছিল সাংবাদিকদেরও। জি ২৪ ঘণ্টার সাংবাদিক সোমা মাইতি এবং চিত্রসাংবাদিককে মারধর করা হয়েছিল। পরে আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন এবিপি আনন্দের সাংবাদিক পার্থপ্রতিম ঘোষ এবং তাঁর সঙ্গে থাকা চিত্রসাংবাদিক। এই হিংসার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। হাইকোর্ট বলেছিল, কেন্দ্র যদি মনে করে, তাহলে বেলডাঙার হিংসা নিয়ে এনআইএ তদন্ত হতে পারে। সেই মতো তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। তবে সেই তদন্ত ঠেকাতেই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল রাজ্য।