কোনও প্রতিযোগিতা নয়! পথকুকুর মামলায় বিশেষ বার্তা, শর্মিলাকে ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের
পথকুকুরদের নিয়ে চলা একটি মামলার শুনানিপর্বে অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরকে ভর্ৎসনা করেছে শীর্ষ আদালতের।
দেশজুড়ে পথকুকুরের সংখ্যা ও কুকুরে কামড়ানোর ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার আবারও শুনানি করল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা চাই না পশুদের প্রতি নৃশংসতা এবং পথকুকুরদের আক্রমণের ভিডিওগুলি প্রতিযোগিতায় পরিণত হোক।

শুক্রবার বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা এবং এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে সুপ্রিম কোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত মামলার শুনানি শুরু হয়। কুকুরপ্রেমী, কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত এবং প্রাণী কল্যাণ সংগঠনের তরফের আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এদিন প্রাণী কল্যাণ সংস্থার পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট রাজ শেখর রাও সুপ্রিম কোর্টকে পথকুকুরদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগ উঠেছে এমন ভিডিওগুলি নিয়ে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন,আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশগুলি যেন চূড়ান্ত রায় হিসেবে বিবেচিত না হয়। তিনি 'প্রাতিষ্ঠানিক এবং সাংবিধানিক সহানুভূতি'র ওপর জোর দিয়ে বলেন যে, পশুর অধিকার রক্ষায় আদালতের হস্তক্ষেপ আনুপাতিক হওয়া প্রয়োজন। রাজ শেখর রাও আরও জানান, প্রতিষ্ঠানগুলিকে মানবিক উপায়ে কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের নিয়মগুলি মেনে চলার জন্য অন্তত ছয় মাস সময় দেওয়া উচিত। সঠিক উপায়ে বন্ধ্যাকরণ এবং টিকাকরণের ফলে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ল সেন্টারে কুকুরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
তাঁর কথায়, 'আমি হাসপাতালগুলির কথা বলছি না। আমি কুকুরদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে এমন ভিডিওগুলির বিশদ বিবরণ দিয়েছি।' এরপরেই সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, তারা পথকুকুর মামলাকে কোনও 'প্রতিযোগিতা' বা ভিডিওর লড়াইয়ে পরিণত করতে চান না। বিচারপতি সন্দীপ মেহতা বলেন, 'ইউটিউবে কুকুরদের শিশু এবং বয়স্কদের উপর আক্রমণ করার অনেক ভিডিও আছে; আমরা কোনও প্রতিযোগিতা চাই না।' গত ৭ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট স্কুল, রেলস্টেশন, হাসপাতাল চত্বর থেকে পথকুকুরদের সরানোর নির্দেশ দিয়েছিল। তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছিল, নির্বীজকরণের জন্য পথকুকুরদের এই সব এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেখানে আর তাদের ফেরানো চলবে না। এরপরই একের পর এক মামলা দায়ের হতে শুরু হয় শীর্ষ আদালতে।
অন্যদিকে, পথকুকুরদের নিয়ে চলা একটি মামলার শুনানিপর্বে অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরকে ভর্ৎসনা করেছে শীর্ষ আদালতের। এমনকী, শুনানিপর্বে তাঁর সওয়ালকারীর যুক্তিকেও খারিজ করল বিচারপতি বেঞ্চ। এদিন শুনানিপর্বে এইমস-এ থাকা গোল্ডি নামে একটি পথকুকুরের কথা উল্লেখ করেন শর্মিলার হয়ে উপস্থিত সওয়ালকারী। পাশাপাশি, তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চকে তিনি জানান, ‘যদি কমিটি তৈরি করা যেত, যাঁরা কোনও প্রতিষ্ঠানে আশ্রিত পথকুকুরদের আচরণ বোঝার চেষ্টা করবে, তা হলে বিষয়টা ভাল হত। কোনও দুর্ঘটনার আগেই জানা যেত পথকুকুরটি আক্রমণাত্মক নাকি সকলের সঙ্গে মিলেমিশে চলে।’ এই যুক্তি শোনার পর ভর্ৎসনার সুরে বিচারপতিরা বলেন, ‘আপনি বাস্তব থেকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন। হাসপাতালে থাকা এই পথকুকুরদের মহান করার কোনও প্রয়োজন নেই।’ বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, ‘রাস্তায় থাকা বেশির ভাগ কুকুরই টিকে (এক প্রজাতির পোকা) আক্রান্ত। যা হাসপাতাল চত্বরের জন্য মোটেই সুস্থ পরিবেশ তৈরি করে না।’ পাল্টা আর্মেনিয়া ও জোর্জিয়ার উদাহরণ টেনে শর্মিলা ঠাকুরের আইনজীবী বলেন, ‘কুকুরগুলি গলায় রঙ-বেরঙের কলার লাগিয়ে দেওয়া যেতে পারে।’ এই রঙিন কলারগুলি আসলে তাদের আচরণের প্রতীক হিসাবে কাজ করবে। কিন্তু সেই যুক্তিও খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, ‘ওই দেশগুলি জনসংখ্যায় কত বলুন তো? একটু বাস্তবিক হন।’












