বড় ধাক্কা! বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টের, তদন্ত করবে...

গত ২২ মার্চ দিল্লি হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার সরকারি বাংলোয় আগুন লাগে। আগুন নেভাতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ পোড়া ভারতীয় টাকা উদ্ধার করেন দমকলের কর্মীরা।

Published on: Jan 16, 2026 1:36 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

নগদকাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেলেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি যশবন্ত ভার্মা। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করছে সংসদীয় কমিটি। সেই কমিটির বিরুদ্ধে বিচারপতি ভার্মার যে আবেদন করেছিলেন, তা খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। অর্থাৎ নগদকাণ্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত করবে সংসদীয় কমিটিই, জানিয়ে দিয়েছে আদালত।

বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার আর্জি খারিজ (HT_PRINT)
বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার আর্জি খারিজ (HT_PRINT)

গত বছর আগস্টে নগদকাণ্ডে তদন্তের জন্য তিন সদস্যের সংসদীয় প্যানেল গড়ে দিয়েছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। স্পিকারের গড়া সংসদীয় কমিটিতে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরবিন্দ কুমার, মাদ্রাজ হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি মণীন্দ্র মোহন এবং বর্ষীয়ান আইনজীবী বিভি আচার্য। সেই প্যানেলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিচারপতি যশবন্ত ভার্মা। স্পিকারের গড়া সংসদীয় কমিটি আইনত বৈধ কিনা, শীর্ষ আদালতে সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন বিচারপতি ভার্মা। তিনি দাবি করেছিলেন, তাঁর অপসারণের প্রস্তাব আগেই খারিজ করে দিয়েছেন সংসদের উচ্চক্ষ রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান। ১৬ ডিসেম্বর, শীর্ষ আদালতের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি এসসি শর্মার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। গত ৮ জানুয়ারি শুনানি শেষ হলে বেঞ্চ রায়দান স্থগিত রেখেছিল। শুক্রবার বিচারপতি ভার্মার আর্জি খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

ঘটনার সূত্রপাত

গত ২২ মার্চ দিল্লি হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার সরকারি বাংলোয় আগুন লাগে। আগুন নেভাতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ পোড়া ভারতীয় টাকা উদ্ধার করেন দমকলের কর্মীরা। ওই ঘটনায় দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। সেই থেকে বিতর্কের সূত্রপাত। ওই বিচারপতিকে দিল্লি থেকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে সরিয়ে দেওয়া হয়। ক্রমে মামলার জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। শীর্ষ আদালত ওই ঘটনার অনুসন্ধানের জন্য হাইকোর্টের তিন বিচারপতিকে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই অনুসন্ধান কমিটি একটি মুখবন্ধ খামে রিপোর্ট জমা দেয় সুপ্রিম কোর্টে। অন্যদিকে, তাঁকে ইমপিচ করার দাবিতে সরব হন শাসক ও বিরোধী দলের সাংসদদের একাংশ। এরপরেই আইনি প্রক্রিয়া মেনে ধাপে ধাপে শুরু হয় ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে তিন সদস্যের প্যানেল তৈরির কথা ঘোষণা করেন। বিচারপতি ভার্মার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখবে এই প্যানেল। কথা বলবে সাক্ষীদের সঙ্গেও। তারপরে সংসদীয় কমিটির তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে স্পিকার তা সংসদে উত্থাপন করবেন। তদন্তে বিচারপতি ভার্মা দোষী সাব্যস্ত হলে রিপোর্ট প্রথমে লোকসভায় গৃহীত হবে। পরে একই প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি হবে সংসদের উচ্চকক্ষেও।