Taslima on Same Sex marriage: ‘মন্দির মেনে নিয়েছে…মসজিদ মানবে না সমকামিদের বিয়ে’, হিন্দু ধর্মের ‘উদারতা’য় মুগ্ধ তসলিমা
Taslima on Same Sex marriage: সমপ্রেম বিয়ে বা সমলিঙ্গে বিয়ে এখনও আইনি স্বীকৃতি পায়নি ভারতে। কিন্তু মন্দিরে দাঁড়িয়ে থেকে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামবাসী বিয়ে দিল দুই মেয়ের, যা দেখে মুগ্ধ তসলিমা নাসরিন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজার থানা এলাকার রিয়া সর্দার এবং কুলতলি ব্লকের বকুলতলার বাসিন্দা রাখী নস্কর গত কয়েকদিন ধরেই বারবার ওঠে এসেছেন সংবাদ শিরোনামে কিংবা চায়ের ঠেকের আলোচনায়। গত মঙ্গলবার স্থানীয় এক মন্দিরে বিয়ে করেন এই দুই তরুণী।
‘মন্দির মেনে নিয়েছে…মসজিদ মানবে না সমকামিদের বিয়ে’, হিন্দু ধর্মের ‘উদারতা’য় মুগ্ধ তসলিমা
সমপ্রেম বিয়ে বা সমলিঙ্গে বিয়ে এখনও আইনি স্বীকৃতি পায়নি ভারতে। কিন্তু মন্দিরে দাঁড়িয়ে থেকে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামবাসী বিয়ে দিল দুই মেয়ের, এই দৃশ্য অবাক করেছে বহু শহুরে হোমোফোবিক মানুষকে। সুন্দরবনবাসীর এই কীর্তিতে মুগ্ধ লেখিকা তসলিমা নাসরিন। যিনি ছক ভাঙতে বরাবরই ভালোবাসেন। হিন্দুধর্মের উদারতার কথা সোশ্য়াল মিডিয়ায় তুলে ধরলেন বাংলাদেশি লেখিকা।
রিয়া আর রাখীর বিয়ের খবরের ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে তসলিমা লেখেন, ‘রিয়া সর্দার আর রাখী নস্কর বিয়ে করলেন। দুজনই নৃত্যশিল্পী। দুজনে প্রেম করছেন, এবং একসঙ্গে বাস করতে চাইছেন। সুতরাং সুন্দরবনের শান্তি সঙ্ঘ মন্দিরেই ঘটা করে তাঁদের বিয়ে হয়ে গেল। স্থানীয় লোকেরাই এই বিয়ের আয়োজন করেছে। সমপ্রেমীদের সম্পর্কই তো মেনে নিতে পারে না সমাজ। সেখানে দুটো মেয়ের বিয়ে পর্যন্ত হয়ে গেল! হিন্দু ধর্মে এক ধরণের উদারতা আছে, সম্ভবত সে কারণেই সম্ভব হয়েছে এই বিয়ের অনুষ্ঠান। আইন হয়তো মানবে না, কিন্তু মন্দির মেনে নিয়েছে। আজ পর্যন্ত তো কোনও সিনেগগ, গির্জা, মসজিদ, প্যাগোডা সমপ্রেমী বা সমকামীদের বিয়ে মেনে নেয়নি! হিন্দু ধর্মের সবাই এই বিয়ে মেনে নেবে তা বলছি না, কিন্তু সুন্দরবনের অনেকেই তো মেনে নিল। সমাজের বিবর্তন এভাবেই হয়।’
তসলিমার পোস্টে নেটপাড়া দ্বিধাবিভক্ত। একজন লেখেন, ‘এ তো প্রকৃতি বিরুদ্ধ খেলা। নিছক পাগলামি। ধর্মকে টেনে আনা নিছক মূর্খামি।’ আরেকজন লেখেন, ‘মন্দিরে বা চার্চে আগেও হয়েছে। ক্যাথলিক চার্চ মানে না, কিন্তু অ্যাংলিকান চার্চ মানে’। অনেকেই আবার প্রাণখুলে নবদম্পতিকে আর্শীবাদ আর ভালোবাসা জানিয়েছেন।
রিয়ার বাড়িতে এই বিয়ে মেনে নিয়েছে সকলে। মানেনি রাখীর পরিবার। কিন্তু একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত অনড় দুজনেই। ভালোবেসে পরস্পরের হাত ধরেছেন। এই হাত আজীবন ধরে রাখতে চান। রিয়ার কথায়, ‘আমরা আমাদের ইচ্ছাকে মর্যাদা দিয়েছি। ভালবাসাটাই তো বড় কথা। মহিলা পুরুষকে ভালবাসবে, পুরুষ মহিলাকে ভালবাসবে— কে বলে দিয়েছে?’
News/News/Taslima On Same Sex Marriage: ‘মন্দির মেনে নিয়েছে…মসজিদ মানবে না সমকামিদের বিয়ে’, হিন্দু ধর্মের ‘উদারতা’য় মুগ্ধ তসলিমা