বাড়ছে রহস্য! সাই হস্টেলে দুই কিশোরীর দেহ উদ্ধারে শোরগোল, তদন্তে পুলিশ...

ইতিমধ্যে দুই কিশোরীর দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Published on: Jan 15, 2026 1:39 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মর্মান্তিক ঘটনা! কেরলের কোল্লামে স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার (সাই) হস্টেলের ঘর থেকে দুই নাবালিকা খেলোয়াড়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আত্মহত্যা না খুন? তা জানতে ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

সাই হস্টেলে দুই কিশোরীর দেহ উদ্ধার (সৌজন্যে টুইটার)
সাই হস্টেলে দুই কিশোরীর দেহ উদ্ধার (সৌজন্যে টুইটার)

পুলিশ সূত্রে খবর, ১৭ ও ১৫ বছরের দুই নাবালিকা কোঝিকোড় এবং তিরুঅনন্তপুরমের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় ৫টা নাগাদ অন্য আবাসিকরা লক্ষ্য করেন, নির্ধারিত সকালের প্রশিক্ষণে দুই কিশোরী হাজির হয়নি। এরপরেই তাদের খোঁজখবর করা হয়। বারবার ডাকাডাকিতেও দরজা খোলেনি তারা। এরপরই হোস্টেল কর্তৃপক্ষ দরজা ভেঙে ফেলে। তখনই ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় দুই কিশোরীর দেহ। হস্টেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৫ বছরের নাবালিকার আলাদা ঘরে থাকার ব্যবস্থা হলেও বুধবার রাতে দু’‌জনে একসঙ্গে ছিল। ভোরের দিকে অন্য হোস্টেল আবাসিকরা দু’জনকেই দেখেছিলেন। এরপর কী হয়েছিল তা জানা যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, ১৭ বছরের কিশোরীটি অ্যাথলেটিক্সের প্রশিক্ষ নিচ্ছিল এবং দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। অন্যদিকে ১৫ বছরের কিশোরীটি কাবাডি খেলোয়াড়, সে পড়ত দশম শ্রেণিতে। এদিকে, খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। ইতিমধ্যে দুই কিশোরীর দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মৃতদেহের পাশ থেকে কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাই এটা খুন না আত্মহত্যা তা নিয়ে ধন্দে পুলিশ। দুই নাবালিকার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। হোস্টেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছে পুলিশ। হস্টেলের নিরাপত্তা, মানসিক চাপ বা অন্য কোনও কারণ ছিল কি না, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খেলাধুলোর স্বপ্ন নিয়ে সাই হোস্টেলে থাকা দুই কিশোরীর এমন পরিণতিতে শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। এখনও পর্যন্ত পরিবারের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, দশ বছর আগে কেরলের আলাপুঝায় সাইয়ের হস্টেলে আত্মঘাতী হয়েছিলেন ওয়াটার স্পোর্টস সেন্টার’-এর এক ছাত্রী। ঘটনাস্থল থেকে মিলেছিল সুইসাইড নোট। ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছিল সাই কর্তৃপক্ষের দিকে। অভিযোগ ছিল, সিনিয়র ও কোচেদের মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারের জেরে চরম সিদ্ধান্ত নেয় ওই ছাত্রী। ওই ঘটনায় ক্রীড়া মন্ত্রকের তরফে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর পাশাপাশি মৃত খেলোয়াড়ের পরিবারকে সরকারের তরফে ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়। এবার আবার সেই কেরলেই সাইয়ের হস্টেলে দুই ছাত্রীর রহস্যমৃত্যুর ঘটনা ঘটল।