শেষ সারিতে বঙ্গ! আর্থিক স্বাস্থ্য ভাল নয় রাজ্যের, বলছে নীতি আয়োগের রিপোর্ট

সামগ্রিক ভাবে নীতি আয়োগের আর্থিক স্বাস্থ্যের রিপোর্ট বলছে, গত বছরের মতোই ওড়িশা দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে। গোয়া, ঝাড়খণ্ড উপরের দিকে উঠে এসেছে।

Published on: Mar 12, 2026 1:54 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

আর্থিক স্বাস্থ্যের মাপকাঠিতে দেশের ১৮টি বড় রাজ্যের মধ্যে শেষ সারিতে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। এমনটাই জানাল নীতি আয়োগের রিপোর্ট। নীতি আয়োগের মতে, রাজ্যগুলির মধ্যে একবারে শেষে রয়েছে কেরল, পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং পাঞ্জাব।

আর্থিক স্বাস্থ্য ভাল নয় রাজ্যের (PTI)
আর্থিক স্বাস্থ্য ভাল নয় রাজ্যের (PTI)

নীতি আয়োগ আর্থিক স্বাস্থ্যের মাপকাঠিতে রাজ্যগুলি কে কোথায় রয়েছে, তা নিয়ে ২০২৬-এর দ্বিতীয় বার্ষিক রিপোর্ট পেশ করেছে। গত বছর প্রথম রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল। গত বছরও পশ্চিমবঙ্গ শেষ সারিতেই ছিল। এবারও নীতি আয়োগ জানিয়েছে, উন্নয়ন খাতে খরচ ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধির সাফল্যের মাপকাঠিতে পশ্চিমবঙ্গে সামান্য উন্নতি হয়েছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিষেবা ক্ষেত্রে মূলধনী খাতে খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। যার অর্থ, আর্থিক পরিকাঠামো ও সামাজিক পরিকাঠামোতে জোর দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের নিজস্ব আয় যথেষ্ট বেড়েছে। দু’বছরে প্রায় ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। রাজকোষ ঘাটতি লাগামের মধ্যেই রয়েছে। কিন্তু ঋণের বোঝা এবং পুরনো ঋণে সুদ মেটাতে গিয়ে রাজস্ব আয়ের পাঁচ ভাগের এক ভাগ খরচ হয়ে যাচ্ছে। তার ফলে রাজস্ব খাতে খরচ খুব বেশি বাড়ছে না। যার অর্থ, রাজ্য সরকারের কাছে অর্থপূর্ণ বিনিয়োগের সুযোগ কম।

সামগ্রিক ভাবে নীতি আয়োগের আর্থিক স্বাস্থ্যের রিপোর্ট বলছে, গত বছরের মতোই ওড়িশা দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে। গোয়া, ঝাড়খণ্ড উপরের দিকে উঠে এসেছে। প্রথম পাঁচে রয়েছে মহারাষ্ট্র, গুজরাটও। হরিয়ানা এক বছরে প্রভূত উন্নতি করেছে। বিহার, কর্ণাটক, তেলাঙ্গানা সামান্য উন্নতি করেছে। কিন্তু পাঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ, কেরল পিছনের সারিতেই থেকে গিয়েছে। নীতি আয়োগের রিপোর্ট বলছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০২১-২২ থেকে ২০২৩-২৪-এর মধ্যে উন্নয়ন খাতে খরচ ১৫ শতাংশ বাড়িয়েছে। আর্থিক বৃদ্ধি, কল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়মিত ভাবে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তার সঙ্গে এই দু’বছরে সামাজিক ও আর্থিক পরিষেবা ক্ষেত্রে খরচ দ্বিগুণ বেড়েছে। পরিকাঠামো, যোগাযোগ, সামাজিক মূলধন তৈরিতে গুরুত্ব বাড়ছে। কর ছাড়া অন্য আয়ও দ্বিগুণ বেড়েছে। ২০২৪-২৫-এ রাজকোষ ঘাটতি রাজ্যের জিডিপি-র ৩ শতাংশের সীমার মধ্যেই ছিল। ২০২৫-২৬-এ রাজকোষ ঘাটতি ৩.১ শতাংশে বেঁধে রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুরনো ঋণে সুদ বাবদ খরচ ৭ শতাংশ বেড়ে ৪০,০১৭ কোটি টাকা থেকে ৪২,৬২০ কোটি টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। রাজ্যের ঋণের পরিমাণ রাজ্যের জিডিপি-র ৩৮ শতাংশ। পুরনো ঋণের বোঝা ১০ শতাংশ বেড়ে এখন ৬.৪ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।