জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা! বিধানসভা ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন রাজ্যপাল, তামিলভূমে ফের সংঘাত...
মঙ্গলবার ঘটনার ফলে ফের একবার তামিলভূমে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল।
ফের তামিলভূমে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত। মঙ্গলবার তামিলনাড়ু বিধানসভার অধিবেশনের শুরুতে অশান্তিকে ঘিরে দক্ষিণী রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আরএন রবি বিধানসভার অধিবেশনের প্রথম দিনে নিজের বক্তব্য পাঠ না করে বেরিয়ে যান। কারণ হিসেবে তিনি জানান, জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা করা হয়েছে বিধানসভায়। আর ঠিক সেই কারণেই তিনি সেই জায়গায় থাকতে সম্মত হননি।

মঙ্গলবার তামিলনাড়ু বিধানসভার অধিবেশন সূচনার আগে রীতি মেনে রাজ্যপালের ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজ্যপাল আরএন রবি ভাষণ পড়তে রাজি হননি এবং বছরের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে প্রথাগত ভাষণ না দিয়েই বিধানসভা থেকে বেরিয়ে যান। ঠিক কী ঘটেছে সেখানে? সূত্রের খবর, এদিন সকাল ৯ টা ৩০ মিনিট নাগাদ বিধানসভায় কার্যপ্রণালী শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই, স্পিকার এম আপ্পাভু রাজ্যপালকে প্রতিষ্ঠিত নিয়ম ও রীতিনীতি মেনে চলার এবং শুধুমাত্র রাজ্য সরকার কর্তৃক অনুমোদিত প্রথাগত ভাষণটি পাঠ করার আহ্বান জানান। কোষাগার বেঞ্চের আপত্তির মধ্যে হস্তক্ষেপ করে, স্পিকার আইন প্রণয়ন পদ্ধতির প্রাধান্য জোর দিয়ে বলেন, 'কেবলমাত্র বিধায়করা সংসদে মতামত প্রকাশ করতে পারেন, অন্য কেউ নয়।' রাজ্যপাল রবি সংসদের কক্ষ থেকে ঘটনা প্রসঙ্গে জানান, এই ঘটনা 'দুর্ভাগ্যজনক' যে, তাঁর বক্তৃতার মাঝে বাধা দেওয়া হয়েছে। তিনি কার্যধারা পরিচালনার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে আরও বলেন, 'আমি হতাশ। জাতীয় সঙ্গীতকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি।'
এর কিছুক্ষণ পরেই, রাজ্যপাল ভাষণ শেষ না করেই অর্থাৎ প্রথাগতভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তৃতা প্রদান না করেই বিধানসভা থেকে ওয়াক আউট করেন, বেরিয়ে যান। কেবল বক্তৃতার মাঝে থামিয়ে দেওয়া কিংবা জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননাই নয়, তামিলনাড়ুর রাজ্যপালের দাবি, তাঁর বক্তব্যের সময়, মাইল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে রাজ্যপালের দফতর থেকে ওয়াকআউটের কারণ ব্যাখ্যা করে একটি বিবৃতি জারি করে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজ্যপালের 'মাইক্রোফোন বারবার বন্ধ' করে দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁকে তাঁর বক্তৃতা সঠিকভাবে বলতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এতে আরও বলা হয়েছে যে প্রস্তুত ভাষণে 'অসংখ্য অপ্রমাণিত দাবি এবং বিভ্রান্তিকর বক্তব্য' রয়েছে এবং রাজ্যপালের উত্থাপিত উদ্বেগের বেশ কয়েকটি বিষয় পাঠ্যে প্রতিফলিত হয়নি। বিবৃতিতে জোর দেওয়া হয়েছে, মানুষের সমস্যার কথা কিছু লেখা ছিল না। বিনিয়োগ এবং মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে যে ১২ লক্ষ কোটির উল্লেখ ছিল, তা নিয়ে বিশেষ ভাবে আপত্তি জানিয়েছে রাজ্যপালের দফতর।
কী বলছে ডিএমকে?
এর পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি শাসক দল ডিএমকে। খোদ তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি জানান, বিধানসভার ১০০ বছরের সংস্কৃতির অপমান করেছেন রাজ্যপাল। এ প্রসঙ্গে ডিএমকে-র প্রতিষ্ঠাতা সিএল আন্নাদুরাইকে উদ্ধৃত করে করে তিনি বলেন, 'ছাগলের দাড়ির কী প্রয়োজন…আর রাজ্যের কী প্রয়োজন রাজ্যপালকে?' রাজ্যপাল ও তাঁর দফতরকে কোনও ভাবেই অপমান করা হয়নি, বরং রাজ্যপাল নিজে তামিলবাসীকে সম্মান জানাতে ব্যর্থ বলেও মন্তব্য করেন স্ট্যালিন।
এদিনের ঘটনার ফলে ফের একবার তামিলভূমে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল। তবে অ-বিজেপি রাজ্যগুলিতে নির্বাচিত সরকার এবং কেন্দ্রের প্রতিনিধি রাজ্যপালের মধ্যে সংঘাতের খবর নতুন কিছু নয়। রাজ্যের পাঠানো বিল গায়ের জোরে আটকে রেখেছেন বলে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যায় ডিএমকে সরকার। চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসে বিধানসভা নির্বাচন তামিলনাড়ুতে। তার আগে ফের সংঘাত দেখে দিল।
E-Paper











