পাকিস্তানি নয় ভারতীয়! সিডনির মৃত্যুমিছিলের নেপথ্যে ২ আততায়ীর পরিচয় প্রকাশ্যে

দাভাও ফিলিপিন্সের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান দ্বীপ মিন্দানাওয়ে অবস্থিত। মিন্দানাওয়ের মধ্য ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের দারিদ্রপীড়িত এলাকায় ইসলামপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সক্রিয়।

Published on: Dec 16, 2025 2:05 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ইহুদিদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলাকালীন সিডনির বন্ডি বিচে ২ বন্দুকবাজের হামলায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে বিশ্বজুড়ে। ইতিমধ্যে এই ঘটনাকে 'জঙ্গি হামলা' বলে ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, বিগত তিন দশকে এটাই অস্ট্রেলিয়ার 'ডেডলিয়েস্ট শুটিং।' ২ আততায়ীর মধ্যে একজনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। আরেকজনকে গুরুতর জখম অবস্থায় পাকড়াও করে পাঠানো হয় হাসপাতালে। আর এই হামলার পিছনে রয়েছে এক বাবা এবং ছেলে। বছর পঞ্চাশের সাজিদ আকরাম এবং তাঁর ছেলে নাভিদ আকরাম। এবার নিহত হামলাকারী সাজিদকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।

সিডনির মৃত্যুমিছিলের নেপথ্যে ২ আততায়ীর পরিচয় প্রকাশ্যে (AFP)
সিডনির মৃত্যুমিছিলের নেপথ্যে ২ আততায়ীর পরিচয় প্রকাশ্যে (AFP)

জানা গেছে, সিডনি সমুদ্র সৈকতে হামলায় জড়িত সাজিদ আকরাম একজন ভারতীয় নাগরিক। হামলাকারী বাবা ও ছেলে গত মাসে ফিলিপিন্সে গিয়েছিল। তাঁরা ১ নভেম্বর ফিলিপিন্সে যায়, ২৮ নভেম্বর সে দেশ ছাড়ে। ফিলিপিন্সের অভিবাসন দফতর জানিয়েছে, সাজিদ আকরাম ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে এবং ছেলে নাভিদ আকরাম অস্ট্রেলিয়ার পাসপোর্ট নিয়ে ফিলিপিন্স গিয়েছিল। এই দুই ব্যক্তি ফিলিপিন্সের অভিবাসন কর্মকর্তাদের জানিয়েছিল, দেশটিতে তাঁদের শেষ গন্তব্য দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দাভাও। ফিলিপিন্সের অভিবাসন দফতরের মুখপাত্র ডানা স্যান্ডোভাল বলেন, দাভাও থেকে তাঁরা অস্ট্রেলিয়া ফেরার বিমানে ওঠে, তাঁদের গন্তব্য ছিল সিডনি। দাভাও ফিলিপিন্সের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান দ্বীপ মিন্দানাওয়ে অবস্থিত। মিন্দানাওয়ের মধ্য ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের দারিদ্রপীড়িত এলাকায় ইসলামপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সক্রিয়। অস্ট্রেলিয়া পুলিশও গত মাসে দুই বন্দুকধারীর ফিলিপিন্স ভ্রমণে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পুলিশের পক্ষে থেকে মঙ্গলবার বলা হয়, তাঁরা কী কারণে ফিলিপিন্সে গিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফিলিপিন্স পুলিশও বিষয়টি তদন্ত করছে।

সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, নাভিদ আকরাম একজন অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত নাগরিক। তার বাবা সাজিদ ১৯৯৮ সালে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিল। এরপর ২০০১ সালে তা স্থানান্তরিত হয় পার্টনার ভিসা এবং তার পরবর্তীতে রেসিডেন্ট রিটার্ন ভিসায়। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ বলেছেন, নাভিদ জন্মসূত্রে সে দেশের নাগরিক। ২০১৯ সালের অক্টোবরে সে অস্ট্রেলিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশন (এএসআইও) নামের গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে।আলবানিজ বলেন, তখন তাঁর মধ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করার মতো কোনও হুমকির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। মূলত তাঁর কিছু পরিচিতজনকে ঘিরে এএসআইওর উদ্বেগ ছিল, নাভিদের ব্যক্তিগত আচরণ বা চরিত্র নিয়ে নয়। হামলাকারী নাভিদ আকরামের এক সহকর্মী জানিয়েছেন, নাভিদের বাবা সাজিদ আকরাম ভারতের নাগরিক এবং তার মা ইতালির নাগরিক। তিনি বলেন, 'আমরা এ হামলার কথা ভাবতেও পারিনি, আমরা প্রায়শই তার কাছে অস্ত্র লাইসেন্স থাকার কথা বলতাম।'

অন্যদিকে, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সোমবার অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওয়ং-এর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি বন্ডি বিচে ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী হামলার পর ভারতের দৃঢ় সংহতি এবং পূর্ণ সমর্থন জানান। ফোন কথোপকথনের সময় জয়শঙ্কর নিরপরাধ মানুষের মৃত্যুর জন্য ভারতের সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং জঙ্গিবাদ বিরোধী ভারতের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। পরে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় কথোপকথনের বিস্তারিত শেয়ার করে জানান যে, তিনি হামলার পর অস্ট্রেলিয়ার প্রতি ভারতের গভীর সহমর্মিতা এবং সমর্থন পৌঁছে দিয়েছেন। ইহুদিদের উৎসব ‘হানুক্কা’ চলাকালীন সিডনির০ বন্ডি বিচে ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার প্রধানমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডলে এক পোস্টে তিনি জানান, ‘আজ অস্ট্রেলিয়ার বন্ডি বিচে ইহুদি উৎসব হানুক্কার প্রথম দিন উদযাপনকারী লোকজনকে লক্ষ্য করে ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে, আমি স্বজন হারানো পরিবারগুলোর প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই। দুঃখের এই মুহূর্তে আমরা অস্ট্রেলিয়ার জনগণের পাশে আছি। সন্ত্রাসবাদের প্রতি ভারতের জিরো টলারেন্স রয়েছে, আমরা যে কোনও রূপে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইকে সমর্থন করি।'