৮ বার ফোনে কথা PM মোদী-ট্রাম্পের! US-র দাবি পত্রপাঠ খারিজ নয়া দিল্লির

বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ব্যক্তিগত যোগাযোগের কোনও ঘাটতি নেই।

Published on: Jan 09, 2026 7:00 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

'আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।' রাশিয়ান স্যাংশন বিল নিয়ে ইঙ্গিতবাহী বার্তা দিল বিদেশ মন্ত্রক। ২০২৫ সালের আগস্ট মাস থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক ধাক্কায় ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ভারতীয় পণ্যের উপর। এরমধ্যেই নতুন বছরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন একটি আইন পাশ করানোর পক্ষে অনুমোদন দিয়েছেন, যেটি কার্যকর হলে ভারতের উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বলবৎ করতে পারবে হোয়াট হাউস। যে বিলের নাম 'রাশিয়ান স্যাংশন বিল।' রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ তৈরি করতে গিয়ে ট্রাম্প বেছে বেছে চিন, ভারত ও ব্রাজিলকে সবথেকে বেশি টার্গেট করেছেন।

US-র দাবি পত্রপাঠ খারিজ নয়া দিল্লির (ANI Video Grab)
US-র দাবি পত্রপাঠ খারিজ নয়া দিল্লির (ANI Video Grab)

এই প্রসঙ্গে শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারতের জ্বালানি আমদানি নীতি সম্পূর্ণভাবে দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা এবং বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। তিনি বলেন, 'আমরা প্রস্তাবিত বিলটি সম্পর্কে অবগত। আমরা গোটা ঘটনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।' অন্যদিকে, সম্প্রতি মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেননি। যার জেরেই ভারতকে আকাশছোঁয়া ৫০ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে এবং আরও শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের এই দাবিকে সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ব্যক্তিগত যোগাযোগের কোনও ঘাটতি নেই। বরং ২০২৫ সালেই দু'জনে অন্তত আটবার ফোনে কথা বলেছেন।

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। দু’জনেই সব সময় কূটনৈতিক রীতিনীতি মেনে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে কথা বলেছেন।' তাঁর কথায়, ব্যক্তিগত যোগাযোগের অভাবে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি আটকে রয়েছে, এই দাবি সম্পূর্ণ ভুল। তিনি আরও জানান, গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে দুই দেশের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে উপকারী বাণিজ্য চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছনো গিয়েছিল। ভারত বরাবরই দুটি পরিপূরক অর্থনীতির মধ্যে ন্যায্য ও টেকসই চুক্তির পক্ষে, সেই অবস্থানেই দেশ অনড় রয়েছে।

কী বলেছিলেন মার্কিন বাণিজ্য সচিব?

এক পডকাস্টে মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক বলেন, ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বাণিজ্য চুক্তিটি নীতিগত মত পার্থক্যের কারণে নয়, বরং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে অস্বীকারের কারণেই ব্যর্থ হয়েছে। পুরো বাণিজ্য চুক্তিটি প্রস্তুত ছিল, কিন্তু সেটিকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদীর, ট্রাম্পকে ফোন করা প্রয়োজন ছিল। তাঁর কথায়, 'পুরো চুক্তিটি প্রস্তুত ছিল। কিন্তু বিষয়টি স্পষ্ট করে বলা যাক, এটি ছিল তাঁরই (প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প) দেখানো পথে (ট্রাম্পের) চুক্তি। তিনিই চুক্তি সম্পন্নকারী। তিনিই চুক্তি করেন। শুধু মোদীকে প্রেসিডেন্টের কাছে ফোন করতে হতো। কিন্তু তাঁরা (ভারত) সেটি করতে স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। মোদী ফোন করেননি।' মার্কিন বাণিজ্য সচিব আরও বলেন, 'আমরা ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স এবং ভিয়েতনামের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছি। আমরা তাদের আগেই ভারতের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তির কথা ভেবেছিলাম।'