ভারতের জন্য বড় ধাক্কা! H-1B ভিসার যাচাই প্রক্রিয়াও কঠোর করল ট্রাম্প প্রশাসন

ভারত, চিন-সহ বহু দেশ থেকে কর্মী টানার ক্ষেত্রে এই ভিসা মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Published on: Dec 04, 2025 12:20 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসা আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া আরও বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। একই সঙ্গে স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক অভ্যন্তরীণ স্মারকে বলা হয়েছে, যাঁরা স্বাধীন মত প্রকাশে ‘সেন্সরশিপ’-এর সঙ্গে জড়িয়ে আছেন, তাঁদের আবেদন বাতিল করা যেতে পারে।

H-1B ভিসার যাচাই প্রক্রিয়াও কঠোর করল ট্রাম্প প্রশাসন (Bloomberg)
H-1B ভিসার যাচাই প্রক্রিয়াও কঠোর করল ট্রাম্প প্রশাসন (Bloomberg)

ট্যারিফের পর সেপ্টেম্বরে এইচ-১বি ভিসা নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এইচ-১বি ভিসার জন্য ১ লক্ষ মার্কিন ডলার ফি চাপিয়েছেন পোটাস। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই মার্কিন মুলুকে কর্মরত বিভিন্ন দেশের কর্মীদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ে। প্রশাসনের দাবি ছিল, ভিসা প্রোগ্রামের 'অতিরিক্ত ব্যবহার' ও 'অপব্যবহার' কমানো এই আদেশের লক্ষ্য।এইচ-১বি ভিসা হল সেই পথ, যার মাধ্যমে মার্কিন নিয়োগকর্তারা বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করেন। ভারত এবং চিন-সহ বহু দেশ থেকে কর্মী টানার ক্ষেত্রে এই ভিসা মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশ্চর্য বিষয় হল, গতবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সেই সংস্থাগুলির অনেক কর্ণধারই ট্রাম্পের প্রতি তাঁদের সমর্থন জানিয়েছিলেন।

এইচ-১বি ভিসা প্রত্যাখানের নয়া নিয়ম

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, ২ ডিসেম্বরের বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সব মিশনে পাঠানো ওই গোপন তারবার্তায় বলা হয়েছে, মার্কিন কনস্যুলার অফিসারদের এইচ-১বি আবেদনকারী এবং তাঁদের সঙ্গে ভ্রমণকারী পরিবারের সদস্যদের বায়োডাটা বা লিংকডইন প্রোফাইল খতিয়ে দেখতে হবে। দেখতে হবে, তাঁরা ভুয়ো তথ্য, ভুল তথ্য, কনটেন্ট মডারেশন, ফ্যাক্ট-চেকিং, কমপ্লায়েন্স এবং অনলাইন নিরাপত্তার মতো কাজে যুক্ত ছিলেন কিনা। তারবার্তায় আরও বলা হয়েছে, ‘যদি আপনি এমন প্রমাণ পান যে, কোনও আবেদনকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুরক্ষিত মতপ্রকাশের সেন্সরশিপ বা সেন্সরশিপের চেষ্টায় দায়ী বা জড়িত ছিলেন, তবে ইমিগ্রেশন ও ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের একটি নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী ওই আবেদনকারীকে অযোগ্য বলে গণ্য করার প্রক্রিয়া শুরু করবেন।’ এইচ-১বি ভিসার এই বর্ধিত যাচাই-বাছাইয়ের, বিশেষত সেন্সরশিপ এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর জোর দেওয়ার বিষয়টির বিস্তারিত খবর আগে প্রকাশিত হয়নি। স্টেট ডিপার্টমেন্ট তারবার্তার বিষয়বস্তু নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।

তারবার্তায় বলা হয়েছে, সব ধরনের ভিসার আবেদনকারীর ক্ষেত্রেই এই নীতি প্রযোজ্য, তবে এইচ-১বি আবেদনকারীদের জন্য কঠোর পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ, তাঁরা প্রায়ই প্রযুক্তি খাতে কাজ করেন, ‘যার মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় বা আর্থিক পরিষেবা সংস্থাগুলিও আছে, যারা সুরক্ষিত মতপ্রকাশকে দমন করার কাজে লিপ্ত।’ এতে আরও বলা হয়, ‘আপনাকে তাঁদের কর্মজীবনের ইতিহাস গভীরভাবে অনুসন্ধান করতে হবে, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তাঁরা এমন কোনও কার্যকলাপে অংশ নেননি।’ নতুন এই যাচাইয়ের শর্তাবলি নতুন এবং পুরনো-উভয় ধরনের আবেদনকারীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

বাকস্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব

ট্রাম্প প্রশাসন বাকস্বাধীনতাকে, বিশেষত অনলাইনে রক্ষণশীল কণ্ঠস্বরকে রুদ্ধ করার প্রচেষ্টাকে, তাদের বিদেশনীতির কেন্দ্রে এনেছে। কর্মকর্তারা বারবার ইউরোপের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে যাচ্ছিলেন এবং সেখানে ডানপন্থী রাজনীতিবিদদের দমন করার নিন্দা করে গেছেন। তাঁদের মধ্যে রোমানিয়া, জার্মানি এবং ফ্রান্সের রাজনীতিবিদরাও আছেন। তাঁরা ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষকে ভুল তথ্য মোকাবিলার নামে অভিবাসন বিরোধী সমালোচনার মতো মতবাদকে সেন্সর করার অভিযোগ করেছেন। মে মাসে বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, যেসব ব্যক্তি আমেরিকানদের মতপ্রকাশে বাধা দেবে, এমনকী সোশ্যাল মিডিয়ায়ও, তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে এই নীতি মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে নিয়ন্ত্রণকারী বিদেশি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই যথেষ্ট কড়া করেছে। মার্কিন কনস্যুলার অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন এমন কোনও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট খুঁজে বের করেন, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি প্রতিকূল হতে পারে।