উদ্বেগ বাড়ল ভারতের! রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যে ৫০০ শতাংশ শুল্ক, নয়া বোমা ফাটালেন ট্রাম্প
রাশিয়ার তেল কেনার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।
ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির মাঝেই নতুন করে চাপ বৃদ্ধির আশঙ্কা। ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়ার সঙ্গে এখনও ব্যবসা করছে এমন দেশগুলির উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর পক্ষে জোর সওয়াল করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। এই মর্মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সেনেট আইনকেও সমর্থন করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। যার সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে ভারতের উপর।

জানা গিয়েছে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় ফের একবার শুল্কের আশ্রয় নিচ্ছেন ট্রাম্প। ফ্লোরিডা থেকে হোয়াইট হাউসের উদ্দেশ্যে রওনার সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের বলেন, 'রিপাবলিকানরা এমন কঠোর একটি আইন তৈরি করছে যা রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করা যে কোনও দেশের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে।' মার্কিন কংগ্রেসে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পর নতুন এই আইন আনার বিষয়টি আরও গতি পেয়েছে। এর আগে সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন অক্টোবরে বলেছিলেন যে, তিনি এই পদক্ষেপটি ভোটে আনতে প্রস্তুত ছিলেন কিন্তু তখনই তিনি এই বিষয়ে কোনও কোনও নির্দিষ্ট দিন বলতে চাননি। এই আইনে চিন এবং ভারত-সহ বিভিন্ন দেশ সরাসরি আক্রমণের মুখে পড়বে। এই দুই দেশ রাশিয়ার জ্বালানি কেনা মূল দেশ। এই তালিকায় ইরানকেও যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।
ওয়াশিংটনের বক্তব্য হল, রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারছে কিছু দেশের জন্য। আসলে সেই দেশগুলি রাশিয়া থেকে তেল এবং অন্যান্য জ্বালানি কিনছে। ফলে রাশিয়ার হাতে টাকা আসছে। তারা যুদ্ধ করছে। আর এখানেই আপত্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। তাই তারা রাশিয়ার থেকে যেই সব দেশ জ্বালানি কিনছে বা ব্যবসা করছে, তাদের উপর ইতিমধ্যেই শুল্ক বসিয়েছে। কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছে না। তাই তারা আরও বড় ধাক্কা দিতে দিতে মরিয়া। তাই এবার রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর বিল পাশ করানো হবে। ট্রাম্প যখন শুল্ক আরোপের কথা বলছেন, তার ঠিক আগেই অর্থাৎ শুক্রবার শুল্কনীতিতে কিছুটা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। দেশের অভ্যন্তরে ২০০টিরও বেশি খাদ্যপণ্যে শুল্ক কমানোর কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। এর ফলে মার্কিন বাজারে দাম কমতে চলেছে গোমাংস, কলা, কফি, কমলালেবুর রসের মতো একাধিক পণ্যের।
ভারতের উপর মার্কিন শুল্ক
রাশিয়ার তেল কেনার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে, ট্রাম্প ভারতীয় রপ্তানির উপর বিদ্যমান ২৫ শতাংশ পারস্পরিক শুল্কের উপরে ২৫ শতাংশ 'রাশিয়ান তেল' সারচার্জ যোগ করে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, ফলে শুল্কের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৫০ শতাংশ। ওয়াশিংটন বলেছে যে, এই পদক্ষেপটি রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রকে পরোক্ষভাবে অর্থায়নকারী দেশগুলিকে শাস্তি দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। যদিও, পরবর্তীকালে ভারতের বিষয়ে ওয়াশিংটন আগের তুলনায় নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। বেশ কিছুদিনের দ্বন্দ্ব কাটিয়ে ফের শুল্ক আলোচনা শুরু হয়। অন্যদিকে, বাণিজ্য নিয়ে ফের আশার আলো দেখা যাচ্ছে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে। মার্কিন প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক সম্প্রতি জানিয়েছেন যে ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় 'অনেক ইতিবাচক অগ্রগতি' দেখা যাচ্ছে। ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সের্জিও গর। শপথগ্রহণের অনুষ্ঠানে ট্রাম্প নিজেই ইঙ্গিত দেন, ভারতীয় আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে 'বড় ধরনের অগ্রগতি' ধরা দিতে পারে।












