UK MP on Bangladeshi Hindus: বাংলাদেশে হিন্দু নিধনের প্রতিবাদে সরব ব্রিটিশ সাংসদ, প্রশ্ন ইসলামি চরমপন্থীদের গণভোট নিয়ে

বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে ব্রিটিশ সংসদে সব হলেন কনজারভেটিভ সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের যেভাবে খুন করা হচ্ছে, সেখানে মন্দির ভাঙা হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। এরই সঙ্গে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টিও ব্রিটিশ সাংসদে উত্থাপন করেন ব্ল্যাকম্যান।

Published on: Jan 16, 2026 10:59 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে ব্রিটিশ সংসদে সব হলেন সেই দেশের সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যান। কনজারভেটিভ দলের এই সাংসদ ব্রিটিশ সরকারের কাছে এই ইস্যুতে পদক্ষেপ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের যেভাবে খুন করা হচ্ছে, সেখানে মন্দির ভাঙা হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। এরই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টিও ব্রিটিশ সাংসদে উত্থাপন করেন ব্ল্যাকম্যান। বাংলাদেশে নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার বিষয়ে স্টার্মারের সরকারের কাছে আবেদন জানান এই কনজারভেটিভ নেতা।

বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে ব্রিটিশ সংসদে সব হলেন কনজারভেটিভ সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যান।
বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে ব্রিটিশ সংসদে সব হলেন কনজারভেটিভ সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যান।

সংসদে বব ব্ল্যাকম্যান বক্তব্য রাখার সময় বলেন, 'আমি আজ বাংলাদেশের বিষয়টি উত্থাপন করতে চাই এখানে। বিদেশ সচিবকে আমার দলের নেতা এর আগেও লিখেছেন বাংলাদেশের দুর্দশা নিয়ে। রাস্তায় ফেলে হিন্দুদের খুন করা হচ্ছে সেখানে। তাঁদের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। মন্দির ধ্বংস করা হচ্ছে। অন্যান্য সংখ্যালঘুরাও এই একই ধরনের অত্যাচারের মুখোমুখি হচ্ছে সেখানে। পরের মাসে নাকি বাংলাদেশে তথাকথিত স্বচ্ছ নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে বাংলাদেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল, আওয়ামী লীগকে সেখানকার নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। এরই সঙ্গে ইসলামি কট্টরপন্থীরা একটি গণভোটের ডাক দিয়েছে। সেই গণভোট বাংলাদেশের সংবিধানকে চিরতরের মতো বদলে ফেলার জন্য করা হচ্ছে। এই বিষয়ে বিদেশ সচিব যেন পরের সপ্তাহে সরকারের অবস্থান ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন। আমাদের সরকার এই বিষয়ে কী করছে, তা যেন আমাদের জানানো হয়।' পরে ব্ল্যাকম্যানের বক্তব্যের জবাবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, মানবাধিকার রক্ষার্থে ইউনুস সরকারের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রেখে চলেছে ব্রিটেন।

উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশে ২ জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮-৯ জন হিন্দুকে খুন করা হয়েছে। ১২ জানুয়ারি ফেনিতে সমীরকুমার দাস নামে ২৮ বছরের অটোচালককে খুন করা হয়। ১০ জানুয়ারি সিলেটে খুন হন জয় মহাপাত্র। এর আগে মিঠুন সরকার তাড়া খেয়ে পালাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়ছিলেন বিলে ঝাঁপ দিয়ে। তার আগে গত ৫ জানুয়ারি ২ জন হিন্দুকে খুন করা হয়েছিল বাংলাদেশে। ঢাকার পার্শ্ববর্তী নর‌সিংদী‌তে খুন করা হয় এক হিন্দু ব্যবসাীকে। মৃতের নাম শরৎ চক্রবর্তী ম‌ণি, বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। নর‌সিংদীর পলাশ উপ‌জেলার চরসিন্দুর বাজারে নিজের মুদি দোকানে খুন হন তিনি। জানা গিয়েছে, দুষ্কৃতীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়েছিল মণির ওপর। ৫ জানুয়ারি যশোরে গুলি করে খুন করা হয় হিন্দু ব্যবসায়ী তথা সাংবাদিক রানাপ্রতাপ বৈরাগীকে। জানা যাচ্ছে, রানাকে তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ডেকে পাশে একটি ক্লিনিকের পাশে থাকা গলির মুখে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই রানাকে গুলি করা হয়। পরপর একাধিক গুলি চালায় আততায়ীরা। এছাড়া গত ২ জানুয়ারি খুন হয়েছিলেন সত্য রঞ্জন দাস। ৩ জানুয়ারি খুন হন মিলন দাস এবং সনু দাস। গত ৩১ ডিসেম্বরে হামলার শিকার খোকন চন্দ্র দাসেরও মৃত্যু হয় ৩ জানুয়ারি। ৪ জানুয়ারি খুন হন শুভ পোদ্দার। এর আগে ডিসেম্বরে দীপু চন্দ্র দাস এবং অমৃত মণ্ডলের খুনের ঘটনা সামনে এসেছিল সেই দেশে।

এদিকে ২ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে সত্যরঞ্জন দাসের ৯৬ শতক জমির ধান পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ৩ জানুয়ারি ভোরে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের মিলন দাসের বাড়ির সবাইকে আটক করে ডাকাতি চালানো হয়েছিল। একই দিনে কুমিল্লার হোমনার সানু দাসের ঘরে যেখান থেকে ১০ ভরি সোনা, ১২ ভরি রুপো ডাকাতি করা হয়েছিল। ঝিনাইদহে কালীগঞ্জে ৪০ বছরের এক হিন্দু বিধবা নারীকে ধর্ষণ করে তাঁর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছিল। দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার বাড়েয়া গ্রামের সন্তোষ কুমার রায়ের বাড়িতে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে স্থানীয় এনসিপি নেতা তফসির ও তার সহযোগী মঞ্জুরুল আলম পুলিশের হাতে আটক হয়।

এর আগে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ দাবি করেছিল, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে কমপক্ষে ৫১টি হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে সংখ্যালঘুদের ওপর। ডিসেম্বরে বাংলাদেশে হত্যা করা হয় ১০ জন হিন্দুকে। খুন হওয়া হিন্দুদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন দীপু চন্দ্র দাস এবং অমৃত মণ্ডল। তাঁদের নৃশংস খুনের ঘটনায় ভারতে প্রতিবাদ বিক্ষোভ প্রদর্শন হয়েছিল। এদিকে ডিসেম্বরে চুরি ও ডাকাতি ১০টি, বাড়িঘর-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান-মন্দির ও জমিজমা দখল, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ২৩টি ঘটনা রয়েছে। এছাড়া ধর্মীয় অবমাননা ও র’র দালালের মিথ্যা অভিযোগে আটক ও নির্যাতন ৪টি, ধর্ষণ চেষ্টা ১টি, দৈহিক নির্যাতন ৩টি।