২টি মোবাইল, ৫টি সিমকার্ড, ৬৫ CCTV ফুটেজ! দিল্লি বিস্ফোরণে নজরে উমরের গতিবিধি, তদন্তকারীরা বলছেন...
এই পুরো পরিকল্পনার মূল মাথা বলে ধরা হচ্ছে চিকিৎসক উমর উন নবিকে, যে নিজেই লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণে মারা গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার কাছে প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে, যা থেকে স্পষ্ট দেশজুড়ে বড়সড় হামলার ছক কষেছিল 'হোয়াইট কলার' জঙ্গি চক্র। ইতিমধ্যে দিল্লির বিস্ফোরণকে ‘আত্মঘাতী হামলা’ বলে নিশ্চিত করেছে এনআইএ। তারা জানিয়েছে, ঘাতক গাড়িতে বোঝাই করা হয়েছিল আইইডি বিস্ফোরক। এই পুরো পরিকল্পনার মূল মাথা বলে ধরা হচ্ছে চিকিৎসক উমর উন নবিকে, যে নিজেই লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণে মারা গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনও যে তথ্যগুলি হন্যে হয়ে খুঁজছে তদন্তকারী দল, সেগুলি জানা যাবে কীভাবে। মনে করা হচ্ছে, এক্ষেত্রে কার্যকরী হতে পারে দুটি ফোন।

উমর নবির শেষ গতিবিধি
তদন্তকারীদের দাবি, হরিয়ানার একটি মেডিক্যাল স্টোরের সিসিটিভি ফুটেজে দুটি মোবাইল হাতে দেখা গিয়েছিল উমর উন নবিকে। সেই সময় থেকেই এই ফোনগুলির থেকে তথ্য বের করাই ছিল তদন্তকারীদের উদ্দেশ্যে। উমরের সঙ্গে যুক্ত দিল্লি, ফরিদাবাদ-সহ কয়েকটি জায়গার পাঁচটি মোবাইল নম্বরের মালিক কে ও সেই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। কিন্তু ৩০ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বরের মধ্যে ব্যবহার করা তার দুটি নতুন নম্বর এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এগুলিকেই সবচেয়ে বড় মিসিং লিঙ্ক হিসেবে ধরা হচ্ছে। তদন্তে জানা গেছে, উমর তার ৫টি সিম কার্ড নিষ্ক্রিয় করে দেয় ৩০ অক্টোবর। ওই দিনেই তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ড. মুজাম্মিল শকিলকে ধরা হয়েছিল। কর্মকর্তাদের ধারণা, গ্রেফতারের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওমর তার সব পুরনো ট্রেস করার মতো ফোন ফেলে দেয় এবং দুটি নতুন প্রিপেইড নম্বর জাল পরিচয় দিয়ে নেয়।
জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ), দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ রাজধানী বিস্ফোরণে মূল অভিযুক্তের শেষ গতিবিধি সনাক্ত করতে মোট ৬৫টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্ক্যান করেছেন। এইচটি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফরিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৮০০ মিটার দূরে ধৌজ বাজারে একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় উমরের উপস্থিতি টের পাওয়া গিয়েছে। ৩০ অক্টোবর টাইমস্ট্যাম্প করা ফুটেজে দেখা গেছে, উমর একটি কালো ব্যাগ এবং দুটি ফোন হাতে নিয়ে একটি মেডিকেল স্টোরের ভেতরে বসে রয়েছে। ফুটেজে আরও দেখা গেছে, উমর একটি ফোন দোকানের মালিকের হাতে চার্জ দেওয়ার জন্য দিচ্ছে এবং অন্যটি তার হাতে রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, দুটি ফোনের একসঙ্গে ব্যবহার ইঙ্গিত দেয় যে একটি নিয়মিত যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল এবং অন্যটি হ্যান্ডলার এবং অপারেশনাল মেসেজিংয়ের জন্য ছিল। খলিলপুর এবং রেওয়াসান টোল প্লাজা হয়ে ফরিদাবাদ এবং শেষে দিল্লিতে উমরের গতিবিধি সনাক্ত করতে মোট ৬৫টি সিসিটিভি স্ক্যান করা হয়েছে। ১০ নভেম্বর বিস্ফোরণের প্রায় ১৮ ঘন্টা আগে, উমর ফিরোজপুর ঝিরকার একটি এটিএমের বাইরে গাড়ি নিয়ে আসে। তারপর এটিএম থেকে টাকা তোলার চেষ্টা করে। বিস্ফোরণে ব্যবহৃত আই-২০ গাড়িটি নিয়েই এসেছিল সে।
এটিএম-এ উমরের গতিবিধি
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এটিএমে কোনও টাকা না পেয়ে উমর গার্ডকে নগদ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রলুব্ধ করে। তারপর গার্ডকে নিয়ে অন্য একটি এটিএমে যায়। অবশেষে, নগদ থাকা একটি এটিএম খুঁজে পায়। উমর টাকা তুলে রাত ১:২৫ মিনিট নাগাদর একই এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের এটিএমের কাছে ফিরে আসে এবং গার্ডকে নামিয়ে দেয়। প্রায় ১০ মিনিট পরে, উমরের গাড়িটি দিল্লি-মুম্বই-বদোদরা এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে দিল্লির দিকে যেতে দেখা যায়। গার্ড মোহর সিং-এর বয়ান অনুসারে, উমর দাবি করে যে তার পরিবারে মেডিক্যাল এমার্জেন্সি রয়েছে এবং গার্ডকে তার সঙ্গে অন্য একটি এটিএম-এ যেতে রাজি করায়। সেখান থেকে উমর দুটি কিস্তিতে প্রায় ৭৬ হাজার টাকা তোলে। এরপর গার্ডকে পুরনো এটিএম-এ নামিয়ে দেয় উমর। তার আগে গার্ডকে ১০০০ টাকা টিপও দেয়। ওই গার্ড জানান, তিনি গাড়ির পিছনের সিটে বিছানার চাদরে ঢাকা জিনিসপত্র দেখেছেন। ওই দিন উমরকে খুব অস্থির দেখাচ্ছিল, ঠিক মতো গাড়িও চালাতে পারছিল না।












