'৬,৮৯৫টি হাজার সংস্থা...,' বঙ্গ-ত্যাগের খতিয়ান তুলে তৃণমূলকে প্রশ্নবাণে বিঁধলেন অর্থমন্ত্রী

রাজ্যসভায় সেন্ট্রাল এক্সারসাইজ বিল ২০২৫ পেশ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সেই বিল নিয়ে যুক্তি-তর্কে মাঝে পারদ চড়ে সংসদের উচ্চ কক্ষে।

Published on: Dec 05, 2025 5:36 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

গত ১৪ বছরে বাংলা ছেড়েছে প্রায় ৭ হাজার সংস্থা। যাঁদের মধ্যে ৪৪৮টি সংস্থা আবার শেয়ার বাজার নথিভুক্ত। রাজ্যসভায় অধিবেশনের মাঝে এমনই তথ্য দিয়েই তৃণমূল কংগ্রেসকে বিঁধলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। সংসদে শীতকালীন অধিবেশন চলছে। এই শীতকালীন অধিবেশনে বৃহস্পতিবার রাজ্যসভা উত্তাল হয়ে ওঠে পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর মন্তব্যে। রাজ্যের উন্নতি, তৃণমূল সরকারের ভূমিকা, কেন্দ্রীয় অনুদান, সবকিছু নিয়েই একের পর এক তীব্র প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তৃণমূলকে বিঁধলেন অর্থমন্ত্রী (ANI Video Grab)
তৃণমূলকে বিঁধলেন অর্থমন্ত্রী (ANI Video Grab)

কতগুলি সংস্থা বাংলা ছেড়েছে?

রাজ্যসভায় সেন্ট্রাল এক্সারসাইজ বিল ২০২৫ পেশ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সেই বিল নিয়ে যুক্তি-তর্কে মাঝে পারদ চড়ে সংসদের উচ্চ কক্ষে। সম্মুখ সমরে নামতে দেখা যায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী এবং তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ সাগরিকা ঘোষকে। বিল নিয়ে বিতর্কের মাঝের ‘বাংলার বঞ্চনা’ টেনে ধরেন তৃণমূল সাংসদ। বলেন, ‘আপনারা বাংলাকে এড়িয়ে চলা বন্ধ করুন।’ এরপরেই পাল্টা অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার বাংলাকে কখনওই কোনও কিছু থেকেই বঞ্চিত করেনি। বরং, তৃণমূলই বাংলার বিকাশে অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।’ এরপরেই বাংলা থেকে বিভিন্ন সংস্থার অন্যত্র চলে যাওয়ার একটি রিপোর্টও তুলে ধরেন তিনি। অর্থমন্ত্রী জানান, ‘গত ১৪ বছরে বাংলা ছেড়েছে মোট ৬ হাজার ৮৯৫টি সংস্থা। যাঁদের মধ্যে ৪৪৮টি লিস্টেড সংস্থা এবং বাকি ৬ হাজার ৪৪৭টি আনলিস্টেড।’ তাঁর কথায়, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গ আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'এটা কী বাংলার সাধারণ মানুষের জন্য ভালো সিদ্ধান্ত?'

কেন্দ্রীয় অর্থ বরাদ্দ

কেন্দ্রীয় অর্থ বরাদ্দের হিসেব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ কর বিচ্যুতি হিসেবে ৫.৯৪ লক্ষ কোটি টাকা পেয়েছে, যা আগের দশ বছরের তুলনায় ৪.৪ গুণ বেশি। রাজ্যে এইমস কল্যাণী তৈরি হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় স্পনসরড স্কিমের আওতায় ১১টি মেডিকেল কলেজ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। রেলের উন্নয়ন নিয়েও লম্বা তালিকা দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পশ্চিমবঙ্গ রেকর্ড ১৩,৯৫৫ কোটি টাকার রেল বাজেট পেয়েছে, ২০০৯-১৪ সালের তুলনায় যা প্রায় তিনগুণ। এছাড়া রাজ্যে ৩,৮৪৭.৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০১টি অমৃত ভারত স্টেশন তৈরি হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ১,৬৫০ কিলোমিটার রেলপথে বিদ্যুতায়ন হওয়ায় এখন পশ্চিমবঙ্গের ৯৮ শতাংশ রেললাইন বিদ্যুতায়িত। ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত রাজ্যে ২,৩০০ কিলোমিটারের বেশি জাতীয় সড়ক তৈরি হয়েছে বলেও তথ্য দেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এছাড়া ২০২৪ সালের অগাস্টে বাগডোগরা বিমানবন্দরের উন্নয়নের জন্য ১,৫৪৯ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র।

বাংলার বকেয়া

তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র সিআরআইএফ ফান্ড বন্ধ করেনি। তাঁর মতে, ২০০২-০৩ সাল থেকে কেন্দ্র মোট ১৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকা এই ফান্ড থেকে বিভিন্ন রাজ্যে দিয়েছে। এটা ১২.৬২ লক্ষ কোটি টাকার সেস আদায়ের প্রায় সমান। তাঁর দাবি, বাংলাকে ২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৫৪ হাজার কোটি টাকার বেশি ১০০ দিনের কাজে দেওয়া হয়েছে। পাল্টা তৃণমূল সাংসদরা সমস্বরে বলেন, বাংলার জন্য একটিও ছোট কারখানা কিংবা শিল্প প্রকল্প নরেন্দ্র মোদী সরকার করেছে তার প্রমাণ দিতে পারবেন না অর্থমন্ত্রী। এতগুলো বাজেট হয়ে গেল। বাংলার প্রাপ্তি নগণ্য। বাংলা থেকে পরাজিত হওয়ার প্রতিশোধ নিচ্ছে কেন্দ্র। শেষ পর্যন্ত প্রবল তর্কবিতর্কের পর রাজ্যসভা থেকে ওয়াক আউট করে তৃণমূল। এমনকী রাজ্যসভার তৃণমূলের নেতা ডেরেক ও ব্রায়ান পয়েন্ট অফ অর্ডার দিতে চেয়েও প্রত্যাখ্যাত হন। যা সাংসদদের অধিকারে হস্তক্ষেপ বলে অভিযোগ তৃণমূলের।

বঙ্গ-ত্যাগের খতিয়ান

শীতকালীন অধিবেশন চলাকালীন কেন্দ্রীয় কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের কাছেই বিভিন্ন সংস্থার বঙ্গ-ত্যাগের খতিয়ান চেয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। গত ১৪ বছরে কতগুলি সংস্থা বাংলা ছাড়ল, সেই প্রশ্নই করেছিলেন তিনি। তার উত্তরেই এই ৬ হাজার ৮৯৫টি সংস্থার বঙ্গ-ত্যাগের কথা জানিয়েছিলেন কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হর্ষ মলহোত্রা। এবার সেই তথ্য দিয়েই তৃণমূল সাংসদকে বিঁধলেন নির্মলা সীতারমন। শমীকের প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী আরও জানিয়েছিলেন, শেষ ছয় মাসেই বাংলা থেকে বিদায় নিয়েছে ২০৭টি সংস্থা। এমনকী গত বছর এই বিদায়ী সংস্থার পরিমাণ ছিল ৩৬৬টি। এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বিদায় নিয়েছে ২০১৭-১৮ সালে। মোট ১ হাজার ২৭টি।