FIFA 'Peace Prize' to Trump: দুধের স্বাদ ঘোলে মিটবে? নোবেল না পেলেও প্রথম ফিফা শান্তি পুরস্কার পেলেন ট্রাম্প
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ থামিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় 'গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা' পালন করায় ফুটবল নিয়ামক সংস্থা 'শান্তি পুরস্কার' দিল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। ট্রাম্পকে দেওয়া সার্টিফিকেটে লেখা - বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর পক্ষ থেকে এই শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী নিজেকে শান্তির দূত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে মরিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই তাই বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় যুদ্ধ ও সংঘাত থামানোর চেষ্টা করেছেন। নোবেল পেতে মরিয়া ট্রাম্প নিজেই একাধিকবার সেই কথা বলেছেন। এমনকী এবছর নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় 'বিষ্ময়' প্রকাশ করেছিলেন। সঙ্গে 'আশা' ব্যক্ত করেছিলেন যে আগামী বছর হয়ত তাঁকেই দেওয়া হবে সেই পুরস্কার। এই সবের মাঝেই প্রথম ফিফা শান্তি পুরস্কার পেলেন ট্রাম্প।
বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন জায়গায় ফুটবলের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। থেমেছে সংঘাত। এদিকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ থামিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় 'গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা' পালন করায় তাই ফুটবল নিয়ামক সংস্থা 'শান্তি পুরস্কার' দিল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। গতকাল ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ড্র ছিল। সেই অনুষ্ঠানের শুরুতেই ট্রাম্পের হাতে শান্তি পুরস্কার তুলে দেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইফান্তিনো। ট্রাম্পকে দেওয়া সার্টিফিকেটের একাংশ পড়েও শোনানো হয় সেই অনুষ্ঠানে। সেই সার্টিফিকেটে লেখা - বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর পক্ষ থেকে এই শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প অনেক ক্ষেত্রেই সংঘাত থামাতে সদর্থক ভূমিকা পালন করলেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনও থামাতে পারেননি তিনি। এদিকে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বন্ধের কৃতিত্ব ভুয়োভাবে দাবি করে এসেছেন তিনি। ট্রাম্প প্রায় সময়ই জপ করার মতো একবার করে দাবি করে চলেন, তিনি ৭-৮টা যুদ্ধ থামিয়েছেন। তার মধ্যে অন্যতম হল ভারত-পাক যুদ্ধ। উল্লেখ্য, অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে ট্রাম্প একাধিকবার ভারত-পাকের সংঘর্ষবিরতিতে মধ্যস্থতার কৃতিত্ব নিতে চেয়েছেন। তাঁর দাবি, বাণিজ্য আলোচনাকে হাতিয়ার করে ভারত-পাক সংঘাত থামান তিনি। তবে নয়াদিল্লি বারবার এই দাবি অস্বীকার করে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করার সংঝোতা দ্বিপক্ষীয়ভাবে হয়েছে। পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) ভারতীয় ডিজিএমও-কে ফোন করে হামলা ব্ধের আর্জি জানিয়েছিলেন। এই আবহে ভারত এবং আমেরিকার সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল। অন্যদিকে ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছিল পাকিস্তান। তবে ভারত সেই সবে পাত্তা দেয়নি। এই সবের মাঝেই ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্কের বোঝা চাপিয়েছেন ট্রাম্প। মোদীকে একটা সময় ৪ বার ফোন করলেও মোদী কথা বলেননি ট্রাম্পের সঙ্গে। জি৭ সম্মেলনের সময় ফোনে কথোপকথন চলাকালীন ট্রাম্পের সংঘর্ষবিরতি দাবির বিরুদ্ধে সরবও হয়েছিলেন মোদী। তবে ট্রাম্পের দাবি ছিল, তিনি নাকি বাণিজ্যকে হাতিয়ার করে ভারত-পাক যুদ্ধ থামিয়েছিলেন। তবে সেই বাণিজ্য চুক্তি আজও সম্পন্ন হল না ভারত-আমেরিকার সঙ্গে। অপরদিকে নোবেল শান্তি পুরস্কারও পাননি ট্রাম্প। আর এখন ফিফার এই পুরস্কার যেন দুধের বদলে ঘোলের মতো।












