'হোল্ড অন...,' PM মোদী-ট্রাম্পের 'প্রকৃত বন্ধুত্বের' প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, তিনি 'গভীর শ্রদ্ধা' ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার স্পষ্ট ম্যান্ডেট নিয়ে ভারতে এসেছেন।

Published on: Jan 13, 2026 1:59 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভারতে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ভাষণেই নয়া দিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত রসায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৃত বন্ধুদের মধ্যেও দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু তাঁরা সব সময় আলোচনার মাধ্যমে সেই মতপার্থক্য মিটিয়ে ফেলেন।

ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত (HT_PRINT)
ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত (HT_PRINT)

সোমবার নয়া দিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসে ভারতে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত‌ হিসাবে সার্জিও গোর শপথ বাক্য পাঠ করেন।‌ মঞ্চে যখন তিনি শপথ গ্রহণ করছেন, ঠিক সেই সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে স্যাম অ্যান্ড ডেভের সোল ক্লাসিক 'হোল্ড অন, আই'ম কামিং' গানটি চলছিল। নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত এমন এক সময় ভারতে এলেন, যখন ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ থামিয়েছেন বলে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন প্রেসি়ডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর ভারত প্রথম থেকেই এই দাবি নস্যাৎ আসছে। সেই সঙ্গে গত আগস্টে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর থেকেই দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা জটিল হয়ে ওঠে। এই শুল্কের মধ্যে রাশিয়ার তেল কেনাকে কেন্দ্র করে আরোপিত অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও রয়েছে।

মোদী-ট্রাম্প সম্পর্ক

নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে সার্জিও গোর বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যকার সম্পর্ক একটি দৃঢ় ব্যক্তিগত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে। তিনি বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সারা বিশ্ব ভ্রমণ করেছি এবং আমি হলফ করে বলতে পারি যে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব অত্যন্ত গভীর ও অকৃত্রিম। আমাদের দুই দেশ শুধু অভিন্ন স্বার্থেই নয়, বরং সর্বোচ্চ পর্যায়ের এক দৃঢ় সম্পর্কের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত।’ এরপরেই তিনি বলেন, ‘প্রকৃত বন্ধুরা মতবিরোধ করতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা সব সময়ই তা মিটিয়ে ফেলে।'

ট্রাম্পের ভারত সফরের সম্ভাবনা

ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, তিনি 'গভীর শ্রদ্ধা' ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার স্পষ্ট ম্যান্ডেট নিয়ে ভারতে এসেছেন। বিশ্বের প্রাচীনতম গণতন্ত্র ও বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের মধ্যকার অংশীদারিত্ব হিসেবে এই সম্পর্ককে বর্ণনা করে গোর বলেন, তাঁর লক্ষ্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সম্পর্ককে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়া। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভারত সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। সাম্প্রতিক একটি কথোপকথনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ট্রাম্প তাঁর শেষ ভারত সফর এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্কের কথা উষ্ণতার সঙ্গে উল্লেখ করেছিলেন। গোর বলেন, 'আমি আশা করি, শীঘ্রই প্রেসিডেন্ট আমাদের সঙ্গে দেখা করতে আসবেন, সম্ভবত আগামী এক-দুই বছরের মধ্যেই।' রসিকতার সুরে তিনি যোগ করেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভোর ২টোর সময় ফোন করার একটা অভ্যাস আছে এবং নয়া দিল্লির সঙ্গে সময়ের পার্থক্যে, এটা খুব ভাল বিষয় হয়ে উঠতে পারে।'

সার্জিও গোর কে?

হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছায়া সঙ্গী বলে পরিচিত সার্জিও গোর। মার্কিন প্রেসিডেন্টর দায়িত্বে থাকা কর্মী-আধিকারিকদের অধিকর্তার পদ সামলেছেন তিনি। ৩৯ বছর বয়সি এই ব্যক্তিগত আধিকারিককে ভারতে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত‌ হিসাবে আগেই বাছাই করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে তাঁকে বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ এবং মধ্যে এশিয়ায়। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত হিসাবে কাজ করবেন। এর আগে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্সিয়াল পার্সোনাল ডিরেক্টর হিসেবে সার্জিও এবং তাঁর দলের সদস্যরা রেকর্ড সময়ের মধ্যে ফেডেরাল গভর্নমেন্টের বিভিন্ন দফতরে প্রায় ৪ হাজার জনকে নিয়োগ করেছেন। গোরের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা একাধিক কারণের মধ্যে দুটি হল, গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দ্বিতীয় কারণ হল, ট্রাম্পের সমৃদ্ধ আমেরিকা প্রচারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন হোয়াইট হাউসের এই আধিকারিক।

সার্জিও গোর জন্মসূত্রে উজবেক। উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে জন্ম। তাঁর পুরো নাম সার্জিও গরকোভস্কি। সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের পর ছয় বছর বয়সি গোরকে নিয়ে তাঁর বাবা-মা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন। গোরকে ভারতের মতো বিশাল এবং দক্ষিণ এশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশের রাষ্ট্রদূত বাছাই করা নিয়ে অনেকেই বিস্মিত। বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয়ে এই অঞ্চলের সঙ্গে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে। মার্কিন স্কলারশিপ বিভাগের দায়িত্ব সামলানোর সময়ে যতটুকু ধারণা হয়েছে। তাকে অভিজ্ঞতা বলা চলে না।