খলিস্তানি উদ্বেগের প্রতিধ্বনি! আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে গোপন বৈঠক USর, কানাডা...

সম্প্রতি আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারা একাধিকবার বৈঠক করেছেন।

Published on: Feb 01, 2026 5:27 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

তেলের জন্য কতটা মরিয়া হয়ে উঠতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সেটা ভেনেজুয়েরার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়েই টের পেয়েছে গোটা বিশ্ব। এবার ট্রাম্পের নজর কানাডার আলবার্টা প্রদেশের দিকে। গ্রিনল্যান্ড থেকে চোখ সরিয়ে এখন আলবার্টা দখলের ছক কষছেন তিনি। কানাডা থেকে আলাদা হতে মদত দিচ্ছেন আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে। এই আবহে প্রশ্ন উঠছে, আলবার্টাকে কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবেন কী ট্রাম্প? এতে ট্রাম্পের লাভই বা কী?

আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে গোপন বৈঠক USর
আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে গোপন বৈঠক USর

সূত্রের খবর, সম্প্রতি আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারা একাধিকবার বৈঠক করেছেন। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সম্পর্কে আবারও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যা কানাডার মাটি থেকে পরিচালিত খলিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ সম্পর্কে ভারতের দীর্ঘদিনের অভিযোগ প্রতিফলিত করছে।আলবার্টা প্রসপেরিটি প্রোজেক্ট (এপিপি) নামক বিচ্ছিনতাবাদী দলটি আলবার্টার স্বাধীনতার জন্য গণভোট আয়োজনে চাপ দিচ্ছে। জানা গেছে, ইতিমধ্যে এই গোষ্ঠীটির নেতাদের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছেন মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের কর্মকর্তারা। আগামী মাসে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরও একটি বৈঠকের পরিকল্পনা করছেন তাঁরা। তবে এপিপি নাকি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের কাছ থেকে থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলার ঋণ চাইবে, এই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস এই বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখানোর চেষ্টা করেছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিভিন্ন নাগরিক সমাজের সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করে থাকেন, তবে আলবার্টা প্রসঙ্গে কোনও ধরনের সমর্থন বা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। তবুও এই খবরে কানাডায় ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক আরোপ ও ভূখণ্ডগত হুমকির মুখে যখন দেশটি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে, তখন এমন বৈঠকের খবর নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে। প্রতিবেশী প্রদেশ ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার নেতা আলবার্টার এই উদ্যোগকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল’ বলে মন্তব্য করেছেন। আলবার্টা কানাডার পশ্চিমাঞ্চলের একটি তেলসমৃদ্ধ প্রদেশ, আয়তনে প্রায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সমান। প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষের বসবাস এই প্রদেশে। রকি পর্বতমালা, ব্যানফ ও লেক লুইসের মতো পর্যটন কেন্দ্র এখানেই অবস্থিত। প্রদেশটি তার শক্তিশালী জ্বালানি ও কৃষি খাত, কম কর ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যের কারণে আলাদা রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিচিতি গড়ে তুলেছে। কানাডার মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৪ শতাংশ উৎপাদন হয় এখানকার অয়েল স্যান্ডস (অপরিশোধিত তেলের প্রাকৃতিক মিশ্রণ) অঞ্চল থেকে। রাজনৈতিকভাবে আলবার্টা কানাডার রক্ষণশীল রাজনীতির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, যদিও ক্যালগারি ও এডমন্টনের মতো শহর তুলনামূলকভাবে উদারপন্থী।