US Reduces 25% Tariff on India: ভারতের ওপর থেকে ২৫% অতিরিক্ত শুল্ক সরিয়ে দিল আমেরিকা, নির্দেশে সই ট্রাম্পের

সম্প্রতি ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছিলেন যে নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটন একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। সেই চুক্তির ফলে ভারতের উপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে নেমে ১৮ শতাংশ হবে বলেও জানানো হয়েছিল। এই আবহে ভারতের পণ্যের ওপর থেকে শাস্তিমূলক শুল্ক কমাল আমেরিকা।

Published on: Feb 07, 2026 7:13 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে ভারতের পণ্যের ওপর থেকে শাস্তিমূলক ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ান তেল কেনার জন্যে বিগত বশ কয়েক মাস ধরে এই শুল্ক ধার্য করা ছিল ভারতের ওপর। তবে সম্প্রতি ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছিলেন যে নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটন একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। সেই চুক্তির ফলে ভারতের উপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে নেমে ১৮ শতাংশ হবে বলেও জানানো হয়েছিল। এই আবহে ভারতের পণ্যের ওপর থেকে শাস্তিমূলক শুল্ক কমাল আমেরিকা।

ভারতের পণ্যের ওপর থেকে শাস্তিমূলক শুল্ক কমাল আমেরিকা। (Bloomberg)
ভারতের পণ্যের ওপর থেকে শাস্তিমূলক শুল্ক কমাল আমেরিকা। (Bloomberg)

৭ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ইস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইম ভোররাত ১২টা ১ মিনিট থেকে শুরু করে ভারত থেকে রফতানি করা পণ্যগুলির উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে না বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। এদিকে নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প ফের একবার দাবি করেন যে ভারত আর রাশিয়ার থেকে তেল কিনবে না এবং আমেরিকা থেকে তারা জ্বালানি কেনার হার বৃদ্ধি করবে। এরই সঙ্গে সেই আদেশে বলা হয়েছে, আগামী ১০ বছরে ভারত এবং আমেরিকা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণ করবে। এরই সঙ্গে বলা হয়, মার্কিন উদ্বেগ দূর করতে জাতীয় নিরাপত্তা, বিদেশনীতি ও অর্থনৈতিক বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যথাযথভাবে জোটবদ্ধ হওয়ার জন্য ভারত 'গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ' করেছে।

এদিকে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা বন্ধ করে দেবে বলে ট্রাম্পের দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি ভারত। এর আগে রাশিয়া থেকে তেল কেনার পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে নয়াদিল্লি বলেছিল যে এই সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থে গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকে ট্রাম্প এটা দেখার দায়িত্ব দিয়েছেন যে ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ করেছে কি না। নির্দেশে বলা হয়েছে, যদি আমেরিকা দেখতে পায় যে ভারত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাশিয়ার থেকে তেল আমদানি শুরু করেছে, তাহলে ভারতের পণ্য আমদানির উপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক পুনর্বহাল করা হবে।

এর আগে ট্রাম্প মুখে দাবি করেছিলেন, রাশিয়ার থেকে তেল কেনায় ভারতের ওপর শুল্ক চাপানো হচ্ছে। তবে রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য বেড়েছে ট্রাম্পের জমানাতেই। এদিকে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে মধ্যস্থতার দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। ভারত সেই দাবি অস্বীকার করে। এরপর থেকেই নিজের মনের মতো গল্প বানিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি নাকি মোদীকে ফোন করে যুদ্ধ বন্ধ করতে বলেছিলেন। এবং যুদ্ধ করলে বাণিজ্য চুক্তি না করা নিয়ে মোদীকে বার্তা দেওয়ার পর নাকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নাকি বলেছিলেন, 'না না বাণিজ্য চুক্তি তো করতে হবে'। ট্রাম্প বলেছিলেন, 'আমি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ফোন করে করেছিলাম। আমি দুই দেশকেই বলেছিলাম যে আমি প্রতিটি দেশের উপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করব... যার মানে তারা কখনও আর আমেরিকার সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে না। আমি শুল্কের কথা বলে শুধু ভালো ভাষায় বোঝাতে চেয়েছিলাম, আমরা আপনার সাথে ব্যবসা করতে চাই না।' তবে সম্প্রতি পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষতে প্রলেপ পড়েছে। ভারতের শুল্ক কমার দিনেই নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।