ইরানে হামলা আসন্ন? মধ্যপ্রাচ্যে বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী, চাপ বাড়াচ্ছে US
ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আব্রাহাম লিংকন এবং তিনটি গাইডেড-ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করেছে।
যত সময় যাচ্ছে ততই বাড়ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাত সম্ভাবনা। এই আবহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডকে ক্যারিবিয়ান সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি এমন সময়ে করা হচ্ছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করছেন, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডের মোতায়েনের ফলে দুটি রণতরী এবং তাদের সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজ এই অঞ্চলে পৌঁছাবে। ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আব্রাহাম লিংকন এবং তিনটি গাইডেড-ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করেছে। ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডকে দ্রুত পাঠানোর এই পদক্ষেপটি গত বছরের অক্টোবরের ভূমধ্যসাগর থেকে ক্যারিবিয়ানে মোতায়েনের সঙ্গে সম্পর্কিত, যখন প্রশাসন তৎকালীন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার জন্য সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করেছিল। এই পদক্ষেপ মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, যা মূলত পশ্চিম গোলার্ধে জোর দেয়।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেন, চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়া 'অত্যন্ত বেদনাদায়ক' হবে। গত সপ্তাহে ওমানে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, 'এটি দ্রুত হওয়া উচিত। তাদের খুব দ্রুত একমত হওয়া উচিত।' তিনি অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠানোর কথা বিবেচনা করছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কতা
এদিকে, ট্রাম্প ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নেতানিয়াহু চাইছেন তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কমানো এবং হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো গোষ্ঠীর সমর্থন বন্ধ করার জন্য চাপ দেওয়া হোক। অন্যদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, 'আমরা কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারিনি। তবে আমি ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে জোর দিয়েছি, যাতে দেখা যায় কোনও চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব কিনা। চুক্তি সম্ভব হলে সেটাই হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার। আর যদি সম্ভব না হয়, তাহলে ফলাফল কী দাঁড়ায় তা দেখতে হবে।’
তবে তিনি স্পষ্ট করেননি, নেতানিয়াহু তাঁর সঙ্গে একমত কিনা। আলোচনা ব্যর্থ হলে পরিণতি ভয়ঙ্কর হতে পারে বলেও সতর্ক করেন ট্রাম্প। তিনি ২০২৫ সালের জুনে ইরানের প্রধান তিনটি পরমাণু কেন্দ্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কথাও উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘গতবার ইরান ভেবেছিল চুক্তি না করাই তাদের জন্য ভালো হবে। তখন তাদের উপর ‘মিডনাইট হ্যামার’ চালানো হয়েছিল, যা তাদের জন্য ভালো ফল বয়ে আনেনি। আশা করি এবার তারা আরও যুক্তিসঙ্গত ও দায়িত্বশীল হবে।' মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেন, বৈঠকে গাজা যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
E-Paper











