বিধ্বংসী শতরান! বিস্ময় বালকের তাণ্ডব, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ঐতিহাসিক রেকর্ড ভারতের
২৬তম ওভারে যখন বৈভব আউট হয়ে ড্রেসিংরুমের দিকে ফিরছিলেন, তখন মাঠের দৃশ্যটি ছিল দেখার মতো।
জিম্বাবোয়ের হারারেতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শুরুতে উইকেট হারিয়েও দাপট দেখাল ভারত। বৈভব সূর্যবংশীর বিধ্বংসী শতরানে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে চালকের আসনে টিম ইন্ডিয়া। এই ইনিংস খেলে একাধিক রেকর্ড গড়েছেন বৈভব। একই সঙ্গে অনূর্ধ্ব ১৯ ক্রিকেটে ওয়ান ডে ফর্ম্যাটে তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ল ভারত।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল। বৈভবের এই বিধ্বংসী ইনিংসের ওপর ভর করে ভারত ৪১১ রানের বিশাল স্কোরকার্ড গড়ে তোলে। এরমধ্যেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কার্যত ব্যাটিং ‘নির্ভানা’ অর্জন করেছেন ভারতের ১৪ বছর বয়সি ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ৮০ বলে ১৭৫ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম খোদাই করে নিলেন এই কিশোর। পুরো ইনিংসে ভেঙেছেন একের পর রেকর্ড।
রেকর্ডের বন্যা
ইংল্যান্ডের বোলারদের নিয়ে স্রেফ ছেলেখেলা করে বৈভব আজ একাধিক রেকর্ড চুরমার করেছেন।
দ্রুততম শতরান: মাত্র ৫৫ বলে শতরান পূর্ণ করে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি ও দ্রুততম ১৫০-র রেকর্ড গড়েছেন বৈভব। পাশাপাশি অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের এটা দ্রুততম সেঞ্চুরি।
সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান: বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ১৫০-এর গণ্ডি পেরিয়ে ১৭৫ রানে পৌঁছালেন বৈভব। ভারতেরই উন্মুক্ত চন্দের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন বৈভব। ২০১২ সালে উন্মুক্ত অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ফাইনালে ১১১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। সেটাই এতদিন পর্যন্ত ছিল অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ স্কোর ।
সর্বাধিক ছয় : অনূর্ধ্ব ১৯ স্তরে বৈভব এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারা ব্যাটারও হয়েছেন। সঙ্গে ভেঙেছেন ১৮ বছরের পুরনো রেকর্ড। ২০০৮ সালে মাইকেল হিল নামিবিয়ার বিপক্ষে তাঁর ঝড়ো ইনিংসে ১২টি ছক্কা মেরেছিলেন। আর বৈভব ১৫টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। পাশাপাশি, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সর্বাধিক ছক্কা রেকর্ডও তাঁর।
আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ড বোলারদের একের পর এক চাপে ফেলেন তিনি। ইংল্যান্ডের পেস ও স্পিন-কেউই রেয়াত পায়নি বৈভবের কাছে। সেবাস্টিয়ান মরগ্যান, ম্যানি লাম্সডেন, ফারহান আহমেদ-সবাইকে সমান তালে আক্রমণ করেছেন বৈভব। তাঁর ৫৫ বলে শতরান, ৮০ বলে ১৭৫ রানের ইনিংসে সাজানো ১৫টি চার ও ১৫টি ছয়। ২৬তম ওভারে যখন বৈভব আউট হয়ে ড্রেসিংরুমের দিকে ফিরছিলেন, তখন মাঠের দৃশ্যটি ছিল দেখার মতো। বিপক্ষ দল ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা তাঁকে হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানান। এত কম বয়সে এত বড় মঞ্চে এমন আগ্রাসী অথচ পরিণত ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
বৈভব আউট হওয়ার সময় ভারতের স্কোরবোর্ড ছিল ২৫১/৩। তখনও ওভার বাকি। দায়িত্বও। যা তুলে নেন বাকি ব্যাটাররা। আয়ুষ মত্রে খেলেছেন দায়িত্বশীল ৫৩ রানের ইনিংস। মিডল ওভারে অভিজ্ঞান কুণ্ডু, বেদান্ত ত্রিবেদী, আর শেষে আরএস অম্বরীশ ও কানিষ্ক চৌহান মিলে রানের পাহাড় টেনে নিয়ে গেলেন ৫০ ওভার পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত স্কোরকার্ড দাঁড়াল ৪১১, যা ফাইনালের মঞ্চে কার্যত বিশালাকায় চ্যালেঞ্জের পাহাড়। ইংল্যান্ডের বোলাররা শেষদিকে কিছু উইকেট তুলে নিলেও যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। ৪১১ রানের লক্ষ্য অনূর্ধ্ব-১৯ ফাইনালে চেজ করে জেতা প্রায় অসাধ্য। যে কারণে প্রশ্ন একটাই-এত বড় ধাক্কার পর ইংল্যান্ড কি সত্যিই কামব্যাক করতে পারবে? ভারত ইতিপূর্বে পাঁচবার-২০০০, ২০০৮, ২০১২, ২০১৮ এবং ২০২২ সালে ট্রফি জয় করেছে। আরও একবার তারা এই খেতাব জিততে মরিয়া।
E-Paper











