কমবে পথ দুর্ঘটনা! দেশজুড়ে চালু হবে V2V প্রযুক্তি, জানুন এর কাজ

এই সিস্টেম চালকদের সামনে হঠাৎ করে থামা গাড়ি, কুয়াশার মধ্যে খুব কাছে চলে আসে গাড়ি, এমনকী পিছন থেকে দ্রুত গতিতে আসে যানবাহনগুলিকে সতর্ক করবে।

Published on: Jan 09, 2026 7:32 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভারতের সড়ক নিরাপত্তায় এবার বিরাট পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। চালকদের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য দেশজুড়ে চালু হতে চলেছে 'ভেহিকেল টু ভেহিকেল' কমিউনিকেশন প্রযুক্তি। জানা গিয়েছে, এই ব্যবস্থা চালু হলে এক গাড়ির সঙ্গে আরেক গাড়ির যোগাযোগ করতে পারবে, তাও ইন্টারনেট বা মোবাইল নেটওয়ার্ক ছাড়াই। আর বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি কার্যকর হলে পথ দুর্ঘটনা অনেকটাই কমবে।

দেশজুড়ে চালু হবে V2V প্রযুক্তি (Hindustan Times)
দেশজুড়ে চালু হবে V2V প্রযুক্তি (Hindustan Times)

ভেহিকেল টু ভেহিকেল প্রযুক্তি কী?

'ভেহিকেল টু ভেহিকেল' প্রযুক্তি মূলত গাড়ির মধ্যে সরাসরি তথ্য আদান-প্রদানের একটি আধুনিক ব্যবস্থা। এই সিস্টেমের মাধ্যমে গাড়িগুলি একে অপরকে গাড়ির গতি, দূরত্ব চলাচলের দিক, হঠাৎ ব্রেকের সতর্কতা বা সামনে কোনও বিপদের আশঙ্কা জানাতে পারবে। এর ফলে কুয়াশা, অন্ধ বাঁক বা সামনের যানজট সম্পর্কে চালকরা আগেভাগেই সতর্কবার্তা পাবেন এবং দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।

কীভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি?

জানা গিয়েছে, প্রতিটি গাড়ির ভেতরে একটি ছোট্ট ইলেকট্রনিক ডিভাইস বসানো হবে, যেটি দেখতে অনেকটা সিম কার্ডের মতো হতে পারে। এই ডিভাইসটি আশেপাশের গাড়ির সঙ্গে নিয়মিত সিগন্যাল আদানপ্রদান করবে। আর এর সবথেকে বড় সুবিধা হল- এই প্রযুক্তি সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক ছাড়াই চলে। ফলত দুর্গাম এলাকা, পাহাড়ি রাস্তা বা নেটওয়ার্ক না থাকা জায়গাতে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে বলেই মত প্রকাশ করছে বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গডকরি বলেন, এই ব্যবস্থা দুর্ঘটনা এড়াতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে সে রাস্তায় গাড়ি পার্ক করা হয়। দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাসের দুর্বল কাঠামোর জন্য কমপক্ষে ৬টি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। যার জেরে ১৩৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এবার বাসগুলিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে, যেমন অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা, যাত্রীদের জন্য জরুরি হ্যামার।

কীভাবে যানবাহনগুলিকে সতর্ক করবে?

দেশে শীতকালে কুয়াশার কারণে বহু দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে হাইওয়েতে। আর এই প্রযুক্তি এই ধরনের পরিস্থিতিতে সবথেকে কার্যকর হতে পারে। এই সিস্টেম চালকদের সামনে হঠাৎ করে থামা গাড়ি, কুয়াশার মধ্যে খুব কাছে চলে আসে গাড়ি, এমনকী পিছন থেকে দ্রুত গতিতে আসে যানবাহনগুলিকে সতর্ক করবে। ফলে চোখে না দেখলেও চালক আগেভাগেই বিপদের আঁচ বুঝতে পারবে এবং গাড়ি থামাতে পারবে।

গাড়িগুলিতে কবে থেকে ব্যবহার হবে?

প্রাথমিকভাবে 'ভেহিকেল টু ভেহিকেল' প্রযুক্তি নতুন গাড়িতে যুক্ত করা হবে এবং ধাপে ধাপে পুরনো গাড়িতেও এটি বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

কত খরচ পড়বে?

এই প্রযুক্তি বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রের খরচ হবে প্রায় ৫০০০ কোটি টাকা। আর এই প্রযুক্তি গাড়িতে যুক্ত জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে চার্জ নেয়া হবে। তবে এই চার্জ কত হবে, তা এখনও জানা যায়নি।

অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য

সবথেকে বড় ব্যাপার, এই প্রযুক্তির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল চারদিক থেকে সতর্কতা পাওয়া যাবে। অর্থাৎ, গাড়ির সামনে, পিছনে বা দুই সাইডে যে কোনও দিক থেকে বিপদের সম্ভাবনা থাকলে সঙ্গে সঙ্গে চালক সতর্ক হতে পারবে। বিশেষ করে ব্যস্ত শহরের রাস্তা বা জাতীয় সড়কে এটি বিরাট ভূমিকা রাখবে।

অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেমের সঙ্গে কাজ করবে?

এই প্রযুক্তি অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম অর্থাৎ এডিএএস-এর সঙ্গে কাজ করবে। বর্তমানে কিছু প্রিমিয়াম গাড়িতে সেন্সর ও ক্যামেরাভিত্তিক এডিএএস সিস্টেম যুক্ত রয়েছে। আর এই প্রযুক্তি যুক্ত হলে সেই নিরাপত্তা যে আরও একধাপ বাড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।