Venezuelan Oil Latest Update: আমেরিকা মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ায় লাভ হতে পারে ভারতের, বড় ইঙ্গিত ওয়াশিংটনের
রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের উপর নির্ভরতা হ্রাস করার জন্য ভারতকে দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারতসহ বিশ্ববাজারে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি করতে প্রস্তুত ওয়াশিংটন।
ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা ভারতকে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল কেনার অনুমতি দিতে প্রস্তুত, তবে এটি একটি নতুন মার্কিন নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর অধীনে ঘটবে। রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের উপর নির্ভরতা হ্রাস করার জন্য ভারতকে দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে ভেনেজুয়েলায় সম্প্রতি মার্কিন হস্তক্ষেপের পরে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারতসহ বিশ্ববাজারে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি করতে প্রস্তুত ওয়াশিংটন। এই আবহে মাদুরোকে আমেরিকা তুলে নিয়ে যাওয়ায় তা ভারতের জন্য এক নয়া সুযোগ এনে দিয়েছে।
মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস্টোফার রাইট ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল আবার বিক্রি করতে দেবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে কেবল এমন একটি কাঠামোর অধীনে এটা করা হবে, যেখানে মার্কিন সরকার বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ করবে। বাজারে তেল বিক্রির আয় ওয়াশিংটন নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টে জমা হবে। ভেনেজুয়েলা হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একসাথে তেল বিক্রি করতে পারে, বা তারা তেল বিক্রি করতে পারবে না।'
মার্কিন নীতিমালা অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার তেল রফতানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হবে। অন্যদিকে তেলের কিছু চালান অ-মার্কিন ক্রেতাদের কাছেও পাঠানো যাবে। উল্লেখ্য, মার্কিন বাহিনী ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়। এরপরই ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ভেনেজুয়েলার তেল এখন আমেরিকা বিক্রি করবে। মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল (প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের) অপরিশোধিত তেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করা হবে ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন। ভেনেজুয়েলার স্টোরেজ ট্যাঙ্ক ও জাহাজে আটকে থাকা লাখ লাখ ব্যারেল তেল এখন মার্কিন নিয়ন্ত্রণাধীন বিশ্ববাজারে বিক্রি করা হবে। রাইট নিউ ইয়র্কে একটি জ্বালানি সম্মেলনে বলেছিলেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে 30-50 মিলিয়ন ব্যারেল আটকে থাকা তেল বিক্রি করবে এবং তারপরে ভবিষ্যতের উৎপাদন অব্যাহত রাখবে।
ভারতের জন্য এর অর্থ কী? ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ। ২০১৯ সালের আগে ভারত ভেনেজুয়েলার প্রধান ক্রেতা ছিল। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। এখন মার্কিন কাঠামোর অধীনে ভারত আবার ভেনেজুয়েলার তেল কিনতে পারবে। এরফলে রাশিয়ার তেলের উপর নির্ভরতা হ্রাস করতে পারবে ভারত। ভারতীয় শোধনাগারগুলি ইতিমধ্যে ভেনেজুয়েলার তেল কেনার জন্য মার্কিন অনুমতির জন্য আলোচনা করছে বলে দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে। এতে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে।












