US-Jamaat Understanding in Bangladesh: বাংলাদেশে জামাতের সঙ্গে সমঝোতায় ট্রাম্প? মার্কিন দূতাবাসে গোপন বৈঠকের অডিয়ো ফাঁস
গোপন বৈঠকে বাংলাদেশি মহিলা সাংবাদিককে মার্কিন কূটনীতি বলেছিলেন, জামাতের ছাত্র সংগঠনের নেতাকে মিডিয়ায় নিয়ে আসতে আগ্রহী তারা। এদিকে কথোপকথনে মার্কিন কূটনীতিক আরও জানান, বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হাসিনার বিচার গ্রহণযোগ্য না হলেও এর রায়ে তারা সন্তুষ্ট।
বাংলাদেশে নাকি জামাতের সঙ্গে 'বোঝাপড়া' হয়ে গিয়েছে আমেরিকার। একটি অডিয়ো বার্তা ফাঁস করে এমনই দাবি করা হল মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের। এই আবহে নাকি গত ১ ডিসেম্বর ঢাকায় এক জামাতপন্থী মহিলা সাংবাদিকের সঙ্গে কথা হয়েছিল মার্কিন কূটনীতিকের। সেই কথোপকথনের সময় নাকি মার্কিন দূত 'আশা' ব্যক্ত করেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যেকোনও সময়ের সবচেয়ে ভালো করবে জামাত। এমনকী তাঁকে আরও বলতে শোনা যায়, 'আমরা (আমেরিকা) চাই তারা (জামাত) আমাদের বন্ধু হোক'। এই বৈঠকটি ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে হয়েছিল। সেখান থেকেই এই কথোপকথনের রেকর্ডিং ভাইরাল হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের পাশাপাশি আলজাজিরাও এই রেকর্ডিং হাতে পেয়েছে।
বাংলাদেশে নাকি জামাতের সঙ্গে 'বোঝাপড়া' হয়ে গিয়েছে আমেরিকার। (AFP)
এদিকে সেই মহিলা সাংবাদিককে মার্কিন কূটনীতি বলেছিলেন, জামাতের ছাত্র সংগঠনের নেতাকে মিডিয়ায় নিয়ে আসতে আগ্রহী তারা। এদিকে কথোপকথনে মার্কিন কূটনীতিক আরও জানান, বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হাসিনার বিচার গ্রহণযোগ্য না হলেও এর রায়ে তারা সন্তুষ্ট। এদিকে বিএনপির ওপর জামাত এবং ইউনুস সরকার যে চাপ সৃষ্টি করেছে, তাতেও মার্কিনিরা আপ্লুত বলে জানান সেই মার্কিন দূত।
এদিকে জামাতের সঙ্গে 'বন্ধুত্ব' করতে চাইলেও মার্কিন দূত স্পষ্ট করে দেন, যদি তাদের কথা মতো জামাত না চলে, সেই ক্ষেত্রে পরদিনই ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে বাংলাদেশের সঙ্গে কার্যত বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে আমেরিকা। এদিকে বাংলাদেশকে কোনও ভাবে চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতেও বারণ করেন সেই কূটনীতিক। এদিকে বাংলাদেশে জামাত ক্ষমতায় এলে শরিয়া আইন কার্যকর করা হবে বলে 'বিশ্বাস করেন না' বলে জানান সেই কূটনীতিক।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের নির্বাচনের আগে সেই দেশে বেড়েছে মার্কিন তৎপরতা। এদিকে আওয়ামী লীগ প্রথম থেকেই অভিযোগ করে আসছে, ইউনুস আদতে পাকিস্তানপন্থী মার্কিন 'চর'। এরই মাঝে কয়েকদিন আগেই বাংলাদেশে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। সেই ব্রেন্ট এবার বৈঠক করেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে। সেই বৈঠকের পরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের সঙ্গে বৈঠক করেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বচন নিয়ে দুজনের কথা হয় বলে জানা গিয়েছে। শুল্ক, রোহিঙ্গা, ভিসা বন্ড, অবৈধ বাংলাদশিদের প্রত্যাবর্তনের মত ইস্যু নিয়েও কথা হয় সেই বৈঠকগুলিতে। এই সবের মাঝে মার্কিন দূতাবাসে জামাতপন্থী সাংবাদিকের সঙ্গে মার্কিন দূতের কথোপকথন ফাঁস।
News/News/US-Jamaat Understanding In Bangladesh: বাংলাদেশে জামাতের সঙ্গে সমঝোতায় ট্রাম্প? মার্কিন দূতাবাসে গোপন বৈঠকের অডিয়ো ফাঁস