'অনুপ্রবেশকারীদের সনাক্ত...,' SIRর প্রশংসা করে জনসংখ্যার পরিবর্তনে উদ্বেগ প্রকাশ ভাগবতের
জাতপাত ও নেতৃত্ব প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন আরএসএস প্রধান।
দেশের অভ্যন্তরীণ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জনসংখ্যার পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর দাবি, অতীতে সরকার এই বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। জন্মহার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকে তিনি জনসংখ্যাগত ভারসাম্য বদলের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। জনগণকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সনাক্ত করে কেন্দ্রীয় সরকারকে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছেন মোহন ভাগবত।

মুম্বইয়ে আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত দু'দিনের বক্তৃতামালার দ্বিতীয় দিনে রবিবার এই মন্তব্য করেন মোহন ভাগবত। ‘সংঘের শতবর্ষের যাত্রা: নতুন দিগন্ত’ শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল ওরলির নেহরু সেন্টারে। সেখানে অনুপ্রবেশের ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন আরএসএস প্রধান। তিনি বলেন, 'পূর্বতন সরকার দেশের জনসংখ্যা, বাড়ন্ত অনুপ্রবেশ নিয়ে মাথায় ঘামায়নি। সেই কারণেই ডেমোগ্রাফি এতটা বদলে গিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার প্রতিটি বিষয় নিয়েই তৎপর। তাঁরা কাজ শুরু করেছে। সফলও হবে।' তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, 'অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে সরকারের অনেক কিছু করার আছে। তাদের সনাক্ত করে বিতাড়িত করতে হবে।' তিনি যোগ করেন, 'ভারতকে এখন আর ভাঙা যাবে না। যারা ভারতকে ভাঙার চেষ্টা করবে, তারাই ভেঙে যাবে।'
মোহন ভাগবত বলেন, 'যখন জনগণনা বা এসআইআর প্রক্রিয়া চলে, তখন অনেক ব্যক্তির নাম বেরিয়ে আসে যারা এই দেশের নাগরিক নয়; তারা এই প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়ে যায়।' তিনি পশ্চিমবঙ্গ-সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে বর্তমানে চলা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কথাও উল্লেখ করেছেন। জনগণের উদ্দেশ্যে আরএসএস প্রধান বলেন, 'আমরা সনাক্তকরণ করে কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করতে পারি। আমাদের কোনও বিদেশিকে চাকরি দেওয়া উচিত নয়। যদি কেউ আমাদের দেশের হয়, আমরা তাদেরই চাকরি দেব, কিন্তু বিদেশিদের নয়। আপনাদের আরও সতর্ক এবং সচেতন হওয়া উচিত।'
আরএসএস প্রধান কে হতে পারেন?
জাতপাত ও নেতৃত্ব প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন আরএসএস প্রধান। তাঁর বক্তব্য, সংঘে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে জাত কোনও বাধা নয়। ভাগবতের কথায় 'যে কেউ আরএসএস প্রধান হতে পারেন। তফসিলি জাতি বা উপজাতি হওয়া অযোগ্যতা নয়, আবার ব্রাহ্মণ হওয়াও যোগ্যতা নয়। আমরা সব জাতির জন্য কাজ করি।' একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, আরএসএসের শুরু হয়েছিল মূলত ব্রাহ্মণ সমাজকে কেন্দ্র করেই। নিজের বয়স সম্পর্কে বলতে গিয়ে মোহন ভাগবত বলেন, 'সাধারণত বলা হয় যে ৭৫ বছর বয়সের পর, কোনও পদ ধরে না রেখেই কাজ করা উচিত। আমি ৭৫ বছর পূর্ণ করেছি এবং আরএসএসকে জানিয়েছি, কিন্তু সংগঠন আমাকে কাজ চালিয়ে যেতে বলেছে। যখনই আরএসএস আমাকে পদত্যাগ করতে বলবে, আমি তা করব, কিন্তু কাজ থেকে অবসর কখনও নেব না।'
উল্লেখ্য, এর আগের দিন, অর্থাৎ শনিবার বক্তৃতার প্রথম দিনে মোহন ভাগবত বলেছিলেন, আরএসএস কারও বিরুদ্ধে নয় এবং ক্ষমতা দখলের রাজনীতিতেও বিশ্বাসী নয়। তাঁর কথায়, 'সংঘের লক্ষ্য শুধু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা।'
E-Paper











