কৃষকদের স্বার্থে আপস নয়! ভারত-US চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত নয় বহু কৃষি-ডেয়ারি, কী বললেন মন্ত্রী?

দীর্ঘ আলোচনা ও শুল্ক সংক্রান্ত টানাপড়েনের পর ঘোষিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে মার্কিন পক্ষ থেকে ভারতীয় পণ্যের উপর পারস্পরিক শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানোর কথা বলা হয়েছে।

Published on: Feb 07, 2026 5:23 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্ত নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছে। শনিবার সেই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সরকারি ভাবে ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি জানান, এই বাণিজ্য চুক্তিতে কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে কোনও ছাড় দেওয়া হয়নি। কেন্দ্র কৃষকদের স্বার্থে কোনওরকম আপস করিনি। বরং তাদের রক্ষা করেই এই চুক্তি করা হয়েছে।

কী বললেন মন্ত্রী? (ANI Video Grab )
কী বললেন মন্ত্রী? (ANI Video Grab )

শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে পীযূষ গোয়েল বলেন, কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় দায়বদ্ধ কেন্দ্র। তাই কৃষকদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে বেশ কিছু ক্ষেত্রকে এই চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যে সব দ্রব্যের ক্ষেত্রে ভারত 'আত্মনির্ভর' সেগুলিকে এই চুক্তির আওতায় আনা হয়নি। এছাড়াও অটো পার্টস, বিমানের যন্ত্রাংশ, ঘড়ি, এসেন্সিয়াল ওয়েলের মতো একাধিক পণ্যের উপরেও কোনও শুল্ক লাগবে না। পীযূষ গয়াল জানিয়েছেন, জেনেটিক্যালি মডিফায়েড কর্প, মাংস, পোলট্রি, চাল , দুগ্ধজাত দ্রব্য, সয়াবিন, ভুট্টা, গম, চিনি, মিলেট ইত্যাদি দ্রব্যের উপরে ট্যারিফে কোনও ছাড় দেওয়া হয়নি। ওই সহ পণ্যে ১৮ শতাংশ কর বসবে।

এছাড়াও কলা, স্ট্রবেরি, অ্যাভোগাডো, কিউয়ি, আনারস, চেরির মতো বেশ কিছু ফল এবং সবজির উপরে করছাড় দেওয়া হয়নি। স্মার্টফোন, ফার্মাসিউটিক্যালেও কোনও শুল্ক চাপানো হচ্ছে না। মন্ত্রী জানিয়েছেন, গ্রিন ট্রি, কাবুলি চানা, মুগডাল, তৈলবীজ, অ্যালকোহলমুক্ত পানীয়, ইথানল-সহ একাধিক দ্রব্যের উপরেও কোনও ছাড় দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, এই বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে দেশের কৃষি এবং ডেয়ারি শিল্পের যথেষ্ট উন্নতি হবে। গোটা দেশের অর্থনৈতিক ভাবে দেশের উন্নতি হতে চলেছে।

ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি

দীর্ঘ আলোচনা ও শুল্ক সংক্রান্ত টানাপড়েনের পর ঘোষিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে মার্কিন পক্ষ থেকে ভারতীয় পণ্যের উপর পারস্পরিক শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানোর কথা বলা হয়েছে। দুই দেশই জানিয়েছে, দ্রুত এই কাঠামো কার্যকর করে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির দিকে এগোনো হবে।পীযূষ গোয়েল বলেন, এই চুক্তির মূল লক্ষ্য একদিকে ভারতীয় শিল্পের রফতানি বাড়ানো, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্ষেত্রকে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া। একই সঙ্গে কৃষিক্ষেত্রকে আমদানির চাপ থেকে পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। গোয়েলের দাবি, রফতানির সুযোগ এবং কৃষক সুরক্ষা, এই দুই উদ্দেশ্য একসঙ্গে পূরণ হয়েছে। গোয়েলের মতে, এই চুক্তি ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের মার্কিন বাজারে প্রবেশের বড় সুযোগ তৈরি করবে, অথচ দেশের কৃষিক্ষেত্রের সুরক্ষায় কোনও ছাড় দেওয়া হয়নি।