'আরও ২৫ বছর আমার...,' সময়ের অপচয় নয়, শিক্ষার্থীদের 'সহজপাঠ' প্রধানমন্ত্রী মোদীর
কিশোর-কিশোরীদের উদ্বুদ্ধ করতে নিজের জন্মদিনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, জীবনের কত বছর কেটে গেল, তা নিয়ে তিনি ভাবেন না।
বোর্ড পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে দেশজুড়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে সরাসরি কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর বিশেষ অনুষ্ঠান 'পরীক্ষা পে চর্চা'-র মাধ্যমে মোদি শুধু পড়াশোনা ও পরীক্ষা সংক্রান্ত টিপসই দেননি, তার বয়সের সঙ্গে কাজের প্রতি নিষ্ঠার কথাও তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। পরীক্ষাকে উপলক্ষ করে নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়াই ছিল তাঁর মূল উদ্দেশ্য।

২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিলেন, ৭৫ বছর বয়সে অবসর নিতে হবে, বিজেপির সংবিধানে এমন কোনও আইন নেই। সেই মতো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও ৭৫ বছরে অবসর নেবেন, এমন কোনও সম্ভাবনাই নেই। ২০২৯ সাল পর্যন্ত তিনিই প্রধানমন্ত্রী ও সক্রিয় রাজনীতিতে থাকবেন। যদিও সেপ্টেম্বরে তিনি ৭৫ বছরে পদার্পন করতেই তাঁকে নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। শুক্রবার এই বিষয়টিই উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। কয়েক মাস আগে ৭৫তম জন্মদিন ছিল প্রধানমন্ত্রীর। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা থেকে বিশ্বনেতারা তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কিশোর-কিশোরীদের উদ্বুদ্ধ করতে নিজের জন্মদিনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, জীবনের কত বছর কেটে গেল, তা নিয়ে তিনি ভাবেন না। হাতে আর কত বছর রয়েছে, সেটাই তাঁর কাছে বড় বিষয়। তাঁর কথায়, ‘গত ১৭ সেপ্টেম্বর এক নেতা আমাকে বলেছিলেন, ‘আপনার বয়স ৭৫ হয়ে গেল।’ আমি জবাব দিই, ‘না, আরও ২৫ বছর আমার হাতে আছে।’
'পরীক্ষা পে চর্চা'-র এই ভিডিওটি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। মণিপুরের ইম্ফলের সৈনিক স্কুলের পড়ুয়া ইমোতা কে শ্যাম প্রধানমন্ত্রী মোদীকে বলে, তার জীবনে প্রধানমন্ত্রীর প্রভাব বিস্তর। ছেলেবেলা থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বড় অনুপ্রেরণা মনে করে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ‘আমি জীবনে কত বছর ফেলে এসেছি, তা কখনও গুনে দেখি না। কত বাকি আছে, সেটা দেখি।’ তাঁর সংযোজন, ‘কখনও সময়ের অপচয় কোরো না। কী ভাবে জীবনে উন্নতি করা যায়, সেই চর্চা করো। হাতে যা আছে, তা-ই নিয়ে ভাবো।’ বলে রাখা ভালো, এনডিএ সরকারের তৃতীয় মেয়াদ শেষে প্রধানমন্ত্রীর বয়স হবে ৭৯ বছর। ইতিমধ্যে বহু সিনিয়র বিজেপি নেতা বলেছেন যে ২০২৯ সালেও নরেন্দ্র মোদীকে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র প্রধানমন্ত্রীর মুখ হিসেবে দেখতে চান তাঁরা।
তবে গত বছরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রচ্ছন্ন ভাষায় অবসরগ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বিজেপির চালিকাশক্তি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত। নাগপুরে এক অনুষ্ঠানে ভাগবত বলেছিলেন, 'যখন ৭৫ বছর বয়সে আপনাকে কেউ অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে অভিনন্দন জানাতে আসবে, তখনই বুঝে যাবেন এবার আপনাকে থামতে হবে। অন্যের জন্য কাজের জায়গা ছেড়ে দিতে হবে।' তিনি আরও বলেন, মোদী হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি লালকৃষ্ণ আদবানি, মুরলিমনোহর জোশি, যশবন্ত সিংয়ের মতো নেতাকে ৭৫ বছর বয়সে অবসর নিতে বাধ্য করেছিলেন। এখন দেখা যাক নিজের ক্ষেত্রে মোদী তা প্রয়োগ করেন কিনা। কথাটি সত্যিই তাৎপর্যপূর্ণ বলে দাবি করে উদ্ধব-সেনা নেতা সঞ্জয় রাউত বলেছিলেন, এটা ভাগবত প্রধানমন্ত্রী মোদীকেই বার্তা দিয়েছেন। যদিও অমিত শাহ জানিয়ে দিয়েছিলেন, ৭৫ বছর বয়সে অবসর নিতে হবে, বিজেপির সংবিধানে এমন কোনও আইন নেই। শাহের এই ঘোষণার পর থেকে বিজেপির তাবড় নেতৃত্ব মোদীকেই সমর্থনের জোরাল দাবি জানাতে শুরু করেন।
E-Paper











