'আমরা যে কোনও পরিস্থিতির...,' পাকিস্তানের পারমাণবিক পরীক্ষা? কড়া অবস্থান রাজনাথের
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যে নয়া আলোচনার জন্ম নিয়েছে, তারই প্রেক্ষিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত করেছেন, পাকিস্তানের পাশাপাশি আরও একাধিক দেশ গোপনে পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা শুরু করেছে। তারপর থেকেই বিশ্বজুড়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই আবহে ভারতের প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে ফের অবস্থান স্পষ্ট করলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি জানিয়েছেন, ভারত সব রকম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।

হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, এই ধরনের আলোচনা কিংবা জল্পনায় একেবারেই বিচলিত নয় ভারত। তিনি জানিয়েছেন, 'যারা পরীক্ষা করতে চায়, তাদের পরীক্ষা করতে দিন; তাদের তো আমরা থামাতে পারব না।' নয়া দিল্লির প্রস্তুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, 'যাই ঘটুক না কেন, আমরা যেকোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।' প্রথমে কোন দেশ আদৌ কী করছে, সেদিকে নজর রাখার কথা বলেছেন তিনি। পাকিস্তান যদি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে আবার পরমাণু পরীক্ষা শুরু করে, তবে ভারতও কী মাটির নীচের পরমাণু পরীক্ষা চালাতে পারে? এই প্রশ্নের জবাবে রাজনাথ সিং জানান, 'আগে ওদের করতে দিন। তারপর দেখা যাবে।'
পাকিস্তানের গোপনে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যে নয়া আলোচনার জন্ম নিয়েছে, তারই প্রেক্ষিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, 'গোপন এবং অবৈধ পারমাণবিক কার্যকলাপ পাকিস্তানের ইতিহাসের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, যা দশকের পর দশক ধরে চোরাচালান, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ লঙ্ঘন, গোপন অংশীদারিত্ব, এ কিউ খান নেটওয়ার্ক এবং আরও একাধিক বিষয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।' যদিও পাকিস্তান ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে বলেছেন, পাকিস্তান পারমাণবিক পরীক্ষার উপর স্থগিতাদেশ বজায় রেখেছে। তবে এই সব আলোচনা, জল্পনার সূত্রপাত, কয়েক দিন আগে, ট্রাম্পের এক দাবিকে কেন্দ্র করে। সিবিএস-এর রবিবার সিবিএস নিউজের ৬০ মিনিটস-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, 'যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে পরীক্ষা চালানো থেকে বিরত ছিল, তবুও পাকিস্তান-সহ বেশ কয়েকটি দেশ বিশ্বব্যাপী নজরদারির বাইরে ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে।' অন্যান্য দেশগুলির কার্যকলাপ জানিয়ে দেওয়ার পরেই, ট্রাম্প নিজের দেশের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন পারমাণবিক পরীক্ষার উপর ৩০ বছরের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।












