'একজন গর্বিত হিন্দু...,' বিতর্কিত ফুলকপি চাষের পোস্ট অসম মন্ত্রীর, কী বললেন শশী?
গণহত্যায় ভাগলপুরে একশোরও বেশি মানুষ নিহত হন এবং তাঁদের মৃতদেহ মাঠে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল।
হিন্দু ধর্ম বা জাতীয়তাবাদ কোনওভাবেই গণহত্যাকে সমর্থন করে না। বিহারের নির্বাচন ফলপ্রকাশের পরেই অসমের মন্ত্রী অশোক সিংহলের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট নিয়ে তীব্র নিন্দা জানালেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। বিহারের বিধাসভা নির্বাচন ফলাফলের পর ফুলকপি চাষের একটি ছবি শেয়ার করে বিতর্কে জড়িয়েছেন অসমের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ এবং সেচ মন্ত্রী অশোক সিংহল।

শুক্রবার বিহারে এনডিএ জয়ের পরেই অসমের বিজেপি সরকারের মন্ত্রী অশোক সিংহল তার ফেসবুক পেজে এক ছবি শেয়ার করেন। ছবিতে ফুলকপি চাষের ক্ষেতের দৃশ্য দেখা গিয়েছে এবং এর ক্যাপশনে লেখা ছিল, 'বিহার ফুলকপি চাষ অনুমোদন করেছে।' এরপরেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। কংগ্রেস-সহ বিরোধী নেতারা এই শব্দবন্ধকে '১৯৮৯ সালের লগাইন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত' বলে মন্তব্য করেছেন। ওই গণহত্যায় ভাগলপুরে একশোরও বেশি মানুষ নিহত হন এবং তাঁদের মৃতদেহ মাঠে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। তার উপরে ফুলকপি চাষ করা হয়। একজন সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবহারকারী সিংঘলের পোস্টের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, একজন মন্ত্রী নির্বাচনী জয় উদযাপনের জন্য ১১৬ জন মুসলিমের গণহত্যার প্রশংসা করছেন। পাশাপাশি কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরকে পোস্টটি ট্যাগ করে তিনি প্রশ্ন করেছেন, কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা কী কয়েকজন প্রভাবশালী হিন্দু নেতাকে বিহারি মুসলিমদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে জঘন্য গণহত্যার ঘটনাকে স্বাভাবিকীকরণ-এর নিন্দা জানাতে পারেন?
কংগ্রেস সাংসদের প্রতিক্রিয়া
এরপরেই শশী থারুর অসমের মন্ত্রীর ফুলকপি চাষের পোস্টের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আমি কোনও সম্প্রদায় সংগঠক নই, তাই যৌথ বিবৃতি দেওয়া আমার কাজ নয়। কিন্তু অন্তর্ভুক্তিমূলক ভারতের সমর্থক এবং একজন গর্বিত হিন্দু হিসেবে, আমি নিজের এবং বেশিরভাগ হিন্দুর পক্ষে কথা বলতে পারি যে আমাদের ধর্ম বা আমাদের জাতীয়তাবাদ এই ধরনের গণহত্যাকে ন্যায্যতা দেয় না বা সমর্থন করে না, প্রশংসা করা তো দূরের কথা।' এরপর অন্য এক নেটিজেন বলেন, শশী থারুর মন্ত্রীর পোস্টটিকে নিন্দা করেননি। তখন থারুর জবাব দেন, 'আমি ঠিক এটাই করেছি! আমি এর নিন্দা করেছি।' অন্যদিকে, কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ দাবি করেছেন যে, এই পোস্ট 'রাজনৈতিক ভাষা-শাস্ত্রের এক শকিং নতুন নিম্নস্তর।' তিনি অভিযোগ করেন, এমনভাবে একটি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এমন ছবি ব্যবহার করা 'অত্যন্ত অশ্লীল এবং লজ্জাজনক।' তিনি বলেন, একটি এত বড় দুর্ঘটনা স্মরণ করা, 'কীভাবে কিছু মানুষ জনসমক্ষে নেমে যেতে প্রস্তুত তা প্রমাণ করে।'
গগৈ আরও দাবি করেছেন যে, এই ধরনের মনোভাবকে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা উৎসাহিত করেন, যাকে তিনি 'ভারতীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি ঘৃণা পোষণকারী' বলে উল্লেখ করেছেন। কংগ্রেস নেতা অসমের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরে বলেন, এই রাজ্য 'মহাপুরুষ শংকরদেব, লাচিত বরফুকন এবং আজান পীরের ভূমি।' আগামী বছর অসম বিধানসভা নির্বাচনের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, 'অসমের জনগণ ঘৃণা ও লোভের শাসনের অবসান ঘটাবে।'












