বাংলাদেশকে আফগানিস্তানে পরিণত করতে চায় 'পাকের বন্ধু' জামাত, বিস্ফোরক BNP নেতা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটে যত এগিয়ে আসছে তত নির্বাচনী কৌশল স্পষ্ট করছে বিএনপি।
মুখে ঐক্য রক্ষার কথা বলা হলেও শেখ হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশে আওয়ামী লিগ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে মতবিরোধ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বিশেষত, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দল বিএনপির সঙ্গে হাসিনা জমানায় নিষিদ্ধ ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ (পাকিস্তানপন্থী হিসেবে পরিচিত)-র সংঘাত কার্যত প্রকাশ্যে এসে পড়েছে। সম্প্রতি জামাতের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় হেরফেরের অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। এবার আরও এক কদম এগিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামাত বাংলাদেশকে আফগানিস্তানের মত দেশে পরিণত করতে চায়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী মির্জা ফখরুল। সোমবার ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ঢোলারহাট বাজারে নির্বাচনি সভায় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে সামনে এগোতে দিতে চায় না জামায়াতে ইসলামী এবং তারা দেশটাকে আফগানিস্তান বানাতে চায়। তারা দেশটাকে পেছন দিকে নিয়ে যেতে চায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশে এখন ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ এসেছে। বিএনপি সব দলকে নিয়ে একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ চায় এবং সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।’ এরপরেই মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, ‘জামাত নারীদের কাজ করতে দিতে চায় না; তারা চায় মেয়েরা যেন ঘরে বসে থাকে। গার্মেন্টসের শ্রমিকদের নাকি পাঁচ ঘণ্টা কাজ করে ঘরে বসে রাখা হবে।’ এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যদি ঘরে বসে থাকে তবে খাবে কী? কোনও সরকার ঘরে বসিয়ে খাওয়াবে না। এসব মিথ্যা আশ্বাস।’
এসময় জামাত আমিরের ‘এক্স’ থেকে সাম্প্রতিক পোস্টের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমির যদি নারীবিদ্বেষী এমন মন্তব্য করে থাকেন, তবে তিনি অন্যায় করেছেন। বাংলাদেশে নারী-পুরুষ সমান তালে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশকে এবং পৃথিবীকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘নারীরা এ দেশে সংখ্যার হিসেবে পুরুষের চেয়ে বেশি। তারা সম্পূর্ণ সমান অধিকার পাবে, সম্মান পাবে- যা জামায়াতে ইসলামী চায় না।’ বিএনপি মহাসচিবের অভিযোগ, ‘জামাত হিন্দু সম্প্রদায়কে হুমকি দিচ্ছে।’ তবে তিনি সবাইকে নির্ভয় ও সাহসের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নিতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তিনি বলেন, 'আমি আপনাদের এটা বলতে পারি-ভয়ের কোনও কারণ নেই। নির্ভয়ে ভোট দিতে যান, নির্ভয়ে বেরিয়ে আসুন, নির্ভয়ে বাঁচুন।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমি মির্জা আলমগীর আপনাদের সঙ্গে আছি। আমি সব সময় আপনাদের জন্য কথা বলেছি, আপনাদের জন্য সংগ্রাম করেছি, আপনাদের সঙ্গে লড়াই করেছি। হাজার হাজার বছর ধরে আমরা হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গে বসবাস করছি। এখানে কোনও বিভাজন আমরা চাই না।’
বিএনপি নেতার দাবি, বাংলাদেশে ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতির কোনও জায়গা নেই। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজ আমাদের আনন্দের বিষয় হল- হিন্দু ও মুসলমান একইভাবে ভাবছে। আমরা এই দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি যারা করে, তাদের কোনও জায়গা দিতে চাই না। বিষয়টি খুবই পরিষ্কার।’ তিনি বলেন, ‘একটি দল আছে, যারা আমার মুসলিম ভাইদের বিভ্রান্ত করছে। বলছে, অমুককে ভোট দিলে বেহেশতে যাবে। আমার ইসলামি বিশ্বাসে এ রকম কোনও কথা নেই। যারা সৎকর্ম করে এবং আল্লাহর পথে চলে, তারাই জান্নাত লাভ করবে-এর বাইরে কিছু নেই।' এরপরেই সরাসরি জামাত শিবিরকে আক্রমণ করে বিএনপি নেতা বলেন, একাত্তরে হিন্দুদের নির্যাতনকারীরাই নবরূপে ফিরে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে।
প্রসঙ্গত, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটে যত এগিয়ে আসছে তত নির্বাচনী কৌশল স্পষ্ট করছে বিএনপি। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বহু বিষয়ে জামাত শিবিরের সঙ্গে একমত ছিল তারেক রহমানের দল। যদিও নির্বচনে এগিয়ে আসতেই মুক্তিযুদ্ধ, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে সরব তারা। যদিও প্রশ্ন উঠছে, হিন্দু নির্যাতনের বাংলাদেশে এই আশ্বাসবাণী নির্বাচনী কৌশল মাত্র নয় তো? ভোট ফুরোলেই কট্টরপন্থীদের সঙ্গে জোট বাঁধবে তারেকের দল?
E-Paper











