নমাজ পড়তে পড়ুয়াদের মগজ ধোলাই! মথুরার স্কুলে হইচই, সাসপেন্ডেড প্রধান শিক্ষক বললেন...
প্রধান শিক্ষক জান মহম্মদ (৫২) ২০০৭ সাল থেকে নওঝিলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।
উত্তরপ্রদেশের মথুরা জেলা থেকে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। নওঝিলের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের নমাজ পড়তে বাধ্য করার অভিযোগ তুলেছেন এক বিজেপি নেতা। এরপরেই বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে ওই প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত করেছেন। তবে ওই শিক্ষক তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সূত্রের খবর, প্রধান শিক্ষক জান মহম্মদ (৫২) ২০০৭ সাল থেকে নওঝিলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত। মথুরার প্রাক্তন গ্রাম প্রধান এবং বিজেপির বাজনা মণ্ডলের সভাপতি দুর্গেশ বলেছেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জান মহম্মদের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ৩০ জানুয়ারি মথুরার মৌলিক শিক্ষা অধিকারী (বিএসএ)-তে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ স্কুলের প্রধান শিক্ষক পড়ুয়াদের নমাজ পড়তে উৎসাহ দিচ্ছিলেন। তিনি প্রতিদিন সকালে স্কুলে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার ওপরও বাধা দেন এবং দেবতাদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেছেন। দুর্গেশ আরও অভিযোগ করেন যে প্রধান শিক্ষক ধর্মীয় ভিত্তিতে শিশুদের প্রভাবিত করতেন। তার দাবি, ধর্মপ্রচারকরা প্রায়শই স্কুলে আসতেন এবং ছাত্র ও তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।
তাঁর কথায়, 'প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আমার কোনও ব্যক্তিগত বিরোধ নেই, আর আমি কখনও তার সঙ্গে দেখাও করিনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতেই আমি বিএসএ-তে অভিযোগ দায়ের করেছি। আমি কেবল শিশুদের এবং স্কুলের স্বার্থে বিষয়টি উত্থাপন করেছি।' এরপরেই প্রধান শিক্ষক তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'আমি এখানে বহু বছর ধরে কাজ করছি। কেউ কখনও আমার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ করেনি।' তিনি বলেন, কোনও তথ্য যাচাই বা তদন্ত না করেই ৩১ জানুয়ারি বরখাস্তের খবর তিনি পান। এদিকে, মথুরার মৌলিক শিক্ষা অধিকারী (বিএসএ) রতন কীর্তি বলেন, 'এই বিষয়টি তদন্তের জন্য দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।' তিনি আরও বলেন, বিজেপি নেতা দুর্গেশ কুমারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ৩১ জানুয়ারি মহম্মদকে বরখাস্ত করা হয়। উল্লেখ্য, প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নওঝিল শহরে অবস্থিত, মিশ্র জনসংখ্যা অধ্যুষিত এলাকা এবং স্থানীয় পুলিশ স্টেশন ও একটি ইন্টারমিডিয়েট কলেজের কাছে অবস্থিত। বিদ্যালয়টিতে মোট আটজন সদস্য এবং ২৩৫ জন পড়ুয়া রয়েছে।
E-Paper











