US Embassy in Bangladesh: বাংলাদেশে জামাতপন্থী 'ডিপ স্টেটের' পর্দা ফাঁস? কী বলছে মার্কিন দূতাবাস?

গত ১ ডিসেম্বর ঢাকায় এক জামাতপন্থী মহিলা সাংবাদিকের সঙ্গে কথা হয়েছিল মার্কিন কূটনীতিকের। সেই কথোপকথনের সময় নাকি মার্কিন দূত 'আশা' ব্যক্ত করেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যেকোনও সময়ের সবচেয়ে ভালো করবে জামাত।

Published on: Jan 24, 2026 8:39 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

কট্টর ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে সরব থাকলেও বাংলাদেশে জামাতিদের সঙ্গে হাত মেলাতে চাইছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্টের একটি রিপোর্টে এমনটাই ইঙ্গিত মিলেছে। আর সেই রিপোর্ট এবং ফাঁস হওয়া অডিয়ো ক্লিপ থেকে সামনে এসেছে মার্কিন 'ডিপ স্টেটের' কর্মকাণ্ডের একটা নমুনা। উল্লেখিত অডিয়ো ক্লিপটি মার্কিন দূতাবাসেই রেকর্ড করা হয়েছিল। বাংলাদেশের জামাতপন্থী সাংবাদিকের সঙ্গে কথোপকথন করতে শোনা যায় এক মার্কিন দূতকে। আর সেই অডিয়ো নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতেই মুখ খুলল মার্কিন দূতাবাস।

ভাইরাল অডিয়োতে বাংলাদেশের জামাতপন্থী সাংবাদিকের সঙ্গে কথোপকথন করতে শোনা যায় এক মার্কিন দূতকে। (AFP)
ভাইরাল অডিয়োতে বাংলাদেশের জামাতপন্থী সাংবাদিকের সঙ্গে কথোপকথন করতে শোনা যায় এক মার্কিন দূতকে। (AFP)

গত ১ ডিসেম্বর ঢাকায় এক জামাতপন্থী মহিলা সাংবাদিকের সঙ্গে কথা হয়েছিল মার্কিন কূটনীতিকের। সেই কথোপকথনের সময় নাকি মার্কিন দূত 'আশা' ব্যক্ত করেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যেকোনও সময়ের সবচেয়ে ভালো করবে জামাত। এমনকী তাঁকে আরও বলতে শোনা যায়, 'আমরা (আমেরিকা) চাই তারা (জামাত) আমাদের বন্ধু হোক'। এই বৈঠকটি ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে হয়েছিল। সেখান থেকেই এই কথোপকথনের রেকর্ডিং ভাইরাল হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের পাশাপাশি আলজাজিরাও এই রেকর্ডিং হাতে পেয়েছে।

এই আবহে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের মুখপাত্র মনিকা শাই বলেন, এটি নিয়মিত ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা ছিল। যুক্তরাষ্ট্র কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে না এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত যেকোনও সরকারের সঙ্গেই কাজ করবে। এদিকে মার্কিন নিবাসী জামাত নেতা মহম্মদ রহমান আবার বলেন, 'একটি ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বৈঠকের কথিত মন্তব্য নিয়ে আমরা মন্তব্য করতে চাই না'। তবে যে যাই বলুক, ওয়াশিংটনে যে জামাত লবিবাজি করে ট্রাম্পের মন জয় করেছেন, সেই ইঙ্গিত মিলছে।

ভাইরাল অডিয়োতে শোনা যায়, সেই বাংলাদেশি সাংবাদিককে মার্কিন কূটনীতি বলছেন, জামাতের ছাত্র সংগঠনের নেতাকে মিডিয়ায় নিয়ে আসতে আগ্রহী তারা। এদিকে কথোপকথনে মার্কিন কূটনীতিক আরও জানান, বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হাসিনার বিচার গ্রহণযোগ্য না হলেও এর রায়ে তারা সন্তুষ্ট। এদিকে বিএনপির ওপর জামাত এবং ইউনুস সরকার যে চাপ সৃষ্টি করেছে, তাতেও মার্কিনিরা আপ্লুত বলে জানান সেই মার্কিন দূত।

এদিকে জামাতের সঙ্গে 'বন্ধুত্ব' করতে চাইলেও মার্কিন দূত স্পষ্ট করে দেন, যদি তাদের কথা মতো জামাত না চলে, সেই ক্ষেত্রে পরদিনই ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে বাংলাদেশের সঙ্গে কার্যত বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে আমেরিকা। এদিকে বাংলাদেশকে কোনও ভাবে চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতেও বারণ করেন সেই কূটনীতিক। এদিকে বাংলাদেশে জামাত ক্ষমতায় এলে শরিয়া আইন কার্যকর করা হবে বলে 'বিশ্বাস করেন না' বলে জানান সেই কূটনীতিক।